আনোয়ারায় ‘ঋণের দায়ে বিষপানে কৃষকের আত্মহত্যা’

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ঋণের দেনা পরিশোধ করতে না পেরে অরুণ বড়ুয়া (৫০) নামে এক কৃষক বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি উপজেলার চাতরী ইউনিয়নের রূদুরা গ্রামের মৃত বাবুলাল বড়ুয়ার ছেলে। ঋণগ্রস্ত অরুণ সামাজিক ও পারিবারিকভাবে হেয় হয়ে রবিবার বিকেলে বাড়ির পাশের ক্ষেতে বিষপানে আত্মহত্যা করেন বলে জানা গেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঋণের টাকার চাপে কয়েকদিন ধরে অরুণ বড়ুয়া মানসিক চাপে ভুগছিলেন। প্রতিদিনের মতো তিনি রবিবার বিকেলে বাড়ির পাশে ধানক্ষেত দেখতে যান। সেখানে সবার অগোচরে বিষপান করে বাড়ি ফিরলে তার নাকে-মুখে ফেনা আসে। ওই সময় তার স্বজনরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অরুণের স্ত্রী রুনা বড়ুয়া জানান, স্থানীয় গিয়াস উদ্দিন নামে এক সুদ কারবারির কাছ থেকে ২৬ হাজার টাকা নিয়ে চক্রবৃদ্ধি সুদে লাখের ওপরে দেনা জমা হয়। এ ছাড়া বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ব্র্যাক, প্রত্যাশা, উদ্দীপন, ব্যুরো বাংলাদেশসহ বিভিন্ন এনজিও থেকে বর্গাচাষের জন্য ৫ লাখেরও বেশি টাকা ঋণ নেন। কিন্তু চাষাবাদে ভালো ফলন না হওয়ায় ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারছেন না। এদিকে ঋণ আদায়কারীরা প্রতিদিন কিস্তির জন্য বাড়ি এসে গালমন্দ করছেন।

অরুণের কলেজ পড়ুয়া মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বাবাকে অনেকবার বলেছি ঋণ না নিতে, আমার কথা শোনেননি। ঋণের কারণে অল্প বয়সে বাবাকে হারাতে হয়েছে। কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় বাবা লুকিয়ে লুকিয়ে থাকতেন।

এ বিষয়ে জানতে সুদ কারবারি গিয়াস উদ্দিনের ফোনে যোগাযোগ করেও ফোন বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।

চাতরী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো.ইয়াছিন হিরো বলেন, এনজিওর কিস্তির টাকা দিতে না পারায় অরুণ আত্মহত্যা করেছেন বলে শুনেছি।

আনোয়ারা উপজেলার এনজিও ফোরামের সাধারাণ সম্পাদক রাজীব দাশ বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। খুবই অমানবিক। বিষয়টা খতিয়ে দেখা হবে।

আনোয়ারা থানার ওসি এস এম দিদারুল ইসলাম শিকদার বলেন, থানায় পরিবারের কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।