বিরামপুরে কালবৈশাখী ঝড়ে লন্ডভন্ড কলার বাগান, ‘কোটি টাকার’ ক্ষতি

দিনাজপুরের বিরামপুরে কালবৈশাখী ঝড়ে প্রায় শতাধিক কলার বাগান লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। কলাচাষিরা জানিয়েছেন এতে তাদের প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে বিরামপুরের ওপর দিয়ে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়।

সরেজমিনে শুক্রবার দুপুরে কলা চাষের জন্য পরিচিত উপজেলার চকহরিদাসপুর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় শতাধিক কলার বাগান পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। সবগুলো গাছেই রয়েছে কলার কাঁদি। ফলনের আগে হঠাৎ ঝড়ে বাগান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাষিরা।

চকহরিদাসপুর গ্রামের কলাচাষি সাইদুর রহমান জানান, এনজিও থেকে ১ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তিনি দেড় বিঘা জমিতে কলা চাষ করেছিলেন। তার দেড় বিঘা জমির কলাবাগান পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে। এতে তার প্রায় ১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

মহসিন মিয়া জানান, আর ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে কলাগুলো কেটে নিতেন। কিন্তু ঝড়ে দুই বিঘা জমির বাগান পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে।

টেগরা গ্রামের কলাচাষি রবিউল ইসলাম জানান, এ মুহূর্তের কলাগুলো রমজানকে কেন্দ্র করে চাষ করা। ঠিক রমজানের আগে কলার বাগানগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চাষিরা দু’চোখে অন্ধকার দেখছেন। ঝড়ে শতাধিক কলা বাগান নষ্ট হয়ে গেছে। এতে এ এলাকায় প্রায় কোটি টাকার বিভিন্ন জাতের  কলার বাগান নষ্ট হয়ে গেছে।  সরকার থেকে এ মুহূর্তে কলাচাষিদের কোনো সহায়তা না দেওয়া হলে চাষিরা পথে বসবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিকছ্ন চন্দ্র পাল জানান, ঝড়ে ৬ থেকে ৭ হেক্টর জমির কলা নষ্ট হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

দিনাজপুর-৬ আসনের সাংসদ শিবলী সাদিক জানান, বিরামপুরের ক্ষতিগ্রস্ত কলাচাষিদের তালিকা তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কলাচাষিদের ক্ষতিপূরণে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।