বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমস

সাঁতার পুলে অপ্রতিরোধ্য সোনিয়ার সাফল্যের রহস্য

বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমসে সাঁতার পুলে ঝড় তুলেছিলেন সোনিয়া আক্তার টুম্পা। ব্যক্তিগত ৫ সোনার সঙ্গে রিলেতে ৩ সোনা জিতেছেন। তাতে গেমস সর্বোচ্চ ৮ সোনা জয়ের কীর্তি তার।

সাঁতারের ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইল ইভেন্টকে অ্যাথলেটিকসের ১০০ মিটার স্প্রিন্টের মতো ধরা হয়। সেই হিসেবে গেমসের ‘দ্রুততম সাঁতারু’ তিনি। বিকেএসপিতে থেকে উঠে আসা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এই সাঁতারু জানালেন তার এই সাফল্যের রহস্য।

৫০ মিটার ফ্রিস্টাইল ছাড়াও সোনিয়া ব্যক্তিগত সোনাগুলো জিতেছেন ৪০০ ও ৮০০ মিটার ফ্রিস্টাইল, ৪০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডল এবং ২০০ মিটার বাটারফ্লাই ইভেন্টে। রিলেতে ৩ সোনার সঙ্গে ৩ রুপাও জিতেন।

এমন সাফল্যে দারুণ খুশি সোনিয়া, ‘এ বছর স্বল্প সময় অনুশীলন হলেও কঠোর পরিশ্রম করেছি। ভাবিনি এত ভালো হবে। আসলে নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টাই করেছি। পুলে তার প্রতিফলন ঘটায় আমি অনেক খুশি।’

সাঁতার পুলে সোনিয়ার এই দাপট অবশ্য নতুন নয়। জুনিয়র সাঁতার প্রতিযোগিতা থেকেই পদকের পর পদক জিতে চলেছেন। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ গেমসেও জিতেছিলেন ৬টি সোনা।

তবে গেল কিছুদিন আগের রূপে দেখা যাচ্ছিল না তাকে। গত জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে মাত্র একটি ব্যক্তিগত স্বর্ণ জেতেন। এ প্রসঙ্গে সোনিয়া বলছিলেন, ‘মাঝে আমার অনুশীলনের ঘাটতি ছিল। জুনাইনাও (নৌবাহিনীর আরেক সাঁতারু) ভালো করছিল। এ কারণে ইভেন্ট কমিয়ে দিয়েছিলাম। ফিটনেস সর্বোচ্চ পর্যায়ে না থাকা অবস্থায় বেশি ইভেন্ট করলে আমার সংস্থা নৌবাহিনী বঞ্চিত হতো, আমারও ইনজুরিগ্রস্থ হওয়ার ঝুঁকি থাকত।’

কিছুদিন আগেই আরেক সাঁতারু আসিফ রেজার সঙ্গে ঘর বেঁধেছেন সোনিয়া। নৌবাহিনীর হয়েই এবারের গেমসে আসিফও জেতেন ৪ সোনা। ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইল জিতে তিনিও হয়েছেন ‘দ্রুততম সাঁতারু’।

বিয়ের পর এই দম্পতির জন্য বাংলাদেশ গেমসটা কাটল স্বপ্নের মতো। সোনিয়া বলছিলেন পুলে দুজনের রসায়নের কথা, ‘আমরা দুজন একই সংস্থায় খেলছি। আমাদের অনুশীলনের ধরনও এক। অনুশীলনে একে অপরকে সহায়তা করছি। অনেক সময় দেখা গেল আমার অনুশীলন সঠিকভাবে হচ্ছে না। ওই অবস্থায় আসিফ এগিয়ে এসে আমার ভুলগুলো ধরিয়ে দিচ্ছে। আমিও তার ভুলগুলো ধরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করি।’

প্রতিযোগিতা চলাকালে একে অপরের উপস্থিতি তাদের কাছে শক্তি হিসেবে কাজ করে। ‘আমরা পরস্পরকে উৎসাহিত করছি, অনুপ্রাণিত করছি। প্রতিযোগিতা চলাকালে আসিফের উপস্থিতি আমার জন্য বড় শক্তি, আসিফও আমাকে পাশে পেয়ে অনুপ্রাণিত হয়। এটা দুজনের জন্য খুবই ভালো লাগার বিষয়।’- বলেন সোনিয়া।