বছরে ৪ লাখেরও বেশি বিও অব্যবহৃত থাকে

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে প্রয়োজন হয় বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাব। বিভিন্ন সিকিউরিটিজ লেনদেন করতে হলে প্রথমেই কোনো ব্রোকারেজ হাউজের মাধ্যমে বিও হিসাব খুলতে হয়। প্রতি বছরই লাখ লাখ বিও হিসাব খোলা হয়। তবে এরমধ্যে লেনদেনযোগ্য অন্তত ১৫ শতাংশ বা প্রায় ৪ লাখ বিও হিসাব কখনোই ব্যবহার হয় না। অথচ অব্যবহৃত এসব বিও খুলতে অন্তত ২০ কোটি টাকা ব্যয় করেন বিনিয়োগকারীরা। সিকিউরিটিজ রক্ষণাবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রাল ডিপজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। 

সিডিবিএলের গত ছয় বছরের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, প্রতি বছর যত বিও হিসাব থাকে তার মধ্যে অন্তত ৪ লাখ বিও হিসাব কখনোই ব্যবহৃত হয় না। কোনো কোনো বছর অব্যবহৃত বিও হিসাবের পরিমাণ আরও বেশি থাকে। ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত সিডিবিএলে বিও হিসাবের পরিমাণ ছিল ২৫ লাখ ৫৫ হাজার ৫১১টি, যার মধ্যে কখনোই ব্যবহার হয়নি এমন হিসাবের সংখ্যা ৪ লাখ ৮ হাজার ৪২৫টি। আগের বছর ২০১৯ সালে অব্যবহৃত বিও হিসাবের সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৩৯৭টি।

ঝোঁকের বশে কিংবা বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে বিও হিসাব খোলা হলেও পরবর্তী সময়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা নিয়ে দ্বিধায় পড়ে যান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এ কারণে বিও হিসাব খুললেও পরে এর ব্যবহার হয় না। ২০১৬ সালে সিডিবিএলে মোট বিও হিসাবের সংখ্যা ছিল ৩১ লাখ ৫৫ হাজার, যার মধ্যে অব্যবহৃত বিও ছিল ৪ লাখ ৩৮ হাজার। পরের বছর প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার বিও অব্যবহৃত থেকে যায়। ২০১৮ সালে ব্যবহার হয়নি ৪ লাখ ২৪ হাজার বিও। ২০১৫ সালে ৪ লাখ ৮৪ হাজার বিও ব্যবহার করেননি বিনিয়োগকারীরা। গত এক দশকে বিও হিসাব সবচেয়ে বেশি অব্যবহৃত ছিল ২০১১ সালে, সাড়ে ৬ লাখ। আর ২০১০ সালের পুঁজিবাজার ধসের বছরে অব্যবহৃত বিও হিসাব ছিল সাড়ে ৯ লাখেরও বেশি।

ব্রোকারেজ হাউজের মাধ্যমে একটি বিও হিসাব খুলতে অন্তত ৫০০ টাকা ফি দিতে হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে হাজার টাকা কিংবা কারও বেশি লাগে। জানা গেছে, প্রাইমারি মার্কেট চাঙ্গা থাকায় অনেক বিনিয়োগকারী একাধিক বিও হিসাব খুলে থাকেন। কেউ কেউ একাধিক বিও চালিয়ে নিতে পারলেও ব্যাংকিং জটিলতার কারণে অনেকেই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। আবার অনেক ব্যক্তি প্রভাবিত হয়ে বিও হিসাব খুললেও পরে ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় বিনিয়োগ থেকে বিরত থাকেন। বিও হিসাব অব্যবহৃত থাকার এটি একটি বড় কারণ।

এদিকে অব্যবহৃত বিও হিসাবের চেয়ে কোনো সিকিউরিটিজ না থাকা বিও হিসাবের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি। প্রতি বছর সিডিবিএল যে পরিমাণের বিও হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ করে, তার অধিকাংশই হয় শূন্য ব্যালেন্স কিংবা অব্যবহৃত থাকছে। ২০২০ সালে এমন ৯ লাখ ৫ হাজার বিও ছিল যেগুলোতে কোনো সিকিউরিটিজ ছিল না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব বিও খোলা হয় প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) শেয়ার পাওয়ার জন্য। যদি কখনো এসব হিসাবের মাধ্যমে শেয়ার পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির লেনদেন শুরুর কয়েকদিনের মধ্যেই তা বিক্রি করে দেওয়া হয়। ফলে অধিকাংশ সময়ই এসব বিও শূন্য ব্যালেন্সে থাকে। তবে সব বিওতে শেয়ারপ্রাপ্তিও ভাগ্যের বিষয়। গত কয়েক বছরে যেসব আইপিও এসেছে, তার সবগুলোতেই আবেদনের পরিমাণ কয়েকগুণ বেশি থাকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মার্কেট লটের চেয়ে ৫০ গুণেরও বেশি আবেদন জমা পড়ে।

২০১৯ সালে শূন্য ব্যালেন্স থাকা বিওর সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ৪০ হাজার। এর আগের চার বছরও শূন্য ব্যালেন্স থাকা বিও হিসাবের পরিমাণ ১০ থেকে ১২ লাখেরও বেশি ছিল।

২০১৮ সালের পর থেকে পুঁজিবাজারে অস্থিরতার কারণে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা যেমন কমেছে, তেমনি কমেছে শেয়ার থাকা বিও হিসাবের সংখ্যাও। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত এক দশকের মধ্যে ২০২০ সালে সবচেয়ে কম বিও ছিল। এ সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিও ছিল ২০১৫ সালে, ৩১ লাখ ৯৫ হাজার ৮৫২টি। পরের বছর থেকে বিও ধারাবাহিকভাবে কমতে শুরু করে, যা ২০২০ সালের জুনে এসে ২৫ লাখ ৫৫ হাজারে নামে। এ সময় শেয়ার থাকা বিওর পরিমাণ দাঁড়ায় ১২ লাখ ৪২ হাজারে। এটিও গত এক দশকে সর্বনিম্ন।