দেশে এক বছরেরও বেশি সময় করোনা পরিস্থিতি বিরাজমান থাকায় শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন লিমিটেডের আয় কিছুটা কমেছে। এতে করে চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) কোম্পানির নিট মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৭ শতাংশ কমেছে। গতকাল গ্রামীণফোন প্রথম প্রান্তিকের যে অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তা পর্যালোচনায় এমন তথ্য মিলেছে।
গ্রামীণফোন জানিয়েছে, ২০২১ সালের প্রথম তিন মাসে রাজস্ব আয় হয়েছে ৩ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ কম। টার্নওভার কমে যাওয়ায় কোম্পানিটির পরিচালন মুনাফাও কমে গেছে। চলতি প্রথম প্রান্তিকে গ্রামীণফোনের পরিচালন মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ৬১৯ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ কম। ২০২০ সালের প্রথম প্রান্তিকে পরিচালন মুনাফা ছিল ১ হাজার ৭০৩ কোটি টাকা।
২০২০ সালের প্রথম প্রান্তিকে বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনে ৮০ কোটি টাকা লাভ হলেও চলতি বছরের একই সময়ে তা অনেকটা কমে গেছে। তবে চলতি বছর সুদ পরিশোধ ব্যয় কিছুটা কমেছে। সুদ পরিশোধ ও বৈদেশিক মুদ্রার লাভ সমন্বয় শেষে চলতি প্রথম প্রান্তিকে গ্রামীণফোনের করপূর্ববর্তী মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৬৬ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৭২৩ কোটি টাকা।
চলতি প্রথম প্রান্তিকে কর পরিশোধের পর গ্রামীণফোনের নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৮৯০ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৬৯ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে চলতি প্রথম প্রান্তিকে নিট মুনাফা কমেছে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ। চলতি প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৬ টাকা ৬০ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৭ টাকা ৯২ পয়সা।
গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান বলেন, ২০২১ সালের প্রথম তিন মাসে বেশ কয়েকটি মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত নিলামে ১০ দশমিক ৪ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম অধিগ্রহণ করার ফলে গ্রামীণফোনের মোট স্পেকট্রামের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৭ দশমিক ৪ মেগাহার্টজ। প্রথম প্রান্তিকে ১৭ লাখ নতুন গ্রাহক নিয়ে আমরা ৮ কোটি গ্রাহকের মাইলফলক অর্জন করেছি। একইসঙ্গে ৫০ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে আমাদের ফোরজি গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ।
ইয়াসির আজমান বলেন, ‘বাজার পরিচালন, উদ্ভাবন, সহজ সেবা ও গ্রাহক স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়ে আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করছি এবং গ্রাহকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারের পরিবেশ তৈরিতে আমাদের প্রযুক্তিগত উন্নয়নে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। বাংলাদেশের কভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে আমরাও ক্রমবর্ধমান নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছি। বৈশ্বিক মহামাররি ক্ষতি থেকে পুনরুদ্ধারে আমরা সহযোগিতামূলক সমাধান নিয়ে আসার ক্ষেত্রে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব। একইসঙ্গে, আমরা আমাদের সেবার পরিধি সমৃদ্ধ করে যাব এবং দেশের প্রবৃদ্ধি ও ডিজিটালাইজেশনের যাত্রায় নিরলস কাজ করব।’
গ্রামীণফোন জানিয়েছে, চলতি প্রথম প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটি ১৭ লাখ নতুন গ্রাহক অর্জনে সফল হয়েছে। এর ফলে বছরপ্রতি ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে এ প্রান্তিক শেষে গ্রামীণফোনের মোট গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ৭ লাখ। এর মধ্যে ৪ কোটি ১৭ লাখ গ্রাহক অর্থাৎ মোট গ্রাহকের ৫১ দশমিক ৭ শতাংশ ইন্টারনেট সেবা ব্যবহারকারী।
গ্রামীণফোনের সিএফও ইয়েন্স বেকার বলেন, ‘প্রথম প্রান্তিকে আগের বছরের তুলনায় সবচেয়ে বেশি গ্রাহক অর্জন এবং ডেটা ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে আমরা ভালোভাবে ২০২১ সাল শুরু করেছি। বাংলাদেশে কভিড সংক্রমণের এক বছর হয়ে গিয়েছে এবং সংক্রমণের হার ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে; যার ফলে, সরকার বর্তমানে বিধিনিষেধমূলক কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ‘এ প্রান্তিকের শেষভাগে আমাদের মোট রাজস্বে আগের বছরের তুলনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
২০২১ সালের প্রথম প্রান্তিকে গ্রামীণফোন নেটওয়ার্ক উন্নয়নে বিনিয়োগ করেছে ৩৬১ কোটি টাকা (লাইসেন্স ও লিজ ছাড়া)। গ্রামীণফোনের মোট সাইটের সংখ্যা ১৬ হাজার ৮৫২টি। প্রতিষ্ঠানটি কর, ভ্যাট, ডিউটি, ফি, ফোরজি লাইসেন্স এবং তরঙ্গ বরাদ্দ ফি বাবদ ২ হাজার ৭৩২ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানের মোট রাজস্বের ৭৮.৫ শতাংশ।