অভিযুক্তদের নিয়ে জেলে চলে যাব, বিনিময়ে লকডাউন তুলে নিন: বাবুনগরী

হেফাজতে ইসলামের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘দেশের নিম্ন আয়ের গরিব মানুষকে আর হয়রানি ও কষ্ট না দিয়ে আমার কাছে তালিকাটা পাঠান, আমি অভিযুক্তদের নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে জেলে চলে যাব, একজন পুলিশও পাঠাতে হবে না। এর বিনিময়ে আপনারা লকডাউন তুলে নিন। লকডাউনের অজুহাতে জোর-জবরদস্তি করে যেসব মাদ্রাসা ও হেফজখানা বন্ধ করে কোরআন-হাদিসের চর্চা বন্ধ করে দিয়েছেন, ওগুলো খুলে দিন। যাতে কোরআন-হাদিসের ব্যাপক চর্চার বরকতে দেশের ওপর আল্লাহর রহমত নাজিল হয়’।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘সারা বছরের মধ্যে পবিত্র মাহে রমজান মুসলমানদের জন্য আমল করার সেরা সময়। আল্লাহর কাছে আনুগত্য ও গোলামি প্রকাশ করা এবং নেক বৃদ্ধির জন্য গুনাহগার বান্দার আপন সত্তা ও অহং বিলীন করার মাস এই মাহে রমজান’।

হেফাজত আমির বলেন, ‘রাসুল (সা.) বলেছেন, মাহে রমজান হলো সাহায্য-সহানুভূতির মাস। বাকি এগারো মাসের তুলনায় রমজান মাসে সব ধরনের ইবাদত-বন্দেগির ফজিলত অনেক গুণ বেশি। অথচ এই মাসেই বাংলাদেশে জুলুম, গ্রেপ্তার, নির্যাতন চালানো হচ্ছে শত শত হেফাজত নেতাকর্মী, আলেম ওলামা, ছাত্র ও তৌহিদী জনতার ওপর’।

তিনি বলেন, ‘দেশের প্রধানমন্ত্রী যখন করোনা পরিস্থিতির কারণে নিজ গৃহে বন্দী জীবন-যাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন, তখন জুলুম চলছে মসজিদ, মাদ্রাসা, হিফজখানা ও এসব প্রতিষ্ঠানের হেফাজতকারীদের ওপর। রমজানের এই পবিত্র মাসে ফিতনা-ফ্যাসাদ এবং প্রতিহিংসা পরিহার করার শিক্ষা যখন ইসলাম আমাদের দেয়, তখন সরকার ইসলাম প্রচারকদের বন্দী করে রিমান্ডে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন করছে। আমার এ সব সহকর্মী হজরতগণ হাজতের নোংরা পরিবেশে স্বাচ্ছন্দ্যে গোসল করতে, অজু করতে, নামাজ আদায় করতে, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করতে, সাহরি খেতে ও ইফতার করতে পারছেন না। এসব জুলুম, বর্বরতা, মানবতার অপমান দেখে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন নাখোশ হবেন’।

বিবৃতিতে তিনি মন্তব্য করেন, ‘গণপ্রতিরোধ ও প্রতিবাদ ছাড়া সহজে আলেম-ওলামাদের গ্রেপ্তারের জন্য লকডাউন আরো এক সাপ্তাহ বাড়িয়ে সরকার সমগ্র দেশবাসীকে কষ্ট দিচ্ছে’।

বাবুনগরী বলেন, ‘হেফাজতে ইসলামীর আন্দোলন সব সময় শান্তিপূর্ণ ছিল এবং ভবিষ্যতেও তাই থাকবে। বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ করা দেশবাসীর সাংবিধানিক অধিকার। কোনো সরকারই জনগণের এ মৌলিক অধিকার কেড়ে নিতে পারে না। কথিত ‘তাণ্ডব ও ভাঙচুর’র অভিযোগে সারা দেশে গত আট বছরে যত মামলা হয়েছে, তার সবই অবৈধ, ষড়যন্ত্রমূলক ও মিথ্যা। বিনা শর্তে ষড়যন্ত্রমূলক এসব মিথ্যা মামলা বাতিল করুন, কারাবন্দী সব আলেম-ওলামাদের মুক্তি দিন’।

হেফাজত আমির বলেন, ‘এ রমজান মাসে রিমান্ডে নেয়া আলেম-ওলামাদের বিধর্মী এবং অবিশ্বাসীদের দিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করাবেন না। তারা এই সব হজরতদের সঙ্গে খুবই নিষ্ঠুর ও অপমানজনক আচরণ করছে’।