করোনা পরিস্থিতির আবারও ভয়াবহ আকার ধারণ করায় সাভারে স্থানান্তরিত চামড়া শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিশেষ সুবিধার আওতায় ঋণ পুনঃতফসিল ও এককালীন পরিশোধের আবেদন জমা দেওয়ার সময় তিন মাস বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত ডাউন পেমেন্টের অর্থ নগদে জমা দিয়ে এ সুবিধা নিতে পারবে সাভারের চামড়া শিল্প নগরীর প্রতিষ্ঠানগুলো। আগের নির্দেশনা অনুযায়ী এই সুবিধার আবেদনের সময় ছিল ৩১ মার্চ পর্যন্ত।
গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের পাঠানো হয়।
এর আগে গত ৬ জানুয়ারি সাভারে চামড়া শিল্পনগরীতে স্থানান্তরিত শিল্প প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ পরিশোধে বিশেষ ছাড় দিয়ে সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাতে বলা হয়, কভিড পরিস্থিতিতে সাভারের শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যাদের পক্ষে ব্যবসা চালিয়ে রাখা সম্ভব নয়, তারা কিছু সহজ শর্ত মেনে ঋণ পরিশোধ করার সুযোগ পাবে।
ওই সার্কুলারে বলা হয়, ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বরে খেলাপি প্রতিষ্ঠানের ঋণ স্থিতির দুই শতাংশ এককালীন নগদ জমা বা ডাউন পেমেন্ট দিয়ে এক্সিট সুবিধা নিতে পারবে চামড়া শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো। ওই সময় পর্যন্ত (গত ডিসেম্বর) যেসব প্রতিষ্ঠানের ঋণ স্থিতি পাঁচ কোটি টাকা বা এর নিচে ছিল সেসব প্রতিষ্ঠান দায়-দেনা পরিশোধের জন্য তিন বছর এবং যেসব প্রতিষ্ঠানের ঋণ স্থিতি পাঁচ কোটি টাকার বেশি সেসব প্রতিষ্ঠান পাঁচ বছরে দায়-দেনা পরিশোধের সুযোগ পাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে আরও বলা হয়, শিল্পনগরীর যেসব প্রতিষ্ঠান ব্যবসা চালু রাখতে চায় তাদের খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠন করতে পারবে ব্যাংক। এক্ষেত্রেও ন্যূনতম ডাউন পেমেন্ট হবে দুই শতাংশ। এই প্রক্রিয়ার এক বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ মোট ১০ বছরে খেলাপি ঋণ পরিশোধ করা যাবে।
এক্সিট ও পুনঃতফসিল উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাংক খাতের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে স্থগিত সুদ, অনারোপিত সুদ ও দণ্ড সুদ মওকুফের বিষয়ে ব্যাংকের পর্ষদ নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারবে বলে সার্কুলারে জানানো হয়। তবে কোনো অবস্থাতেই আসল ঋণ মওকুফ করতে পারবে না ব্যাংক।
পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠন করা ঋণের মওকুফ পরবর্তী অংশের ওপর ৯ শতাংশ সুদ নিতে পারবে ব্যাংক। নতুন নির্দেশনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, দ্বিতীয় দফায় কভিড-১৯ এর বিরূপ প্রভাব দেখা দেওয়ায় ঋণ গ্রহীতাদের ব্যবসা পুনরায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পুনর্গঠন/পুনঃতফসিল সুবিধা গ্রহণে ইচ্ছুক গ্রাহক কর্র্তৃক ডাউন পেমেন্টের অর্থ নগদে জমাদান সাপেক্ষে আবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানো হলো।