ববি শিক্ষার্থীদের আবিষ্কার, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর জন্য ‘কথা বলা চশমা’

দুর্বল দৃষ্টি যাদের, তাদের জন্য অপরিহার্য চশমা। কেউ আবার কম্পিউটার, মোবাইল, ট্যাব দেখার সময়ও চশমা ব্যবহার করে থাকেন। রোদের ক্ষতি থেকে বাঁচতে ব্যবহার করা হয় রোদচশমা। তবে এবার এমন এক চশমা আবিষ্কার করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন শিক্ষার্থী, যাকে বিশ্বের নতুন আবিষ্কার বলা হচ্ছে। ওই তিন শিক্ষার্থী কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের স্নাতকোত্তর পড়ছেন। 

আবিষ্কারকদের নেতৃত্বে ছিলেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৩-১৪ সেশনের শিক্ষার্থী সোহেল মাহমুদ, রিপন চন্দ্র দাস, ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থী বিপুল মণ্ডল। তাদের সুপারভাইজার ছিলেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাহাত হোসাইন ফয়সাল এবং কো-সুপারভাইজার সহকারী অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান রাজু।
তাদের আবিষ্কৃত চশমার নাম ‘টকিংগ্লাস’। এ সম্পর্কে জানা গেলো সোহেল মাহমুদের কাছ থেকে। 

তিনি বলেন, আমার ইচ্ছা এ ডিভাইসে আরো সুন্দর কিছু ফিচার যুক্ত করে খুব শিগগিরই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। ডিভাইসটি একজন ব্লাইন্ড হেল্পার হিসেবে কাজ করবে। একজন অন্ধ ব্যক্তি সাবলম্বী হবেন। অন্ধদের অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমে যাবে। 

এই চশমা জাতীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এখনো আবিষ্কার হয়নি বলে দাবি করেছেন তারা। বাংলাদেশ সরকারে আইসিটি বিভাগের এটুআই (A2I) এর ডিজেবিলিটি চ্যালেঞ্জ ফান্ডে ২০১৮ সালে এই  প্রকল্পটি গৃহীত হয়। দুবছর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এ প্রযুক্তির কার্যকারী ব্যবহারে সফল হয় গবেষক দল।

যেসব কাজে আসবে এই চশমা: শুধু যে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরাই ব্যবহার করবে এই চশমা তা কিন্তু নয়। স্বভাবিক মানুষও ব্যবহার করতে পারবে। গান শোনাবে এই চশমা, আরেকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিবে। এর ইন্টারনাল কার্যক্রম হলো এই ডিভাইস থেকে একটি ছবি নিয়ে ছবিটি অডিও হিসেবে ব্যবহারকারীকে শোনানো হবে দেবে। মানুষের চেহারা চিহ্নিতকরণ এবং পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণসহ বিভিন্ন দিক নির্ণয়, কোনো বস্তু দেখলে তার নামসহ চিহ্নিতকরণ, বাংলা-ইংরেজি বই পড়া থেকে শুরু করে কোনটা কত টাকার নোট তাও নির্ণয় করতে পারবে এ চশমা। 

আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স ও ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে এতে। সংযুক্ত থাকবে ক্যামেরা। ডিভাইসটি একটি স্থিরচিত্র নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে চিত্রের লেখা ব্যবহারকারীকে পড়ে শোনাবে। একজন স্বাভাবিক মানুষের মতোই একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বই পড়তে এবং শুনতেও পারবেন। ভয়েস কমেন্টের মাধ্যমে ছবি সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য সেভ করে রাখা যাবে। 

যা আছে চশমায়: মোট ৬টি ফিচার আছে চশমায়। ফিচারগুলো হলো লেখাপড়ার জন্য অপটিক্যাল ক্যারেক্টার রিকগনিশন, ফেস রিকগনিশন (মানুষ চেনা), অবজেক্ট ডিটেকশন (বস্তু খুঁজে পাওয়া), অবজেক্ট রিকগনিশন (বস্তু চেনা), কারেন্সি রিকগনিশন (টাকা চেনা), ডিরেকশন ডিটেকশন (দিক নির্ধারণ), লোকেশন আইডেনটিফিকেশন (অবস্থান নির্ধারণ)।

অধ্যাপক রাহাত হোসাইন ফয়সাল জানান, ব্লাইন্ড পিপলদের জন্য এই চশমাটি তৈরি করতে আমাদের দুই বছর ধরে কাজ করতে হয়েছে। সাধারণ মানুষ জীবনকে যেভাবে উপভোগ করে এই চশমা ব্যবহার করলে একজন অন্ধ মানুষও একইভাবে জীবনকে উপভোগ করতে পারবে। নর্মাল হিউম্যানের মতোই তারা ফিল করতে পারবে। এটা মানুষকে আইডেন্টিফাই করবে। আমরা এখানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করেছি।