‘লকডাউনে’ ধান কাটার শ্রমিক সংকটের শঙ্কা

হাওরে কিছু এলাকায় বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে পুরোদমে কাটা শুরু হবে হাওরের একমাত্র ফসল বোরোর। অপরদিকে মহামারী করোনার সংক্রমণ রোধে আগামীকাল ১৪ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে সপ্তাহব্যাপী কঠোর লকডাউনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন জেলা থেকে ধান কাটার শ্রমিকরা কীভাবে কিশোরগঞ্জের হাওরে আসবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তার ছায়া দেখা দিয়েছে গৃহস্থের মুখে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ বছরও বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে কিছু এলাকায় ঝড়ো হাওয়া ও গরম বাতাসে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন হাওরে আগাম জাতের ধান পাকায় তা কাটতে শুরু করেছেন কৃষকরা। কিন্তু লকডাউনের কারণে ধান কাটার শুরুতেই শ্রমিক সংকটের চিন্তায় ভুগছেন জেলার বোরোচাষিরা।

আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার সব নদনদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকায় হাওরে ধান নিয়ে এখন বিপাকেই রয়েছেন তারা। শ্রমিকের অভাবে সময় মতো ধান কাটতে না পারলে অকাল বন্যা দেখা দিলে পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও করছেন তারা।

কিশোরগঞ্জ কৃষি অধিদপ্তরের সূত্রমতে, কিশোরগঞ্জের হাওরে এবার ১ লাখ ৬৬ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। গত বছর ধানের দাম বেশি পাওয়ায় কৃষকরা এ বছর প্রায় ৩ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছেন। অন্য বছরের তুলনায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে হাইব্রিড জাতীয় ধান বেশি হওয়ায় উৎপাদন অনেক বেড়ে যাওয়ার আশা রয়েছে।

তবে কৃষকরা বলছেন, বছরের একটি মাত্র ফসল বোরো ধানের ওপর নির্ভর করে হাওর অধ্যুষিত এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা নির্বাহ হয়। এপ্রিলের প্রথম দিকেই জেলার বিভিন্ন হাওরের আগাম জাতের ধান পাকতে শুরু করেছে। কিন্তু করোনা প্রাদুর্ভাব ও লকডাউনে শ্রমিক সংকটের আশঙ্কায় পড়েছেন তারা। করোনা সংক্রমণসহ নানা কারণে এবার অন্য জেলা থেকে ধান কাটার শ্রমিকরা আসতে চাচ্ছেন না। এলেও শ্রমিকদের বেশি মজুরি ও সুযোগ-সুবিধা দিয়ে ধান কাটতে আনতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

কৃষকদের শঙ্কা, অন্য জেলা থেকে অন্যান্য বছরের চেয়ে শ্রমিক কম আসা ও স্থানীয়ভাবে লোকবলের সংকট দেখা দিতে পারে। শ্রমিক সংকটে পড়লে ক্ষেতের পাকা ধান নিয়ে বিপাকে পড়তে পারেন হাওর পাড়ের চাষিরা। এদিকে চলতি সপ্তাহে বৃষ্টিপাত হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। পাহাড়ি ঢলে বাড়তে পারে জেলার সবকটি নদীর পানি। বৃষ্টিপাত ও অকাল বন্যার আগে একটিমাত্র ফসল নির্বিঘ্নে ঘরে তোলার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জের হাওরের বোরোচাষিরা।

জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার পানাহার গ্রামের বড় হাওরের জুয়েল মিয়া নামে এক কৃষক বলেন, এবার ধান ভালো হয়েছে। তবে কাটা নিয়ে চিন্তায় রয়েছি।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ছাইফুল আলম বলেন, শ্রমিক সংকট নিরসনে অন্য জেলাগুলো থেকে শ্রমিকরা যাতে লকডাউনেও হাওরে আসতে পারেন, সেই জন্য জেলা প্রশাসকের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের ভর্তুকি দিয়েও কম্বাইন হারভেস্টর বিতরণ করা হচ্ছে। আশা করছি এবার নির্বিঘ্নে ধান ঘরে তুলতে পারবেন কৃষকরা।