জর্ডানে অস্থিরতার নেপথ্যে সৌদি!

জর্ডানে কথিত অভ্যুত্থান চেষ্টাকে ঘিরে সৃষ্ট অস্থিরতার নেপথ্যে সৌদি আরবের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠছে। তবে রিয়াদের তরফ থেকে জোরালোভাবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এক সপ্তাহ আগে জর্ডানের জনপ্রিয় সাবেক যুবরাজ এবং বাদশাহ আব্দুল্লাহর সৎ ভাই প্রিন্স হামজাকে গৃহবন্দি করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয় যে, তিনি বিভিন্ন গোত্রের নেতাদের সঙ্গে বেশ কিছু বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। এসব বৈঠকে তিনি বাদশাহ আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে সমালোচনা করেছেন। প্রিন্স হামজা সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গোত্রের নেতাদের দাঁড় করানোর চেষ্টা করছিলেন। এ ব্যাপারে অনেক দিন ধরেই তদন্ত চলছিল।

বাদশাহ আব্দুল্লাহর এক চাচার মধ্যস্থতার পর এই সংকট পরে আর খুব বেশিদূর গড়াতে পারেনি। তবে এ ঘটনার পেছনে সৌদি আরবের ভূমিকার বিষয়ে জল্পনা-কল্পনা জোরালো হতে থাকে। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে জর্ডানের রাজধানী আম্মানে উড়ে যান। সৌদি আরবের কর্মকর্তারা বলেছেন, বাদশাহ আব্দুল্লাহ এবং তার সরকারের প্রতি পূর্ণ সংহতি জানাতেই তাদের এই সফর।

জর্ডানের কর্মকর্তারা জানান, তাদের নিরাপত্তা বাহিনীগুলো প্রিন্স হামজাসহ আরও বহু কর্মকর্তার কর্মকাণ্ডের ওপর কয়েক দিন ধরে নজর রাখছিল। কারও নাম উল্লেখ না করে তারা রহস্যময় কিছু বিদেশি শক্তির কথা বলে আসছিল যারা দেশটিতে ও রাজপরিবারের ভেতরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ছিল।

এই সংকটে যেসব সুপরিচিত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের মধ্যে একজন বাসেম আওয়াদুল্লাহ। তিনি জর্ডানের রয়্যাল কোর্টের সাবেক প্রধান এবং বর্তমানে তিনি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের একজন অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন। সৌদি আরব ও জর্ডান দুই দেশেরই নাগরিক তিনি। সৌদি আরবের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ ফোরামেরও একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি তিনি। এই বাসেম আওয়াদুল্লাহকে সঙ্গে না নিয়ে সৌদি প্রতিনিধিদলটি জর্ডান ছেড়ে যেতে রাজি হচ্ছিল না। তবে সৌদি কর্মকর্তারা এই খবরটিকে অসত্য বলে মন্তব্য করেছেন।

বাসেম আওয়াদুল্লাহর সঙ্গে বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক শক্তির যোগাযোগ রয়েছে। ইসরায়েলঘেঁষা সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে তার সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। সংযুক্ত আরব আমিরাতের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গেও তার ভালো সম্পর্ক। জেরুজালেমের আশপাশে ইহুদিবাদীদের জন্য ফিলিস্তিনি ভূমি কিনে নেওয়ার পেছনেও তার ভূমিকা রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। সৌদি আরব ও জর্ডানের মধ্যে অর্থনৈতিক দিক থেকে বড় ধরনের পার্থক্য থাকলেও অনেক বিষয়ে তাদের মিল রয়েছে। এই দুই দেশের মধ্যে কয়েক শতাব্দী ধরে চলছে গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্ক। যৌথ মরু সীমান্তের ব্যাপারে রয়েছে বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে যোগাযোগ।