করোনার ভয়ে ২০২০ সালে সকল প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও হয়নি বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমস। কভিড-১৯ ভাইরাস চোখ রাঙাচ্ছে এখনো। তবে আর এই ভাইরাসের ভয়ে ভীত নন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কর্তারা। করোনাকে মোকাবিলা করে তারা বাংলাদেশ গেমস আয়োজনের সব প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছেন। ১ এপ্রিল জ্বলবে বাংলাদেশ গেমসের মশাল।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশে করোনা সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বমুখী। ক্রীড়াঙ্গনে তাই জোর কানাঘুষা, ‘এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ গেমস হবে তো?’ কাল গেমস উপলক্ষে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এই ইস্যুতে চাপান-উতোর হলো সবচেয়ে বেশি। সেগুলো বেশ ভালোভাবেই সামলেছেন বিওএ মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা। করোনাকালে নানা অনুষ্ঠানে এই কর্মকর্তার সরব উপস্থিতিতেই বোঝা যায়, এই ভাইরাসের ভয়ে কাতর নন তিনি। এই সাহসটাই যেন অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চাইলেন শাহেদ রেজা, ‘গেমস শুরুর আগে কভিডের বিষয়টি আমরা মাথায় রেখেছি। কীভাবে এটাকে প্রতিরোধ করব এ নিয়ে আমাদের সব ধরনের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি আছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে, সকল সতর্কতা নিয়েই আমরা খেলাগুলো আয়োজন করব। করোনার মধ্যেই আমাদের খেলাধুলায় ফিরতে হবে। সরকারের করোনা প্রতিরোধের দায়িত্বে নিয়োজিত অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গেমসের মেডিকেল কমিটি করা হয়েছে। এছাড়া বিভাগ ও জেলা শহরগুলোতে সিভিল সার্জনদেরও কমিটিতে রাখা হয়েছে। তাদের নির্দেশনায় কভিড প্রটোকল মেনে খেলা হবে।’
গেমসের বেশিরভাগ খেলা যেখানে আয়োজিত হবে সেই বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সকে যানজট ও দোকানমুক্ত রাখতে পারছে না বিওএ। স্টেডিয়ামের ভেতরের সড়কে সবসময় যানজট লেগে থাকে। অথচ ৩১টি ডিসিপ্লিনের ১৪টিই হবে এই কমপ্লেক্সের বিভিন্ন ভেন্যুতে। উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠান চলাকালে যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করা হচ্ছে এনএসসির পক্ষ থেকে। এই দু’দিন স্টেডিয়াম এলাকার দোকানপাটও বন্ধ থাকবে। কিন্তু বাকি দিনগুলো ঠিকই খোলা থাকবে দোকান। এ প্রসঙ্গে বিওএ মহাসচিব জানালেন, ‘চেষ্টা করব স্বাস্থ্য সুরক্ষা সব ধরনের ব্যবস্থা করতে। দর্শকদেরও তাপমাত্রা মেপে গ্যালারিতে প্রবেশের ব্যবস্থা করা হবে। গ্যালারিতে দূরত্ব মেনে বসার ব্যবস্থা থাকবে।’
৩১টি খেলার ফেডারেশনগুলোতে বিওএ’র পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে ক্রীড়াবিদদের কভিড পরীক্ষার নেগেটিভ ফল নিয়ে খেলায় অংশ নিতে আসতে হবে। তবে বিওএ এখনো জানে না সেই নির্দেশনা কতটা মানা হচ্ছে। কারণ এখনো ফেডারেশনগুলো তাদের খেলোয়াড়ের তালিকা দেয়নি বিওএ’তে। ফেডারেশনগুলো ঠিকঠাকভাবে খেলা আয়োজন করবে কি না সেটা দেখার জন্য মনিটরিং কমিটি করার কথা জানিয়েছেন শাহেদ।
গেমসে লড়বে ৫৩০০ ক্রীড়াবিদ। ঢাকাসহ ৭ জেলার ২৯টি ভেন্যুতে আরও তিন হাজার কর্মকর্তা থাকবে। এত মানুষের পাশাপাশি দর্শকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা বিওএ’র জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। গেমসের স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ারম্যান শেখ বশির আহমেদ মামুন বলেছেন, ‘প্রতিটি ভেন্যুতে মেডিকেল কমিটির লোক থাকবে। তারা যাতে যেকোনো প্রয়োজনে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারে সেই ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। ভেন্যুতেই পিসিআর টেস্টের ব্যবস্থা রাখা হবে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং কুর্মিটোলা হাসপাতালের সঙ্গেও আমরা কথা বলে রেখেছি স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য।’