ভৈরব নদের নাব্য হ্রাসে অচল হওয়ার শঙ্কায় পড়েছে যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া নৌ বন্দর।
বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিভিন্ন স্থানে পলি জমে চরের সৃষ্টি হয়ে এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। সেই সাথে রয়েছে নদ দখলের কারণও।
নওয়াপাড়া নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের নেতা ও লাইটার জাহাজ এমভি হাজেরা-৪ এর মাস্টার মোহাম্মদ হাসান জানান, নওয়াপাড়া ভৈরব সেতু থেকে চেঙ্গুটিয়া পর্যন্ত প্রায় ২ নাটিক্যাল নদের তীরে অধিকাংশ স্থানেই চর জেগে উঠেছে ও নাব্য হারিয়ে গতিপথ ছোট হয়ে গেছে। জোয়ারের সময়ও মালবাহী কার্গো জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
এছাড়া নদের খুলনা নিউজপ্রিন্ট থেকে নওয়াপাড়া চেঙ্গুটিয়া পর্যন্ত প্রায় ১৫ নাটিক্যালের মধ্যে কিছু কিছু স্থানে নদের তীরে ছোট ছোট চর দেখা দিয়েছে।
নদের এই ১৫ নাটিক্যাল দ্রুত সময়ের মধ্যে খনন না করা হলে, এ নৌপথ দিয়ে মালবাহী কার্গো জাহাজ চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। নওয়াপাড়া নৌ-বন্দর অচল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেবে।
তিনি আরও বলেন, নওয়াপাড়া নৌ-বন্দরে প্রতিদিন মালবাহী কার্গো জাহাজ পণ্য খালাস করতে এসে জোয়ারের অপেক্ষায় বসে থাকতে হয়। ফলে আমদানিকারকদের পণ্য খালাসে সময় ক্ষেপণে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে। জাহাজ ড্যামারেজসহ গুনতে হচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
নওয়াপাড়া হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফাল্গুন মন্ডল বলেন, ভৈরব নদের পলি জমা চর দেখে শঙ্কিত হয়ে পড়ছি। এ বিষয়ে আমরা নওয়াপাড়া বিআইডব্লিউটির কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছি। তারা আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন এ রমজান মাসের মধ্যেই নদী ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু করবেন।
ফাল্গুন মন্ডল আরও বলেন, অভয়নগরসহ আশপাশের উপজেলার হতদরিদ্র নিম্ন আয়ের প্রায় ২০ হাজার পুরুষ ও নারী শ্রমিক এ বন্দরের কাজ করে। এ নৌ-বন্দর বন্ধ হলে শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়বে।
নওয়াপাড়া নৌবন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক মো.ফারুক উদ্দিন বলেন, আমি জানতে পেরেছি ভৈরব নদের বিভিন্ন স্থানে নাব্য কমে গেছে। পলি জমে চর জেগেছে। ওই স্থানগুলো চিহ্নিত করে গভীরভাবে নদী ড্রেজিং করার জন্য নৌবন্দর কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালকের কাগজপত্র পাঠিয়েছি।
এছাড়া অবৈধ দখলদারদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাসহ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।
যশোরের শিল্প শহর বলে সুপরিচিত অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া। সড়ক, রেল ও নৌপথের কারণে গড়ে উঠেছে বৃহৎ মোকাম। এ মোকামে নদী পথে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর থেকে প্রতিদিন শত শত কার্গো জাহাজবোঝাই বিভিন্ন প্রকারের খাদ্যশস্য, পাথর, কয়লা, সারসহ নানা প্রকারের দ্রব্যসামগ্রী আসে ও খালাস হয়।