পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার তালগাছি-বিন্নাদাইর ১৬ কিলোমিটার অংশ সংস্কারের এক মাস না যেতেই পিচ-পাথর উঠে অংসখ্য গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এসব খানাখন্দে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রতিদিনই ঘটছে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা। আর এতে আশঙ্কাজনকহারে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। গত ১০ বছরে এখানে দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। কয়েকশ মানুষ আহত হয়েছে। এর মধ্যে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন অন্তত ৫০ জন।
এ বিষয়ে মশিপুর গ্রামের লোকমান হোসেন, মোহাম্মদ আলী, আবদুস সামাদ, পাড়কোলা গ্রামের জাকারিয়া হোসেন, সুলতান মাহমুদ, নাসিম উদ্দিন, দবির উদ্দিন, আব্দুল জব্বার, দ্বারিয়াপুর গ্রামের দেরাজ আলী, দাউদ খান, রবিন হোসেন বলেন, মাত্র এক মাস আগে এই সড়কের সংস্কারকাজ শেষ হয়েছে। সংস্কারের সপ্তাহ না যেতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানের পিচ-পাথর উঠে যেতে থাকে। সৃষ্টি হতে থাকে বড় বড় গর্তের। কোথাও পিচ-পাথর জড়ো হয়ে তৈরি হয়েছে ঢিবির। এতে প্রতিদিনই সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যাচ্ছে বা আহত হচ্ছে।
তারা আরও বলেন, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে সংস্কারকাজ করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। মশিপুর এলাকায় গত বছর শাহজাদপুরের একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়ে পরিবারটি নিস্ব হয়ে গেছে। এর দুই মাস আগে তিনজন, এক মাস পরে একজন, দুই মাস পরে দুজন নিহত হয়েছেন। মাসখানেক আগে পাড়কোলায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন নিহত ও এক বছর আগে তিনজন, সাত মাস আগে আরও দুজন নিহত হয়েছেন। সপ্তাহখানেক আগে বিসিক মোড়ে একজন, হাইলাগাটি ব্রিজ এলাকায় তিনজন নিহত হয়েছেন। তালগাছিতে এক সপ্তাহে দুজন নিহত হয়েছেন। এক মাসে নুকালিতে দুজন, গঙ্গাপ্রসাদ এলাকায় দুজন ও বিন্নাদাইর এলাকায় মারা গেছেন দুজন।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর পৌরসভার মেয়র মনির আক্তার খান তরু লোদী ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আল-মাহমুদ বলেন, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে সংস্কারকাজ করায় সড়কটির এ অবস্থা। এ ছাড়া নিষিদ্ধ থ্রি-হুইলার, সিএনজিচালিত টেম্পো, ব্যাটারিচালিত অটো ভ্যান-রিকশা, ভটভটি, নছিমন, করিমন চলার কারণে এসব গর্তে পড়ে দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যাচ্ছে। হাইওয়ে পুলিশ এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় মৃত্যুর মিছিল দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে।
উল্লাপাড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী আবদুল খালেক বলেন, উল্লাপাড়া থেকে যুগ্নদহ ব্রিজ পর্যন্ত কাজ করেছে মেসার্স রফিকুল আলম কনস্ট্রাকশনের বকতিয়ার হোসেন ও যুগ্নদহ ব্রিজ থেকে বিন্নাদাইর পর্যন্ত কাজ করেছে তূর্ণা এন্টারপ্রাইজের আজাদুর রহমান। সঠিক সামগ্রী দিয়েই সংস্কার করা হয়েছে। এসব স্থানে দ্রুত কাজ করে গর্ত বন্ধ করতে দুই ঠিকাদারকেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার টিআই রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিনই অবৈধ যান আটক ও মামলা করা হয়। এরপরও এদের রোধ করা যাচ্ছে না। তারা পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে গোপনে চলাফেরা করে। বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে এবং অবৈধ এসব যান চলাচল বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।