গত বছরের তুলনায় এ বছরের মার্চ-এপ্রিলে করোনার তীব্রতা আরও বেড়েছে। গত বছরের জুলাইয়ে সর্বোচ্চ মৃত্যুর সময়ের চেয়ে এ মাসের ১৮ দিনে প্রতিদিন মৃত্যু বেড়েছে ৫০ শতাংশেরও বেশি। সে সময় যেখানে প্রতি ৩২ মিনিটে একজনের মৃত্যু হতো, এখন প্রতি ১৫ মিনিটেই একজনের মৃত্যু হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এখন বেড়েছে নারীর মৃত্যুর সংখ্যাও।
করোনার তীব্রতা এতটাই বেড়েছে যে, এখন আর উপসর্গ দেখা দেওয়ার পরপরই হাসপাতালে গিয়েও রক্ষা পাচ্ছে না মানুষ। রোগটি শনাক্ত হওয়া বা উপসর্গ দেখা দেওয়ার পাঁচ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি ৫২ শতাংশের মধ্যে ৪৮ শতাংশ রোগীর মৃত্যু হচ্ছে। এমনকি এক সপ্তাহের মধ্যে ভর্তি রোগীর ৩২ শতাংশকেই বাঁচাতে পারছেন না চিকিৎসকরা। চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থাতেই মারা যাচ্ছেন এসব রোগী। আক্রান্ত ও মৃত্যুর পাশাপাশি গত এক বছরে করোনার কারণে দেশে মানুষের মানসিক সমস্যাও বেড়েছে উদ্বেগজনক হারে। করোনা শুরুর আগে যেখানে গড়ে মাত্র ১১ শতাংশ মানুষের মধ্যে বিষন্নতা ও দুশ্চিন্তা দেখা দিত; গত এক বছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৯ শতাংশ। অর্থাৎ গত এক বছরে এই দুই ধরনের মানসিক রোগ বেড়েছে ৭৮ শতাংশ।
করোনায় মৃত্যু ও মানসিক স্বাস্থ্য পর্যালোচনা করে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে আইইডিসিআর জানিয়েছে, কভিড রোগী খুব দ্রুত মৃত্যুবরণ করছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারণগুলো চিহ্নিত করে মৃত্যু কমিয়ে আনাই এই পর্যালোচনার উদ্দেশ্য। সেসব পর্যালোচনা বিশ্লেষণ করে মৃত্যু ও মানসিক স্বাস্থ্যের এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতি পাওয়া গেছে।
দেশে করোনার ঘনীভূত সংক্রমণের কারণেই মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। মৃত্যুর উদ্বেগজনক সংখ্যার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়ান্ট কারণ হতে পারে বলেও ধারণা করছেন তারা। কারণ ইতিমধ্যেই দেশে করোনার দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়ান্টটি ব্যাপক হারে ছড়িয়েছে। বিশেষ করে গত বছর যেখানে এক এলাকা, বাসাবাড়ি বা একটি ফ্ল্যাটে অল্প সংখ্যক মানুষ করোনায় আক্রান্ত হতো; এ বছরের মার্চ-এপ্রিলে তা বেড়ে ‘ঘনীভূত’ অবস্থায় রূপ নিয়েছে। এখন এক জায়গায় অনেক মানুষ একসঙ্গে আক্রান্ত হচ্ছেন।
এ ব্যাপারে আইইডিসিআরের পর্যালোচনার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানটির উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঘনীভূত সংক্রমণের কারণে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে, দ্রুতগতিতে রোগটি ছড়াচ্ছে, তীব্রতা বেড়েছে, রোগীর সিভিয়ারিটি বেড়েছে। তীব্রতার কারণে মৃত্যুও বেড়েছে।
এই বিশেষজ্ঞ বলেন, এখন সংক্রমণ বেশি। এক জায়গায় বহু লোক সংক্রমিত হচ্ছে। একটা পরিবারের সবাই, তার পাশের বাসায়, অর্থাৎ ভাইরাসের সংক্রমণ লাগালাগি। একটা ফ্ল্যাটের প্রায় সবাই আক্রান্ত হয়েছে। ভাইরাসের উর্বর তান্ডবলীলা। এই ধরনের সংক্রমণকে ‘ঘনীভূত সংক্রমণ’ বলা যেতে পারে।
তবে সংক্রমণ ও মৃত্যু কমানোর জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, প্রথম পদক্ষেপ ২৯ মার্চ সরকার বিধিনিষেধ দিল। পাবলিক মিটিং ও পর্যটন বন্ধ হলো। ৫ এপ্রিল থেকে আরও কিছু বন্ধ হলো। ১৪ এপ্রিল থেকে সব অফিস বন্ধ হয়ে গেছে। এগুলোর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ৫ এপ্রিলের প্রভাব দেখতে পাচ্ছি। সংক্রমণ স্থিতিশীল পর্যায়ে এসেছে। মৃত্যুর ওপর প্রভাব পড়বে পরের সোমবার। এ পর্যন্ত মৃত্যু কতটুকু ঠেকাতে পারব জানি না, সেটা আইসিইউ ব্যবস্থাপনার ওপর ও যেসব রোগী আছে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে। তবে ৫ এপ্রিলের বিধিনিষেধের ফল হবে। সেটা আগামী সোমবারের দিকে মৃত্যুর সংখ্যাটা স্থিতিশীল পর্যায়ে আসবে। আর এখন যে বিধিনিষেধ চলছে, সেটার প্রভাব পড়বে অর্থাৎ সংক্রমণটা ধীরে ধীরে কমা শুরু করবে ১৪ এপ্রিল থেকে দুই সপ্তাহ পর ও মৃত্যুটা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে তিন সপ্তাহ পর। অবশ্য এখন যেভাবে বিধিনিষেধ মানা হচ্ছে, সেটা শেষ পর্যন্ত থাকলেও ফল আসবে।
গত বছরের চেয়ে এপ্রিলে প্রতিদিন মৃত্যু ৫০ শতাংশ বেশি : এ বছরের মার্চ থেকেই মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকে। তবে এপ্রিলে তা ভয়াবহ রূপ নেয়। গত মার্চে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৬৩৮ জন। এপ্রিলের গত ১৮ দিনে মারা গেছেন মোট ১ হাজার ৩৩৯ জন। অর্থাৎ এপ্রিলের ১৮ দিনের মৃত্যু গত মার্চের দ্বিগুণের বেশি। এমনকি গত বছরের সর্বোচ্চ মৃত্যুর চেয়ে এপ্রিলের মাত্র ১৮ দিনেই প্রতিদিন হিসেবে ৫০ শতাংশ রোগী বেশি মারা যাচ্ছেন। গত বছরের সর্বোচ্চ মৃত্যু ছিল ৩০ জুন ৬৪ জন।
মৃত্যুর সংখ্যা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশে করোনা ছিল না। কিন্তু এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে করোনায় মারা গেছেন ২৮১ জন। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ও শনাক্তের ১০ দিনের মাথায় ১৮ মার্চ প্রথম একজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। পরে সে মাসে মোট মারা যান ৫ জন। কিন্তু এ বছরের মার্চে করোনায় মোট মারা গেছেন ৬৩৮ জন। গত বছরের এপ্রিলের তুলনায় এ বছরের এপ্রিলে মৃত্যু ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সে বছরের এপ্রিলে যেখানে মোট মৃত্যু ছিল ১৬৩ জন; সেখানে এ বছরের চলতি এপ্রিলের গত ১৮ দিনেই মারা গেছেন ১ হাজার ৩৩৯ জন। গতকাল টানা তৃতীয় দিনের মতো দেশে করোনায় শতাধিক মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মারা গেছেন ১০২ জন। এটি দেশে এখন পর্যন্ত এক দিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক মৃত্যুর রেকর্ড। এর আগের দুদিন ১০১ জন করে মৃত্যুবরণ করেছিল।
মৃত রোগীদের ৫২ শতাংশ ৫ দিনের মধ্যেই হাসপাতালে এসেছিলেন : আইইডিসিআরের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, করোনা আক্রান্ত মৃত রোগীদের ৫২ শতাংশ উপসর্গ দেখা দেওয়ার মাত্র ৫ দিনের মধ্যেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এদের মধ্যে ৪৮ শতাংশ রোগীই মারা যান। ২৬ শতাংশ রোগী ভর্তি হয়েছিলেন উপসর্গ দেখা দেওয়ার ৫-১০ দিনের মধ্যে। এসব রোগীর মধ্যে ৩২ শতাংশ মারা যান। ১২ শতাংশ ভর্তি হন উপসর্গ শুরুর ১১-১৫ দিনের মধ্যে। এই রোগীদের মধ্যে ১২ শতাংশ রোগীকে বাঁচানো যায়নি। ২ শতাংশ রোগী ভর্তি হয়েছিলেন উপসর্গ দেখা দেওয়ার ১৬-২০ দিনের মধ্যে। এদের মধ্যে ২ শতাংশ রোগী মারা গেছেন। ২০ দিনের বেশি সময়ের মধ্যে উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন ৮ শতাংশ রোগী এবং এদের মধ্যে ৬ শতাংশ মারা গেছেন।
এবার হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যাও বেশি : ২৮ জানুয়ারি থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত তথ্য পর্যালোচনা করে আইইডিসিআর দেখেছে যে, এ সময় রোগীদের হাসপাতালে ভর্তির হার ছিল ৪৪ শতাংশ। অর্থাৎ এ সময় আক্রান্ত রোগীদের প্রায় বড় অংশ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বাকি ৩৩ শতাংশ রোগী প্রাতিষ্ঠানিক বা হোম আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
বেড়েছে নারী রোগীদের মৃত্যু : গত বছরের সর্বোচ্চ সংক্রমণের সময়ের চেয়ে এবার গত ১৮ দিনে নারীদের মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। গত বছরের জুলাই মাসে সর্বোচ্চ সংক্রমণের সময় নারী-পুরুষের মৃত্যু অনুপাত ছিল ১ ও ৩ দশমিক ৫। অর্থাৎ নারীর চেয়ে পুরুষের মৃত্যু সাড়ে তিন গুণ বেশি ছিল। সে মাসে নারী মারা গিয়েছিলেন ২২৬ জন ও পুরুষ ৯৮২ জন। এ বছরের এপ্রিলের ১৮ দিনে নারীদের মধ্যে মারা গেছেন ৪৫৭ জন ও পুরুষ ৮৮২ জন। অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১ ও এক দশমিক ২৩। অর্থাৎ নারীর চেয়ে পুরুষের মৃত্যু গত বছরের সাড়ে তিন গুণ থেকে কমে ২ গুণে এসে দাঁড়িয়েছে।
আবার সর্বোচ্চ রেকর্ড মৃত্যু : দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের চারশ সাত দিন অতিক্রম হয়েছে গতকাল রবিবার। এদিন দেশে এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর নতুন রেকর্ড হয়েছে। এদিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১০২ জন করোনা রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন, যা এক দিনে এ যাবৎ সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। এ নিয়ে গত তিন দিন টানা শতাধিক করে রোগীর মৃত্যু হলো। গত শুক্রবার প্রথমবারের মতো দৈনিক মৃত্যু একশ ছাড়ায়। ওইদিন ১০১ জন মৃত্যুর পরদিন গত শনিবারও সমান সংখ্যক রোগী মারা যান।
গত বছর প্রতি ৩২ মিনিটে একজনের মৃত্যু, এখন প্রতি ১৫ মিনিটে একজনের মৃত্যু : দেশে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ ক্রমেই ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। ইতিমধ্যেই দেশে প্রতি ১৫ মিনিটে একজন করে করোনা রোগী মারা যাচ্ছেন। গত পাঁচ দিন ধরেই এমনটা দেখা যাচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত পাঁচ দিন দেশে মোট ৪৯৪ জন করোনা রোগী মারা গেছেন। অর্থাৎ প্রতিদিন বা প্রতি ২৪ ঘণ্টায় গড়ে প্রায় ৯৯ জন করে রোগী মারা গেছেন। সে হিসাবে দেশে প্রতি ১৫ মিনিটে একজন এবং প্রতি ঘণ্টায় প্রায় চারজন করে রোগীর মৃত্যু হচ্ছে। এছাড়া প্রতি ঘণ্টায় চারজনের মধ্যে প্রায় তিনজনই মারা যাচ্ছে ঢাকা বিভাগে। গত পাঁচ দিনে মোট ৪৯৪ জনের মধ্যে শুধু ঢাকা বিভাগেই মারা গেছেন ৩৩১ জন, যা মোট মৃত্যুর ৬৭ শতাংশ। এ হিসেবে ঢাকায় প্রতিদিন বা প্রতি ২৪ ঘণ্টায় গড়ে ৬৬ জন এবং প্রতি ঘণ্টায় তিনজনের কাছাকাছি মানুষ মারা যাচ্ছেন।
গত বছর করোনার প্রথম ঢেউয়ের সময় এক সপ্তাহে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ওই বছরের ২৭তম সপ্তাহে। ২৯ জুন থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত এই সাত দিনে ৩১৪ জন করোনা রোগী মারা যায়। চলতি বছরের মার্চের শেষ অবধি দীর্ঘ প্রায় নয় মাস এটাই ছিল এক সপ্তাহে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। ওই সপ্তাহে গড়ে প্রতিদিন বা প্রতি ২৪ ঘণ্টায় মারা গিয়েছিল প্রায় ৪৫ জন করে। সে হিসাবে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় দুজন এবং প্রতি ৩২ মিনিটে একজনের মৃত্যু হয়েছিল। প্রথম ঢেউয়ের সেই সর্বোচ্চ মৃত্যু বর্তমান দ্বিতীয় ঢেউয়ে এসে দ্বিগুণ হয়েছে। এখন প্রতি ঘণ্টায় চারজন এবং প্রতি ১৫ মিনিটে একজনের মৃত্যু হচ্ছে।
বেড়েছে মানসিক সমস্যা : করোনা মহামারী নিয়ে আতঙ্ক, চিকিৎসা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা, মৃত্যুভয়, অর্থনৈতিক বিপর্যয়, বেকারত্বের কারণে মানসিক সমস্যা বেড়েছে বলেও জানিয়েছে আইইডিসিআর। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের জরিপের ফল তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে মানসিক রোগের হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। এর মধ্যে ছয় দশমিক সাত শতাংশের মধ্যে বিষণ্ণতা এবং চার দশমিক সাত শতাংশ মানুষ ভুগেছেন দুঃশ্চিন্তায়। কিন্তু কভিড মহামারীর সময় বাংলাদেশে পরিচালিত কয়েকটি গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রায় ৪৬ শতাংশের মধ্যে বিষণ্ণতা, ৩৩ শতাংশের মধ্যে দুশ্চিন্তার লক্ষণ পাওয়া গেছে।
তীব্রতার কারণ সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে : বর্তমানে রোগের তীব্রতার কারণ করোনার নতুন ভ্যারিয়ান্ট কি নাজানতে চাইলে ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, রোগের তীব্রতা করোনার ভ্যারিয়ান্টের কারণে হয়েছে কি না, সেটা জেনোম সিকোয়েন্সের সঙ্গে মিলিয়ে করতে হবে। সেটা করা হয়নি। রোগের তীব্রতা ভ্যারিয়ান্টের কারণে হতে পারে, আবার জানুয়ারি-এপ্রিলে আমরা যথেচ্ছ নানা রকম কর্মকান্ড করেছি, সে কারণেও হতে পারে। সংক্রমণ যত বেশি দ্রুত ছড়ায়, তত বেশি সিভিয়ার হয়, তত বেশি ভাইরাল লোড হয়, তত বেশি ভ্যারিয়ান্ট হওয়ার সুযোগ পায়।
এই বিশেষজ্ঞ বলেন, রোগের তীব্রতা বাড়ার প্রথম কারণ হলো সংক্রমণ যদি বাড়ে, তার সঙ্গে সবকিছুই বাড়তে থাকে। এবার অল্প সময়ে শনাক্ত প্রতিদিন পৌনে ৮ হাজার পর্যন্ত হয়েছিল। যত বেশি ভাইরাস জমা হয়, তত বেশি তাদের ক্ষতি করার ক্ষমতা বাড়ে। এর আগে এরকম হয়নি। সর্বোচ্চ দিনে ৪ হাজার পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছিল। অনেকগুলো ভাইরাস জমা হলে তাদের ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা বাড়ে। গত বছর সংক্রমণ ধীরে ধীরে বেড়েছে। হঠাৎ করে বাড়তে দেওয়া হয়নি। ২৬ মার্চ বিধিনিষেধ আরোপ করার কারণে সংক্রমণ দ্রুত ছড়াতে পারেনি।