হরতালের পর সারা দেশে আজ দোয়া ও আগামী শুক্রবার বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে হেফাজতে ইসলাম। গতকাল রবিবার বিকেলে রাজধানীতে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন হেফাজতের মহাসচিব নুরুল ইসলাম। তিনি আরও বলেন,হেফাজতের শীর্ষ নেতারা হাটহাজারী মাদ্রাসায় বৈঠক করে পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করবেন।
এদিকে গতকাল বেলা ৩টায় চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে হেফাজত। হাটহাজারী-নাজিরহাট মহাসড়কের মাদ্রাসাসংলগ্ন স্থানে হেফাজতের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী হুইল চেয়ারে বসে দেওয়া বক্তব্যে হেফাজতের ডাকা হরতাল শান্তিপূর্ণভাবে ‘পালন’ করায় দেশবাসীকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান। এ সময় হেফাজতের দাবিগুলো অবিলম্বে মেনে নিতেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের প্রতিবাদকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে গতকাল সারা দেশে হরতাল ডেকেছিল হেফাজত। এতে সমর্থন দেয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ কয়েকটি ধর্মভিত্তিক সংগঠন।
সংবাদ সম্মেলনে বাবুনগরী মধুপুরের পীর আবদুল হালিমকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গুলি করেছেন উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা জানান। এছাড়া সারা দেশে পুলিশের গুলিতে নিহতের ‘শহীদ’ উল্লেখ করে ‘১৬ জনের’ বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকার্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি। নিহতদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়ে বাবুনগরী হাটহাজারী থানার ওসি রফিকুল ইসলামের অপসারণও দাবি করেন।
সারা দেশের মাদ্রাসায় ‘হামলা ও জুলুম’ হচ্ছে দাবি করে তা বন্ধের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান হেফাজত আমির। সংগঠনের গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের মুক্তি না দিলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। এ সময় সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
(প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি)