করোনার সংক্রমণ ঝুঁকির মধ্যেই আজ রবিবার পাবনার সুজানগর পৌরসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সম্প্রতি দেশের সব ধরনের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। তবে সুজানগর পৌরসভার ভোটগ্রহণ নিয়ে উচ্চ আদালতে পক্ষে-বিপক্ষে রিটের পরিপ্রেক্ষিতে নির্ধারিত তারিখ আর স্থগিত করেনি নির্বাচন কমিশন। এর আগে সীমানা ও ভোটাধিকার সংক্রান্ত জটিলতায় তিনবার স্থগিত ঘোষণার দুই দিন পর চতুর্থবারের মতো ফের ভোটগ্রহণের তারিখ (রবিবার) ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত তারিখ অনুযায়ী এদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপ-সচিব মো. আতিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে গত বৃহস্পতিবার নির্বাচনের নতুন ওই তারিখ ঘোষণা করা হয় বলে জানান সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. রওশন আলী। তিনি জানান, গত বুধবার সুজানগর পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও উচ্চ আদালতের রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ভোট গ্রহণের মাত্র দুই দিন আগে গত সোমবার (২৯ মার্চ) ভোটগ্রহণ স্থগিত ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তবে ওই রিট খারিজ করে দেওয়ায় নির্বাচন স্থগিত ঘোষণার দুই দিন পর ফের নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখ ঘোষণা করা হয়। এ নিয়ে তিন দফা নির্বাচন স্থগিতের পর চতুর্থ দফায় নির্বাচন অনুষ্ঠান হতে যাচ্ছে।
সুজানগর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফাতেমা খাতুন জানান, সুজানগর পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মনোনীত দুইজন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী সাবেক মেয়র কামরুল হুদা কামাল বিশ্বাস গত ১৫ মার্চ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র নির্বাচিত হন।
তিনি জানান, নির্বাচনে ৯টি ওয়ার্ডে কেবল সংরক্ষিত আসনে মহিলা কাউন্সিলর পদে নয়জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩২ জনসহ মোট ৪১ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। নির্বাচনে ১০ হাজার ২৬১ জন পুরুষ এবং ১০ হাজার ২২৩ জন মহিলাসহ মোট ২০ হাজার ৪৪৮ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
পাবনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, আমরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে সামগ্রিক বিষয় সম্পর্কে জানিয়েছি। নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশনা আসায় আমরা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে ভোটারদের মাস্ক ছাড়া কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।