পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে সহিংসতায় মিরুখালী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ এবং ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় নৌকা প্রতীকের দুই সমর্থক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহত হয়েছেন দুজন।
সংঘর্ষের সময় বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের ১১টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। গত শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মিরুখালী নাগ্রাভাঙা স্কুলসংলগ্ন সড়কে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত নৌকা প্রতীকের সমর্থক গুলিবিদ্ধ আলমগীর পঞ্চায়েত ও জাকির হোসেনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর রাতেই থানার ওসি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, শনিবার বিকেলে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে কর্মিসভা চলাকালে মিরুখালী বাজারে বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এর জের ধরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে নাগ্রাভাঙা স্কুল সড়কে দুই পক্ষের সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় নৌকা প্রতীকের ওই দুই সমর্থক গুলিবিদ্ধ হন। পরে নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা বিদ্রোহী প্রার্থীর ১১টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সোবাহান শরীফ বলেন, কর্মিসভা চলাকালে বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরা এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে আমাদের দুজন সমর্থক গুলিবিদ্ধ হন। পরে তারা নিজেরা নিজেদের মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে আমাদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে।
এ ব্যাপারে বিদ্রোহী প্রার্থী (আনারস প্রতীক) উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. আবু হানিফ সাংবাদিকদের বলেন, তার কর্মীদের ১১টি মোটরসাইকেলে নৌকার প্রার্থীর সমর্থকরা অগ্নিসংযোগ করেছে। কোনো গুলির ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি দাবি করেন।
মঠবাড়িয়া থানার ওসি মো. মাসুদুজ্জামান মিলু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।