পিএসজির মাঠে কঠিন সমীকরণের সামনে বায়ার্ন মিউনিখ

যে পিএসজিকে ফাইনালে হারিয়ে গতবার ইউরোপা সেরা হয়েছিল, তাদের কাছে হেরেই এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায়ের শঙ্কা বায়ার্ন মিউনিখের। গত সপ্তায় নিজেদের মাটিতে ২-৩ গোলে হেরেছে তারা নেইমার-এমবাপেদের কাছে। আজ প্রতিপক্ষের মাটিতে দু’গোলের ব্যবধানে জিততে হবে। না হলে পত্রপাট বিদায়। বায়ার্ন যদি ১-০, ২-১ গোলেও জেতে, তবুও পিএসজি উঠে যাবে সেমিফাইনালে। যদি ৩-২ গোলে জেতে বায়ার্ন, তাহলে খেলা গড়াবে অতিরিক্ত সময়ে, টাইব্রেকারে। এমন সমীকরণ মিলিয়ে সেমিতে ওঠা বেশ কঠিন বায়ার্নের জন্য।

প্রথম লেগে গোল না পেলেও নেইমার দারুণ খেলেন। দুটি গোল হয়েছে তার পাস থেকেই। আর কিলিয়ান এমবাপে তো দুটো গোল করেছেন। বায়ার্নের সঙ্গে ম্যাচের আগে লিগ ওয়ানে লিলের কাছে হারলেও শনিবার স্ত্রাসবুর্গকে হারিয়ে ফুরফুরে মেজাজে পিএসজি। উল্টো চিত্র বায়ার্ন শিবিরে। বুন্দেসলিগায় শনিবার ইউনিয়ন বার্লিনের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে তারা। ইনজুরির কারণে নিজেদের মাঠে পিএসজির সঙ্গে ম্যাচ মিস করা রবার্ট লেভানডোস্কি আজ ফিরতি লেগেও খেলতে পারছেন না। সঙ্গে যোগ হয়েছে সার্জ নাব্রির করোনা আক্রান্ত। পিএসজি শিবিরেও ইনজুরির কারণে বেশ কয়েকজনের খেলা নিয়ে আছে শঙ্কা। তাদের মধ্যে আছেন কেইলর নাভাস, মাউরি ইকার্দি, মার্কুইনহোসের মতো খেলোয়াড়। বায়ার্ন কোচ হান্স ফ্লিক বলেন, ‘জানি আমাদের দুই গোলে জিততে হবে। এটি কঠিন কাজ কিন্তু এটি ফুটবল ম্যাচ। আমরা প্যারিসে ছোটখাটো একটা আপসেট ঘটাতে চাই। সেটি করতে পারলে ভালো লাগবে।’

সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে নিজেদের মাঠে শেষ ৫ ম্যাচে মাত্র একটি জিতেছে পিএসজি। হেরেছে তিনটি, ড্র একটি। (১-১ গোল) ড্রটি ছিল চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনার সঙ্গে প্রি-কোয়ার্টারের দ্বিতীয় লেগ। লিগে হোম গ্রাউন্ডে নিজেদের সবশেষ ম্যাচটিও হেরেছে পিএসজি। আজ যদি বায়ার্ন জেতে তবে মে ২০০৯ সালের পর এই প্রথম ঘরের মাঠে টানা দু’ম্যাচ হারবে পিএসজি। এই মৌসুমে প্রতিটি অ্যাওয়ে ম্যাচেই গোল পেয়েছে বায়ার্ন। তাই আশা দেখতেই পারেন বায়ার্ন সমর্থকরা।

পোর্তোর সঙ্গে এগিয়ে চেলসি

এদিকে চেলসি-পোর্তোর ফিরতি ম্যাচটি আজ হবে সেভিয়ার মাঠে। করোনাভাইরাসের কারণে ভ্রমণে বিধিনিষেধের কারণে প্রথম লেগও হয়েছিল এ মাঠেই। সেটি ছিল পোর্তোর হোম ম্যাচ। তাতে চেলসি ২-০তে জেতায় সেমিতে এক পা দিয়েই রেখেছে টমাস টুখেলের দল। আজ ড্র করলেও উঠে যাবে সেমিতে। যদি পোর্তো ৩ গোলের ব্যবধানে ম্যাচ জেতে তবেই সেমিতে যাবে পর্তুগিজ ক্লাবটি। যদি পোর্তো ২-০তে জেতে তখন ম্যাচ গড়াবে অতিরিক্ত সময়ে, তারপর টাইব্রেকে। তবে ২০০৩-০৪ মৌসুমের পর কোয়ার্টার ফাইনাল রাউন্ড পার হতে পারেনি পোর্তো। সেবার দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছিল পোর্তো। সে সময় দলটির কোচ ছিলেন হোসে মরিনহো।