আওয়ামী লীগের কমিটিতে বিএনপি-জামায়াত নেতা, সভাপতি-সম্পাদকের স্ত্রী ও স্বজন!

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে বিএনপি-জামায়াতের কর্মীদের স্থান দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া অভিযোগে, কমিটিতে স্থান পেয়েছেন বর্তমান কমিটির সভাপতি-সম্পাদকের স্ত্রী, স্ত্রীর ভাই ও স্বজনরা। 

এ দিয়ে ক্ষুব্ধ দলের ত্যাগী এবং পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। উপজেলা জুরে সমালোচনার ঝড় উঠেছে নতুন এই কমিটিকে নিয়ে। 

জানা যায়, মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় ২০১৯ সালের ১২ অক্টোবর। সে সময় সংগঠনের জেলা কমিটির নেতারা সভাপতি পদে বদরুল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক পদে মাসুক আহমদের নাম ঘোষণা করে দুজনের কমিটি গঠন করেন। এর প্রায় দেড় বছর পর ৯ এপ্রিল ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ পায়। তবে কমিটিতে তারিখ দেওয়া আছে পেছনের সম্মেলনের তারিখ। ৯ এপ্রিল কমিটি প্রকাশের পর থেকে এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে সমালোচনার ঝড় ওঠে। 

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বলেন, বর্তমান কমিটির কিছু নেতা আগে বিএনপি-জামাতের কমিটিতে ছিলেন, গত নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর এজেন্ট, রাজাকারপুত্র, বিএপির বর্তমান বিভিন্ন কমিটির দায়িত্বশীল নেতাও আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। দ পড়েছেন দলের প্রবীণ ও ত্যাগী কর্মীরা।

তাদের অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে প্রবীণদের কমিটিতে রাখলেও তারা অভিযোগ করছেন সম্মানজনক পদ পাননি। কোনোদিন রাজনীতি না করেও বড় পদে স্থান পেয়েছেন বিতর্কিতরা। 

এসব আলোচনার পাশাপাশি কমিটিতে বিএনপি-জামায়াত নেতাদের স্থান পাওয়ার প্রমাণ বিষয়ে বিভিন্ন কাগজের কপি সামাজিক মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে। 

এসব কপি এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, ৭১ সদস্যের কমিটিতে সরাসরি বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত এমন রয়েছেন চারজন। জামায়াতের আছেন একজন। রয়েছে স্বজনপ্রীতি। বর্তমান কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বদরুল হোসেনের স্ত্রী শাহানা চৌধুরীকে একই কমিটির শিক্ষা ও মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক, ভাতিজা সাবেক যুবদল নেতা জাহেদ হোসেন তাজিনকে সদস্য করা হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক মাসুক আহমদের স্ত্রী শিরিন আক্তারকে করা হয়েছে সাংস্কৃতিক সম্পাদক এবং স্ত্রীর বড় ভাই শাহীন আহমদকে করা হয়েছে সদস্য। তিনি ছাত্রজীবনে সরাসরি শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। 

তাদের আরো অভিযোগ, একই কমিটিতে আরেকজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আছেন, যার বাবার বিরুদ্ধে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বিতর্কিত ভূমিকার অভিযোগ আছে এবং এলাকায় রাজাকারপুত্র হিসেবে তিনি পরিচিত। 

এক সময়ের ছাত্রনেতা এবং বর্তমানে ব্রাজিল প্রবাসী মাসুদ রানা চৌধুরী বলেন, ৯০ দশকে জাতীর পিতার আদর্শ ও আওয়ামী লীগকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে যাদের হামলার শিকার হতাম, যারা তখন রক্তাক্ত করেছিল তারা এখন জুড়ী আওয়ামী লীগের কমিটিতে। কিন্তু যারা আওয়ামী লীগের জন্য রক্ত দিয়েছিল তাদের মূল্যায়ণ করা হয়নি। 

পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের সাবেক সভাপতি গোপিকা অধিকারী বলেন, ১৯৬৩ সাল থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছি। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের পর রিলিফ কমিটির চেয়ারম্যান ছিলাম। অথচ জীবনের শেষ সময় আমাকে সদস্যও করা হয়নি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কাউন্সিলের সময় ভোট না দিয়ে সিন্ডিকেট কমিটি করা হয়েছে। সেই সময় ভোট দিলে আমি ১২ আনা ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক হতাম। সেই গ্রুপিংয়ের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আমাকে ২ নম্বর সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। অথচ আমার কর্মীদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ অনেককে গুরুত্বপূর্ণ পদে দেওয়া হয়েছে। ভাবছি রাজনীতি ছেড়ে দেব, দল বিরোধী দলে গেলে আবার রাজনীতি করব। 

তিনি বলেন, পুরা কমিটি সিন্ডেকেট করে করা হয়েছে। সভাপতির আত্মীয়-স্বজন ১১ জন এবং সাধারণ সম্পাদকের আত্মীয়-স্বজন চারজনকে কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে এমনকি রাজাকারের ছেলেকেও স্থান দেওয়া হয়েছে তিন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকদের পদের একটিতে। 

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিসবাহুর রহমান জানান, স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি, সম্পাদক যে কমিটি জমা দিয়েছেন আমরা সেটা অনুমোদন করেছি।