নদীর মাটি কেটে বিক্রি

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের গড়াসিন এলাকায় এলেংজানী নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে তা বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসীর দাবি, স্থানীয় প্রভাবশালী ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ছত্রছায়ায় সংঘবদ্ধ একটি মহল দীর্ঘদিন ধরেই এ কাজ পরিচালনা করে আসছে। তাছাড়া মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তাদের এ কাজে পরোক্ষ সহযোগিতা দিয়ে আসছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। যার কারণে চক্রটির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেও কোনো সুফল পান না ভুক্তভোগীরা। গত রবিবার গড়াসিন এলাকায় সরেজমিন ঘুরে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানায়, অবৈধ মাটি ব্যবসায়ী চক্রের মো. আমির হোসেন খান রিপন, আবদুল্লাহ শুকুর, সুমন খান, মুনসুর ও মো. ডলারের নেতৃত্বে নদী সিকস্তি খাসজমিতে তিন-চারটি ভেকু বসিয়ে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন করে বিক্রি চলছে। প্রতি বছর নদী থেকে এভাবে বালু উত্তোলনের ফলে গত কয়েক বছরে বন্যায় প্লাবিত হয়ে অসংখ্য ঘরবাড়ি, বসতভিটা, নদীতে বিলীন হয়ে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে গ্রামের মসজিদসহ অসংখ্য ফসলি জমি, রাস্তাঘাট, সেতু, কালভার্ট ও ভিটেবাড়ি। ভুক্তভোগীরা এ নিয়ে দিন-রাত আতঙ্কিত থাকলেও প্রভাবশালী মহলের ইন্দনে বালুদস্যুদের তৎপরতা থামছেই না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ‘বর্ষায় ব্যক্তিমালিকানাধীন কারও সম্পত্তি নদীতে বিলীন হলে আমরা সাধারণত জানি আইনানুযায়ী ওই জমি নদী সিকস্তি খাস হিসেবে গণ্য হয়। যদি তাই হয় নদীর সিকস্তি খাসজমি থেকে প্রশাসনের চোখের সামনেই ভেকু বসিয়ে বালু/মাটি কাটা এবং তা বিক্রির উদ্দেশ্যে মাটিভর্তি মাহেন্দ্র-ট্রাক চলাচল ও সরবরাহও আইনত অপরাধ।’

এ ব্যাপারে গড়াসিন এলাকার মাটি ব্যবসায়ী মো. আমির হোসেন খান রিপন বলেন, ‘নদী তীরবর্তী ব্যক্তিমালিকানাধীন উঁচু ভূমি ক্রয় করে মাটি সংগ্রহ করি। তারপর সেই মাটি উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে থাকি। এতে আইনগত কোনো বাধা নেই বলে আমি মনে করি।’

দেলদুয়ার থানার ওসি সরকার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সবসময় মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় অংশ নিচ্ছে পুলিশ। অবৈধ মাটি ব্যবসার সঙ্গে আমাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।’

দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার বলেন, ‘অবৈধ মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে আমি কয়েকবার অভিযান চালিয়ে বন্ধ করেছি। বর্তমানে মাটি বিক্রি চলমান আছে কি না, আমি অবগত নই। চলমান থাকলে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’