বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় ওয়াসিম

বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন চিত্রনায়ক ও প্রযোজক মেজবাহ উদ্দীন আহমেদ ওয়াসিম। গতকাল রবিবার বেলা ৩টার দিকে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে বাদ জোহর গুলশানের আজাদ মসজিদে প্রথম জানাজা ও বনানী মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা হয়।

বার্ধক্যজনিত শারীরিক সমস্যায় অভিনেতা ওয়াসিম শনিবার রাত ১২টা ৪০ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেন।

ওয়াসিমের ছেলে ব্যারিস্টার দেওয়ান ফারদিন বলেন, ‘গত ফেব্রুয়ারির পর থেকে বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। গত রাতে (শনিবার) হঠাৎ করেই তিনি কাঁপতে ও বমি করতে থাকেন। কোনো কথা বলতে পারছিলেন না। সঙ্গে সঙ্গে আমি হাসপাতালে যোগাযোগ করি। কোথাও আইসিইউ পাচ্ছিলাম না। একটি হাসপাতালে আইসিইউ পাওয়া গেল, সেখানে নেওয়ার পরও বাবা বমি করছিলেন। তারপর হঠাৎ তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। আইসিইউতে নেওয়ার আগেই চিকিৎসকরা জানান বাবা আর নেই।’

ফারদিন বলেন, ‘বাবা চাইতেন পরিবারের সদস্যদের পাশেই তার কবর হোক। তার ইচ্ছা পূরণ করতেই তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।’

২০০০ সালে ওয়াসিমের স্ত্রী মারা যান। ২০০৬ সালে আত্মহত্যা করেন তার মেয়ে। এরপর থেকে ভেঙে পড়েছিলেন ওয়াসিম। ধর্মকর্ম ও পড়াশোনা করে সময় কাটাতেন। ঘরের বাইরেও তেমন বের হতেন না বলে জানান ফারদিন।

১৯৭২ সালে সহকারী পরিচালক হিসেবে ওয়াসিমের চলচ্চিত্রে  যাত্রা শুরু। ১৯৭৪ সালে মহসিনের পরিচালনায় ‘রাতের পর দিন’ সিনেমার মাধ্যমে নায়ক হিসেবে অভিষেক ঘটে তার। পরে এস এম শফীর পরিচালনায় ‘দি রেইন’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে খ্যাতি অর্জন করেন।

দুই দশকের ক্যারিয়ারে ‘ডাকু মনসুর’, ‘জিঘাংসা’, ‘কে আসল কে নকল’, ‘বেদ্বীন’, ‘বাহাদুর’, ‘দোস্ত দুশমন’, ‘মানসী’, ‘ঈমান’, ‘দুই রাজকুমার’, ‘সওদাগর’, ‘নরম গরম’, ‘আসামি হাজির’, ‘রাজ দুলারী’, ‘লুটেরা’, ‘লাল মেম সাহেব’, ‘জীবন সাথী’, ‘রাজমহল’, ‘বিনি সুতার মালা’, ‘বানজারান’র মতো হিট চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন ওয়াসিম।

অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র প্রযোজনাও করেছেন ওয়াসিম। নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ডব্লিউ আর প্রোডাকশনের ব্যানারে নির্মাণ করেছেন ‘হিসাব চাই’, ‘মোহন বাঁশি’, ‘নয়া তুফান’সহ বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র।