শান্তিতে নোবেলজয়ী আবি আহমেদের দেশ ইথিওপিয়ার উত্তরের তিগ্রে অঞ্চলে চলমান যুদ্ধে অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ধর্ষণকে ব্যবহার করা হচ্ছে। আবি আহমেদের আগ্রাসী নীতির কারণে প্রতিদিন তিগ্রেতে বহু মানুষ নিহত হচ্ছেন, যাদের পরিসংখ্যান জানার কোনো উপায় নেই। তিগ্রের সংঘাত শুরুর পর থেকেই গোটা অঞ্চলটি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে আছে। আবির সেনাবাহিনীর অত্যাচার থেকে রেহাই পাওয়া কয়েকজন সিএনএনকে সেনা সদস্যদের হাতে নারীদের ধর্ষণ, জোরপূর্বক মাদক দেওয়া ও জিম্মি করে রাখার বাস্তবতা উঠে এসেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের একজনের বয়ানে দেখা যায়, নারীদের যৌনাঙ্গে পাথর, তারকাঁটা ও প্লাস্টিক ঢুকিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। সিএনএন ইথিওপিয়ার নয়জন ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে। ওই ডাক্তাররা ইথিওপিয়ায় আবি আহমেদের আমলে ধর্ষণ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। বিশেষত তিগ্রের স্থানীয় নেতৃত্বকে ধ্বংস করতে আবি আহমেদ যেভাবে সেনা শক্তি ব্যবহার করছেন, এতে পরিস্থিতি প্রতিদিন খারাপ হচ্ছে। ইথিওপিয়ার সেনাবাহিনীর সঙ্গে অত্যাচারে যুক্ত হচ্ছে প্রতিবেশী দেশ ইরিত্রিয়ার সেনাবাহিনী। আবির সঙ্গে ইরিত্রিয়া সরকারের এক চুক্তি মোতাবেক দেশটির সেনাবাহিনী ইথিওপিয়ায় প্রবেশ করে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে।
ইথিওপিয়ার সীমান্তবর্তী সুদানের হামদায়েত শহরের এক শরণার্থী শিবিরে সিএনএনের সাংবাদিকরা কয়েক হাজার শরণার্থীর দেখা যান যারা তিগ্রে থেকে পালিয়ে এসেছেন। তাদের মধ্যে এক নারী তার হামলাকারী সম্পর্কে বলেন, ‘সে আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে বলতে থাকে তিগ্রের লোকজনের কোনো ইতিহাস নেই, তোদের কোনো সংস্কৃতি নেই। তোদের নিয়ে আমি যা ইচ্ছা তাই করতে পারি। কেউ তোদের দিকে তাকাবে না।’ বীভৎস ওই ঘটনার বর্ণনাকারী নারী এখন গর্ভবতী, আর ওই সন্তানের বাবা ইথিওপিয়ার কোনো এক সেনা সদস্য।
হামদায়েতে শরণার্থী শিবিরে থাকা ডাক্তার তেদ্রোস তেফেরার মতে, আমহারা বাহিনী তিগ্রেতে জাতিগত নিধনের উদ্দেশ্য নিয়েই ধর্ষণকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তিনি আরও বলেন, ‘ধর্ষিত হওয়া নারীদের মুখ থেকে আমরা শুনেছি, সেনাবাহিনী ওই নারীদের ধর্ষণরত অবস্থাতেই তাদের পরিচয় পাল্টে ফেলতে বলে। হয় তাদের আমহারা হয়ে বাঁচতে হবে, নতুবা তিগ্রের পরিচয় মুছে ফেলতে হবে। তিগ্রের রক্ত পরিষ্কার করতে তারা এসেছে, এমনটাই বলছিল সেনারা।’ ডাক্তার তেফেরা এই ঘটনাকে গণহত্যা হিসেবে আখ্যা দেন।
সেনাবাহিনীর এমন অত্যাচার নিয়ে ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়ার সরকার কোনো বক্তব্য দেয়নি। এমনকি তিগ্রের সংঘাতে কতজন মারা গেছেন, সেই পরিসংখ্যান আবি প্রশাসন দিচ্ছে না। ইন্টারনেট, বিদ্যুৎ ও রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে দিনের পর দিন হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে সেনাবাহিনী।
তিগ্রে অঞ্চলে এখন কোনো স্থানীয় ও বিদেশি সাংবাদিক প্রবেশ করতে পারছেন না। তারপরও চ্যানেল ফোরের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তিগ্রের এক নারীকে বলতে শোনা যায়, তার সামনে পাঁচজন নারীকে কমপক্ষে ত্রিশজন ইরিত্রিয়ান সেনা ধর্ষণ করেছে। ধর্ষণের পর ওই নারীর ছবি তুলে তাদের মজা করতেও দেখা যায়। ওই নারী তার বাড়ি থেকে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে জোর করে শরীরে মাদক ইনজেকশন দেওয়া হয়। টানা দশ দিন তাকে পাথরের সঙ্গে বেঁধে রেখে ধর্ষণ করে ইরিত্রিয়ার সেনারা।
চলতি মাসে আয়দার রেফারেল হাসপাতালেই শুধু দুই শতাধিক নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে ওই হাসপাতালের এক ডাক্তার দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, মেকেলে শহরের হাসপাতাল সূত্রে আমরা ধর্ষিতাদের সংখ্যা রাখতে পারলেও আশপাশের অঞ্চলে যে কী হচ্ছে তা আমরা বলতে পারছি না।