নেত্রকোনায় গত কয়েক দিন আগে তপ্ত হাওয়ায় ক্ষেতে ধানের শীষ সাদা হওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার জেলার কলমাকান্দা উপজেলায় ঝড়ো হাওয়া ও শিলাবৃষ্টিতে ফসল ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া দিনাজপুরের বিরামপুরে ঝড়ে শতাধিক কলাবাগান লন্ডভন্ড হয়ে গেছে।
কলমাকান্দায় গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বয়ে যাওয়া ঝড়ো হওয়া ও শিলাবৃষ্টিতে প্রায় দুই শতাধিক ঘরের টিনের চাল ফুটো ও প্রায় ১ হাজার ৪০০ হেক্টর জমির ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার আটটি ইউনিয়নের মধ্যে পোগলা ইউনিয়নের প্রায় ৭০০ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার সরেজমিন দেখা যায়, বৃহস্পতিবার মাঝরাতের ঝড়ো হাওয়া ও শিলাবৃষ্টিতে উপজেলার আটটি ইউনিয়নের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পোগলা ইউনিয়নের বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি ও ফসলের মাঠ। উপজেলার কাগজীপাড়া, শ্রীপুর, পত্তন চারুলীয়া, বাদে চারুলী, চারুলীয় মাইজপাড়া, রানীগাঁও, রামপুর, খলিশাজুরী, শান্তিপুর, শিবনগর, মুলগাঁও, গঙ্গানগর, ভাটিপাড়া, পাঠানপাড়া, কালাকোনা, পনারপারুয়া, পাবই, আশারানী, ধোপাপাড়া, গোয়াতলাসহ আরও বেশ কয়েকটি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব গ্রামের বেশিরভাগ জমির ধানের শীষ ভেঙে গেছে, গাছের পাতা এলোমেলা হয়ে গেছে। শিলা গলে জমা ঠান্ডা পানিতে ধানগাছের গোড়া কালো হয়ে গেছে। ঝড়ো বাতাসে কোথাও কোথাও ধানগাছ মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। এছাড়া দুই শতাধিক ঘরের টিনের চাল শিলার আঘাতে ফুটো হয়ে গেছে।
উপজলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মেহেদী হাসান তরফদার বলেন, বৃহস্পতিবার রাতের ঝড়ো হাওয়া ও শিলাবৃষ্টিতে উপজেলায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার আটটি ইউনিয়নের মধ্যে পোগলা ইউনিয়নের ফসলের মাঠ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পোগলা ইউনিয়নের প্রায় ১ হাজার ৫০০ একর এবং সব ইউনিয়ন মিলে ৩ হাজার ২১১ একর জমির ধান নষ্ট হয়েছে।
কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোহেল রানা জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তিনি।
বিরামপুরে বৃহস্পতিবার রাতে ঝড়ে শতাধিক কলাবাগান লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। কলাচাষিরা জানান, এতে তাদের প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
সরেজমিন গতকাল দুপুরে উপজেলার চকহরিদাসপুর এলাকায় দেখা গেছে শতাধিক কলাবাগান পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। সব গাছেই রয়েছে কলার কাঁদি। হঠাৎ ঝড়ে বাগান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাষিরা।
চকহরিদাসপুুর গ্রামের কলাচাষি সাইদুর রহমান জানান, এনজিও থেকে ১ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তিনি দেড় বিঘা জমিতে কলা চাষ করেছিলেন। তার কলাবাগান পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে। এতে তার প্রায় ১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। মহসিন মিয়া জানান, আর ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে বাগানের কলাগুলো কেটে নিতেন। কিন্তু বৃহস্পতিবারের ঝড়ে তার দুই বিঘা জমির বাগান পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, ঝড়ে ছয় থেকে সাত হেক্টর জমির কলা নষ্ট হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।