‘বঙ্গবন্ধু’ বায়োপিক নিয়ে মোহাবিষ্ট তিশা

জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা প্রায় তিন মাস ধরে মুম্বাইয়ে বঙ্গবন্ধু বায়োপিকের কাজ করেছেন। তার অংশের কাজ শেষ করে এখন তিনি দেশে। এবার নতুন করে কাজের ছক সাজাবেন। হাতে আছে একাধিক সিনেমা, ওয়েব সিরিজের কাজ। পাশাপাশি টিভি নাটকেও তার সরব উপস্থিতি। বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক নিয়ে তিশা বলেন, ‘এর আগে কোনো সিনেমায় এত লম্বা সময় ধরে কাজ করিনি। তাই এ কাজটির আমেজ থেকে বের হওয়াটাও সময়ের ব্যাপার। আমরা এক ধরনের জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম। স্বাভাবিক জীবনে ফিরে তাই হয়তো প্রথম প্রথম অন্যরকম লাগবে। তিন মাস টানা কাজ করেছি। তার আগে কয়েক মাসের পড়াশোনা আর প্রস্তুতি তো ছিলই। ছোটবেলা থেকে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার নিয়ে জানাশোনা-আগ্রহ ছিল। যত বেশি বুঝতে পেরেছি, জানতে পেরেছি ততই বিস্মিত হয়েছি। বঙ্গবন্ধু আর ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের প্রতি ততই মোহাবিষ্ট হয়েছি। একজন মানুষ কীভাবে একটা ভূখণ্ডের মানুষের ইতিহাস বদলে দিতে পারেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ! সেই মানুষটির জীবনে পর্দার অন্তরালে থেকে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন তার স্ত্রী রেণু। সেই চরিত্রে কাজ করাটা যেকোনো শিল্পীর জন্যই গৌরবের। তাই সময় বা পরিশ্রম যত গিয়েছে, ততই কাজটির প্রতি মায়া-মমতা বেড়েছে। চেষ্টা করেছি দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে। বাকিটা দর্শক বলবেন সিনেমাটি দেখার পর।’

মুম্বাইয়ে টানা এত দিন অভিনয়ের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিশা বলেন, ‘ছবিতে আমাকে রেণুর ২০ বছর বয়স থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দেখা যাবে। অভিজ্ঞতা অন্যরকম। একেক দেশের একেক রকম নিয়ম। কিন্তু সবার লক্ষ্য একটাই, আমরা একটা সিনেমার শ্যুটিং করছি, উইথ আওয়ার ইমোশন। পেশাদারি বজায় রেখে আমরা কাজটা করেছি এবং সবাই একটা ভালো কাজ উপহার দিতে চেয়েছি। আমরা যখন বাইরে বড় পরিসরে, বিশাল বাজেটে, বড় পরিধিতে শ্যুটিং করি, সেটার অভিজ্ঞতা অন্যরকম। দেখা গেল, একই দৃশ্যে বাংলাদেশে শ্যুটিং করলে একরকম, ভারতে করলে আরেক রকম এবং আমেরিকায় করলে আরেক রকম। তাই বলব, নতুন কিছু শিখছি।’

রেণু হয়ে ওঠার জন্য কী ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রেণু অন্তরালের হিরো। তিনি পেছনে থেকে বঙ্গবন্ধুকে সাপোর্ট করে গেছেন। মানুষটা খুব একটা পাদপ্রদীপের আলোয় আসেননি। তাই এ ধরনের মানুষের চরিত্র ফুটিয়ে তোলাটা কঠিন। প্রস্তুতির কথা যদি বলতেই হয়, প্রথমবার মুম্বাইয়ে শ্যুটিংয়ে যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আমাদের একটা লম্বা সেশন ছিল। সেখানেই তার মায়ের চরিত্র সম্পর্কে ৯০ ভাগ ধারণা পাই। তার মুখ থেকে শুনেই আমার চরিত্রটি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। তিনি এত বিস্তারিত বলেছেন, ওটাই আমাকে চরিত্রটির উপস্থাপনে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছে। বই পড়ে অনেক ইতিহাস হয়তো জেনেছি, কিন্তু ভেতরের মানুষটাকে জানার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছেন।’

ইদানীং তিশাকে ছোটপর্দায় খুব একটা দেখা যায় না। নাটক থেকে একেবারেই কী দূরে সরে গেছেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের গুরুত্ব বদলায়। একটা সময় টেলিভিশন নাটক ছাড়া আর কিছু ভাবনাতেই ছিল না। এরপর সিনেমা আর নাটক-ব্যালেন্স করে কাজ করতে লাগলাম। কিন্তু এখন ব্যাটে-বলে মিলছে না। তাই অনেক দিন হলো নাটকের জন্য ক্যামেরার সামনে দাঁড়াইনি। এর অন্যতম কারণ বঙ্গবন্ধু সিনেমা। এই সিনেমার জন্য তিন মাস টানা ভারতেই থাকতে হলো। এর আগেও কাজটির জন্য সময় দিতে হয়েছে। চরিত্র নির্মাণ, আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রতিটি শিল্পীকেই আলাদা শিডিউল দিতে হয়েছে। তাই ভালোবাসা দিবসেও সেভাবে কোনো কাজ করতে পারিনি। তবে টিভি নাটক থেকে দূরে সরে গেছি এটা ভাবা ভুল। যখনই সময়-সুযোগ পাব, তখনই ভালো গল্পে কাজ করব।’

কিছুদিন পরই পহেলা বৈশাখ। তার কদিন পরই ঈদ। পরপর দুটি বড় উৎসবের নাটক নিয়ে ছোটপর্দার শিল্পীরা এখন খুব ব্যস্ত। এ প্রসঙ্গে তিশা বলেন, ‘কাজের সংখ্যা হতো হবে জানি না। তবে দুটি উৎসবের জন্যই কাজ করার ইচ্ছা আছে। এরই মধ্যে বেশ কিছু স্ক্রিপ্ট পেয়েছি। কিন্তু অভিনয় না করে সেগুলো নিয়ে কথা বলার কিছু নেই।’

তিশার অভিনয়, গান ও নাচের প্রতিভা সম্পর্কে দর্শকের বেশ ভালো অভিজ্ঞতা আছে। কিন্তু উপস্থাপক তিশাকে একেবারেই নতুন করে আবিষ্কার করেছেন দর্শক। উপস্থাপনায় নিয়মিত হবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দ্য বক্স’ অনুষ্ঠানটি দিয়ে প্রথমবার কোনো রেকর্ডিং শো উপস্থাপনা করলাম। প্রথম সিজন শেষ। দ্বিতীয় কিস্তি শুরু করার পরিকল্পনা চলছে ঈদুল ফিতরে। অনুষ্ঠান নিয়ে আমার পুরো স্বাধীনতা আছে। তবে কারা অতিথি হবেন, কী প্রশ্ন করা হবে এসব নিয়ে আমি খুব একটা ভাবতে চাই না। প্রযোজকরাই এগুলো করে থাকেন। আমি শুধু সহকর্মীদের সঙ্গে গেম শোটি উপভোগ করি।’