ভুয়া সার্টিফিকেটের অভিযোগ থেকে স্বপ্নের উত্থান শাহবাজের

কয়েক বছর আগে ভুয়া সার্টিফিকেটের অভিযোগে ক্রিকেট ক্যারিয়ারটাই প্রায় ডুবতে বসেছিল শাহবাজ আহমেদের। কিন্তু সেখান থেকে যেন স্বপ্নের উত্থান হলো ২৬ বছর বয়সী অলরাউন্ডারের।

আইপিএলে বুধবার রাতে শাহবাজের বাঁহাতি স্পিনে প্রায় হেরে যাওয়া ম্যাচ জিতে নেয় বিরাট কোহলির নেতৃত্বাধীন রয়্যালস চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। ১৪৯ রানের পুঁজি নিয়েও সানরাইজার্স হায়দরবাদের বিপক্ষে তুলে নেয় ৬ রানের জয়।

১৬ ওভারে ২ উইকেটে ১১৫ রান করা হায়দরাবাদ শেষ ২৮ রান যোগ করতে ৭ উইকেট হারিয়ে বসে। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ১৪৩ রানে থামে দলটির ইনিংস।

বাঁহাতি স্পিনে শাহবাজ ১৭তম ওভারে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন। ২ ওভার বল করে মাত্র ৭ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন তিনি।

আইপিএলের গত আসরে বেঙ্গালুরুতে সুযোগ পান শাহবাজ। তখন থেকেই অধিনায়ক বিরাট কোহলির মন জয় করে নিয়েছিলেন। চলতি আইপিএল দলের দ্বিতীয় ম্যাচেই নিজের সেরাটা উজাড় করে দিলেন। এমন পারফরম্যান্সের পর নিশ্চিত ভাবেই কোহলির দলের অটোমেটিক চয়েজ হয়ে যাবেন শাহবাজ।

টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান, সঙ্গে স্পিনটা ভালো জানেন। এই শাহবাজের উত্থান ভারতের রাজ্য দল বেঙ্গলে। যদিও হরিয়ানার ছেলে তিনি। ভিন রাজ্যের ক্রিকেটার হলেও তাকে আবিষ্কার করেন তপন মেমোরিয়ালের কোচ পার্থ চৌধুরী। আর বাংলার কোচ অরুণ লাল সঠিক রত্নকে বেছে নেন।

কোচ পার্থ চৌধুরীর সঙ্গে নিয়মিত কথা হয় শাহবাজের। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে মোটেও সুবিধা করতে পারেননি শাহবাজ। ১ ওভার বল করে ১৪ রান খরচায় করেছিলেন। ব্যাট হাতে করেন ১ রান। তাই প্রথম ম্যাচের পরই ভুল সংশোধনে কোচের দ্বারস্থ হন শাহবাজ।

পার্থ চৌধুরী শুধু একটাই কথা বলেন, ‘তোমার বোলিংটা ঠিকমতো করো। জায়গায় বল ফেলো। তাতেই সাফল্য আসবে।’ কোচের এই মন্ত্রেই সফল শাহবাজ।

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে পড়তেই বাংলার ক্রিকেটে আবির্ভাব শাহবাজের। অবসর সময়ে কঠিন অঙ্ক সল্ভ করেন। ঠিক এভাবেই নিজের মনকে ধাতস্থ করেছিলেন ক্রিকেটে।

কলকাতায় পার্থ চৌধুরীর বাড়িতেই একরকম বেড়ে ওঠা। মাঝে সাঝে থাকতেন লিক রোডের মেস বাড়িতে। ছোট্ট ফ্ল্যাটে একই কামড়ায় থাকেন সতীর্থদের সঙ্গে। ছুটি পেলেই যান বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে।

আইপিএলের মাধ্যমে এখন নিজেকে মেলে ধরার বড় মঞ্চ পেয়ে গেলেন শাহবাজ। এখন শুধু এগিয়ে যাওয়ার পালা।