পাকিস্তানের প্রথম তৃতীয় লিঙ্গের মাদ্রাসা

পাকিস্তানের একটি মাদ্রাসায় শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষরা। সেখানে অনেকেই এখন ধর্মীয় শিক্ষা নিচ্ছেন। তৃতীয় লিঙ্গের অনেকেই এটাকে তাদের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন।

তৃতীয় লিঙ্গের একজন রানি খান। মাথায় লম্বা ঘোমটা টেনে তিনি প্রতিদিন মাদ্রাসায় আসেন। সেখানে অন্যদের কোরআন শেখান তিনি। নিজের জমানো অর্থ ব্যয় করে এই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন রানি খান। দেশটিতে এমন একটিই মাদ্রাসা আছে যেখানে তৃতীয় লিঙ্গের এসব সুবিধাবঞ্চিত মানুষ ধর্মীয় শিক্ষা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন।

পাকিস্তানের মতো একটি দেশে এলজিবিটিকিউ কমিউনিটির কাছে এই মাদ্রাসা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সেখানে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের অনেকটা একঘরে করে রাখা হয়। যদিও মাদ্রাসা অথবা মসজিদে নামাজ আদায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব মানুষের ওপর কোনো বিধিনিষেধ নেই তবুও তারা প্রায় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন।

রানি খান বলেন, বেশিরভাগ পরিবারেই তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের মেনে নেওয়া হয় না। নিজেদের বাড়িঘরেও জায়গা হয় না তাদের। ফলে এই অসহায় মানুষগুলো নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হন।

১৭ বছর বয়সে তৃতীয় লিঙ্গের একটি গ্রুপে যুক্ত হন রানি খান। তাদের কাজ ছিল বিয়ে এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাচ-গান করা। কিন্তু ওই গ্রুপেরই অপর এক তৃতীয় লিঙ্গের সদস্য যিনি অনেক আগেই মারা গেছেন তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখার পর এসব থেকে সরে আসেন রানি খান। মৃত ওই নারী রানি খানকে তার নিজের সম্প্রদায়ের জন্য কিছু করার অনুরোধ জানান। গত অক্টোবরে প্রথম দুই কক্ষবিশিষ্ট এই মাদ্রাসা চালু হয়। তার আগ পর্যন্ত রানি খান বাড়িতে বসেই কোরআন পাঠ শুরু করেন এবং মাদ্রাসায় যাওয়া-আসা করে ধর্মীয় শিক্ষা অর্জন করেন। এই মাদ্রাসায় তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের ধর্মীয় শিক্ষার বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, আমি আল্লাহকে সন্তুষ্ট করতে লোকজনকে কোরআন শিক্ষা দিচ্ছি। ইহকাল এবং পরকালের জন্যই আমার এই কাজ।

তিনি জানিয়েছেন, তার এই মাদ্রাসা সরকারি অনুদান পাচ্ছে না। তবে এখানকার শিক্ষার্থীদের চাকরি খুঁজে পেতে সহায়তা করবেন বলে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা তাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মাদ্রাসার জন্য নিজের সামান্য অনুদান সংগ্রহের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কাপড় সেলাই ও অ্যামব্রয়ডারি শেখাচ্ছেন তিনি। যাতে করে এসব বিক্রি করে মাদ্রাসার জন্য তহবিল গঠন করা যায়।