বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন

‘লকডাউনে’ দরিদ্রদের সহায়তা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ

করোনার বিস্তার ঠেকাতে লকডাউনে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করা বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছে বিশ^ব্যাংক। সংস্থাটি বলছে, চলতি অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে। তবে প্রবৃদ্ধির বৃদ্ধি ও কমার ব্যাপারটি তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে। তবে যদি চলমান টিকার প্রয়োগ কার্যক্রম অব্যাহত থাকে, কঠোর লকডাউন কার্যকর হয় এবং দ্রুত বিশ্ব অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ায় তাহলেই এ প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে।

গতকাল সোমবার ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট’ আপডেট প্রকাশ উপলক্ষে ভার্চুয়ালি এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি মিয়াং টেম্বন এসব তথ্য জানান। প্রতিবেদন প্রকাশকালে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের ভ্যাকসিন কিনতে অর্থের কোনো সমস্যা নেই। বিশ্বব্যাংকও ৫০ কোটি ডলার দিতে যাচ্ছে, যা দিয়ে দেশের তিনভাগ মানুষের জন্য ভ্যাকসিন কেনা যাবে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনিশ্চয়তার মধ্যেও বাংলাদেশে শিগগিরই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তবে বেশকিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন বলেন, সবুজ, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির কৌশল ঠিক করতে হবে। করোনাকালে চলাচলে বিধিনিষেধ থাকায় ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে সচল থাকা সম্ভব হবে। এছাড়া স্থানীয় সরবরাহব্যবস্থা আধুনিক করতে হবে।

উল্লেখ, করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে ১৪ এপ্রিল থেকে সাত দিনের কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার।

এ প্রসঙ্গে মার্সি টেম্বন বলেন, লকডাউনের মতো কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ হওয়ার অতীতে দেখা গেছে, বাংলাদেশে অনানুষ্ঠানিক খাতের মানুষ সবচেয়ে বেশি কাজ হারিয়েছে। এমন গরিব মানুষকে সুরক্ষা দিতে খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি নগদ সহায়তা নিশ্চিত করা দরকার। তিনি জানান, সরকার ইতিমধ্যে বাজেট সহায়তা হিসেবে বিশ্বব্যাংকের কাছে ৫০ কোটি ডলার সহায়তা চেয়েছে। এ নিয়ে বিশ্বব্যাংকের টিম কাজ করছে। তবে বাজেট সহায়তা প্রদানের বিষয়টি নির্ভর করে বাংলাদেশ আর্থিক খাতে কী ধরনের সংস্কার করছে, সেটার ওপর।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে। তবে প্রবৃদ্ধির বৃদ্ধি ও কমার ব্যাপারটি তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে। এগুলো হলো টিকাদান কর্মসূচির গতি-প্রকৃতি, চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কতটা হয় এ বিষয়গুলোর ওপর নির্ভর করেই বিশ্বব্যাংক প্রবৃদ্ধির ন্যূনতম ও সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ বার্নার্ড হেভেন সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন এবং প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বাংলাদেশের সামনে বিরাট চ্যালেঞ্জ আছে। এ ধরনের অনিশ্চয়তা কতটা দীর্ঘায়িত হয়, এর ওপর অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি নির্ভর করছে। লকডাউনের মতো কঠোর বিধিনিষেধে গরিব মানুষকে সহায়তা করাই বড় চ্যালেঞ্জ। গরিব মানুষকে চিহ্নিত করে তাদের সুরক্ষা দিতে হবে। এ ধরনের বিধিনিষেধে গরিব মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, করোনার প্রথম ধাক্কা সামাল দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। যদিও সামনের দিনগুলোতে অর্থনীতিতে ব্যাপক অনিশ্চয়তা আছে। চলতি অর্থবছরে প্রথম ছয় মাসে (গত জুলাই-জানুয়ারি) ঢাকা ও চট্টগ্রামের শ্রমবাজারে আবার চাঞ্চল্য এসেছে, অনেকেই কাজে ফিরতে শুরু করেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কভিড-১৯-এর কারণে তৈরি অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক। পুনরুদ্ধারের গতি বেশিরভাগের ওপর নির্ভর করে দ্রুত টিকা কীভাবে অর্জন করা যায়। মুদ্রাস্ফীতি বাংলাদেশ ব্যাংকের ৫ দশমিক ৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি থাকতে পারে।