এই দিনে

জগদ্বিখ্যাত বাঙালি সেতারবাদক ও সংগীতজ্ঞ পণ্ডিত রবিশঙ্কর ১৯২০ সালের ৭ এপ্রিল ভারতের উত্তরপ্রদেশের বারানস শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক বাড়ি এবং পূর্বপুরুষের নিবাস বাংলাদেশের নড়াইলের কালিয়া উপজেলায়। বাবা শ্যাম শঙ্কর চৌধুরী ছিলেন প্রথিতযশা আইনজ্ঞ ও রাজনীতিবিদ। ‘রবিশঙ্কর’ নামেই পরিচিত হলেও তার পুরো নাম রবীন্দ্র শঙ্কর চৌধুরী। সেতার বাজিয়ে কিংবদন্তিতুল্য খ্যাতি লাভ করেন এই সংগীতজ্ঞ। রবিশঙ্কর ছিলেন ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের মাইহার ঘরানার স্রষ্টা ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর শিষ্য। ১৯৩৮ সালে তিনি ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর কাছে সেতারের তালিম নিতে শুরু করেন। রবিশঙ্কর প্রথম দর্শকের সামনে আসেন ১৯৩৯ সালে, আহমেদাবাদে। ১৯৫৪ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের বাহক হিসেবে প্রথম আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তার পরিচিতি ঘটে। এরপর ১৯৬৬ সালে বিটলসের জর্জ হ্যারিসনের সঙ্গে একত্রে জ্যাজ, পাশ্চাত্য সংগীত ও লোকসংগীত নিয়ে গবেষণা করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালে পণ্ডিত রবিশঙ্কর ও জর্জ হ্যারিসন নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ারে ঐতিহাসিক ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’-এর আয়োজন করেন। ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার ‘পদ্মভূষণ’, ‘পদ্মবিভূষণ’, ‘ভারতরত্ন’ এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত ‘দেশিকোত্তম’-এ ভূষিত হন রবিশঙ্কর। এ ছাড়া ফরাসি সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার ‘লিজিয়ন অব অনার’, রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ প্রদত্ত সম্মানসূচক ‘নাইটহুড’ এবং ২০০২ সালে দুটি ‘গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড’সহ অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন তিনি। ২০১২ সালের ১১ ডিসেম্বর ৯২ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন পণ্ডিত রবিশঙ্কর।