আবার জাতীয় দলের নেতৃত্ব দেওয়া হলে সে দায়িত্ব নেবেন সাকিব আল হাসান। বলেছেন, ‘বিসিবি থেকে যদি দেয় আবার, অবশ্যই চেষ্টা করে দেখব।’
আইপিএল খেলতে বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত এই অলরাউন্ডার বিডিনিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব করা আমার কাছে ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের চেয়ে। আমি অনেক নির্ভার থাকি। তবে আদৌ এই বয়সে আবার দায়িত্ব নেবেন কিনা, যদি আলোচনা হয় কখনো, তখন বিবেচনা করব। প্রস্তাব পেলে সমীকরণ নিয়ে তখন ভাবা যাবে। আপাতত আমার চিন্তা আইপিএলে ভালো করা নিয়ে।’
মুম্বাইয়ের একটি হোটেল থেকে ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেছেন, আইপিএল খেলার জন্য উন্মুখ তিনি, ‘সত্যি বলতে আমি সব কিছুর জন্য তৈরি আছি। আমি আত্মবিশ্বাসী। জানি একটা ভালো ম্যাচ খেললেই সব ঠিক হয়ে যাবে। যদি শুরুটা ভালো হয়, তাহলে গোটা মৌসুমেই দলের জন্য ভালো খেলতে পারব।’ শেষবার আইপিএলে তিনি বেশি ম্যাচ খেলতে পারেননি। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে মাত্র তিনটি ম্যাচ খেলেছিলেন। এবারও কলকাতা নাইট রাইডার্সে স্পিনার এবং অলরাউন্ডারের অভাব নেই। সাকিব না সুনীল নারাইনকে খেলানো হবে তা এখনো নিশ্চিত নয়। যদিও সাকিব জানিয়েছেন, প্রতি ম্যাচে সুযোগ না পেলেও তার সমস্যা নেই। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘প্রতিটা দলেই ৮-১০ জন বিদেশি ক্রিকেটার রয়েছে। মাত্র চারজন খেলতে পারে। তাই দল নির্বাচনকে দায়ী করলে চলে না। খোলা মনে খেলতে হবে। কঠোর অনুশীলন করতে হবে এবং সুযোগ পেলেই দুই হাত দিয়ে লুফে নিতে হবে।’ কলকাতা নাইটা রাইডার্সের হয়ে দুইবার শিরোপা জিতেছেন সাকিব। এবার শিরোপা জিতবে এমন আশা সাকিবের, ‘গত দুই বছরে দলটা অনেকটাই বদলে গেছে। এবার সমর্থকরা যেমন আশা করছেন তেমনই খেলতে পারবে বলে মনে হচ্ছে কেকেআর। আমি আশাবাদী ভালো ফলের ব্যাপারে।’
সাত দিনের কোয়ারেন্টাইন আজ শেষ হচ্ছে সাকিবের। দুবার কভিড-১৯ পরীক্ষা করিয়েছেন, আজ আরেকবার করানো হবে। এটাও নেগেটিভ এলে তবেই নিভৃতবাস থেকে বের হতে পারবেন। জানিয়েছেন, ‘ঘরবন্দি থেকে একবার প্রচণ্ডরকম ডিপ্রেসড হয়ে গিয়েছিলাম। তারপর পঞ্চম দিন থেকে একটু রিকভারি করা শুরু হয়েছে।’ এই ডিপ্রেশনটাকে খুব বাজে রকমের ডিপ্রেশন বলে মনে করেন তিনি, ‘আগে কখনো এ রকম হয়নি। একটা পর্যায়ে আমার মনে হয়েছে... লোকে যে আত্মহত্যা করে ডিপ্রেশনে, কেন করে, সেটা বুঝতে পেরেছি আমি। এতটাই বাজে অবস্থা হয়েছিল...।’ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘আগে যে কোয়ারেন্টাইনে থেকেছি, তখন তো ঘর থেকে বের হয়েছি, টিমমেটরা একসঙ্গে ছিলাম, এর-ওর রুমে গিয়েছি, ওরা এসেছে। একটা ফ্লোরে সবাই ছিলাম। মিশতে পেরেছি। এখানে একদম রুম কোয়ারেন্টাইন, কারও সঙ্গে দেখা করা, কথা বলার উপায় নেই। দরজার বাইরে খাবার দিয়ে যায়। আমার এ রকম অভিজ্ঞতা ছিল না আগে।’ জানান, জুম কলে কেকেআর ট্রেইনার এক্সারসাইজ করাচ্ছে প্রতিদিন। ওটা শুরু করার পর থেকে একটু ভালো লাগছে।