নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীতে বালুবাহী কার্গোর ধাক্কায় লঞ্চডুবির ঘটনায় আরও ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে এলাকাবাসী নির্মাণাধীন তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর পশ্চিম পাড়ে প্রথমে দুটি মরদেহ দেখতে পায়। এরপর জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) এক সদস্যসহ আরও তিনজনের লাশ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। তারও আগে গত সোমবার রাতে অজ্ঞাত পরিচয় আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার হয়। এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জের ওই লঞ্চডুবির ঘটনায় মোট ৩৫ জনের লাশ উদ্ধার হলো।
এদিকে শীতলক্ষ্যা নদীতে লঞ্চডুবির ঘটনায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার গণশুনানির আয়োজন করছে নৌ-মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি। এদিন বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিআইডব্লিউটিএ’র নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর কার্যালয়ে এই গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
নারায়ণগঞ্জ নৌ-পুলিশের ওসি আবদুল হাকিম জানান, গতকাল সকালে কয়লাঘাট এলাকা থেকে কলেজছাত্র তানভীর আহমেদ হদয় (১৯) এবং অজ্ঞাত পরিচয় আরও একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। হৃদয় মুন্সীগঞ্জের প্রেসিডেন্ট ইয়াজউদ্দিন আহমেদ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। এরপর শীতলক্ষ্যা নদীর মোহনা থেকে এনএসআই সদস্য ইউসুফ কাজী (৪০) এবং সোহাগ আলীসহ (৩২) আরও তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।
লঞ্চডুবিতে নিখোঁজদের স্বজনরা এসে লাশ শনাক্ত করলে মরদেহগুলো জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা বারিকের উপস্থিতিতে লাশগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তিনি জানান, নিহতদের সবার বাড়ি মুন্সীগঞ্জ জেলায়।
এদিকে লঞ্চডুবির ঘটনায় এখনো কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে স্বজনরা দাবি করেছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক (ঢাকা) মো. সালেউদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্ধার অভিযান শেষ করা হলেও ফায়ার সার্ভিস অভিযান চলমান রেখেছে। যতক্ষণ পর্যন্ত নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য পাওয়া না যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলবে।’
৮ এপ্রিল গণশুনানি তদন্ত কমিটির : লঞ্চডুবির ঘটনায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার গণশুনানির আয়োজন করছে নৌ-মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি। এদিন বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিআইডব্লিউটিএ’র নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর কার্যালয়ে এই গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
নৌ-মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব ও তদন্ত কমিটির প্রধান আবদুস সাত্তার শেখ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘লঞ্চডুবির মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটন করতে তদন্ত কমিটি কাজ করছে। বিআইডব্লিউটিএ, জেলা পুলিশ প্রশাসন, নৌ-থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির গণশুনানিতে সাধারণ মানুষকে অংশ নিয়ে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানাচ্ছি।’
গত রবিবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল থেকে যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যাওয়া এমভি সাবিত আল হাসান লঞ্চকে সদর উপজেলার কয়লাঘাট এলাকায় এসটি-৩ নামের একটি বালুবাহী বাল্কহেড ধাক্কা দেয়। এতে যাত্রীবাহী লঞ্চটি উল্টে নদীতে ডুবে যায়। লঞ্চটিতে একশর মতো যাত্রী ছিলেন। পরে সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় ৩৫ ফুট পানির নিচ থেকে ডুবে যাওয়া লঞ্চটি ক্রেনের মাধ্যমে টেনে তীরে তুলে আনে। রবিবার রাত থেকে সোমবার বিকেল পর্যন্ত মোট ২৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।