বাংলাদেশের খ্যাতনামা সাংবাদিক ও শিশু সংগঠক রোকনুজ্জামান খান ওরফে ‘দাদাভাই’ ১৯২৫ সালের ৯ এপ্রিল ফরিদপুর জেলার পাংশা উপজেলায় এক সংস্কৃতিবান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। এয়াকুব আলী চৌধুরী ও রওশন আলী চৌধুরী ছিলেন জ্ঞাতি সম্পর্কে তার নানা। তিনি সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের কন্যা নূরজাহান বেগমকে বিয়ে করেন। নূরজাহান বেগম সাপ্তাহিক বেগম পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। রোকনুজ্জামান কলকাতার ইত্তেহাদ (১৯৪৭), শিশু সওগাত (১৯৪৯) ও দৈনিক মিল্লাত (১৯৫১) পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। তিনি ইত্তেহাদের ‘মিতালী মজলিস’ এবং মিল্লাতের ‘কিশোর দুনিয়া’র শিশুপাতা সম্পাদনা করতেন। ঢাকায় এসে ১৯৫৫ সালে তিনি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় যোগদান করেন এবং ‘দাদাভাই’ ছদ্মনামে শিশুদের পাতা ‘কচি-কাঁচার আসর’ সম্পাদনা শুরু করেন। আমৃত্যু এর সঙ্গে জড়িত রোকনুজ্জামান খান তখন থেকেই ‘দাদাভাই’ নামে দেশব্যাপী পরিচিত হয়ে ওঠেন। তার সম্পাদিত ‘আমার প্রথম লেখা’ (১৯৫৭) গ্রন্থে বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক ও লেখকদের সেসব লেখা স্থান পেয়েছে, যেগুলো কচি-কাঁচার পাতায় প্রথম মুদ্রিত হয়েছে। তার প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘হাট্টিমাটিম’ (১৯৬২), ‘খোকন খোকন ডাক পাড়ি’, ‘আজব হলেও গুজব নয়’ প্রভৃতি। তার সম্পাদিত ‘ঝিকিমিকি’ একটি গুরুত্বপূর্ণ শিশুসংকলন। এসব রচনার মাধ্যমে তিনি কোমলমতি শিশুদের মনে নীতিজ্ঞান, দেশপ্রেম ও চারিত্রিক গুণাবলি জাগ্রত করার চেষ্টা করেন। তিনি ‘কচি ও কাঁচা’ (১৯৬৫) নামে একটি মাসিক পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন। রোকনুজ্জামানের অপর একটি বড় অবদান ‘কচি-কাঁচার মেলা’ (১৯৫৬) নামে একটি শিশুসংগঠন প্রতিষ্ঠা। তার অক্লান্ত প্রচেষ্টায় এর শাখা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। রোকনুজ্জামান খান সৃজনশীল ও সাংগঠনিক কর্মের পুরস্কারস্বরূপ বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮), শিশু একাডেমি পুরস্কার (১৯৯৪), একুশে পদক (১৯৯৮), জসীম উদ্দীন স্বর্ণপদকে ভূষিত হন। ১৯৯৯ সালের ৩ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।