আঠা দিয়ে জোড়ার প্রমাণ মেলেনি: জানা গেল না লিচু গাছে আমের রহস্য

ঠাকুরগাঁওয়ে লিচু গাছের আমের রহস্য অজানাই থেকে গেল। বৃস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের তদন্ত কমিটি গবেষণার জন্য কোনো উপাত্ত না পেয়ে এক বছরের জন্য গাছটি সংরক্ষণ করতে বলেছেন এর মালিক আব্দুর রহমানকে।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন গাছটি পরিদর্শন করে বলেন, কয়েকদিন ধরে ভাইরাল হওয়া লিচু গাছের আমটি ছিঁড়ে ফেলা হয়। এমন সংবাদে জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিমের নির্দেশে কৃষি বিভাগের প্রতিনিধি নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। গাছের মালিক দাবি করেন, ইউপি সদস্যের লোকজন আমটি ছিঁড়ে ফেলেছে। কিন্তু আমটি ছিঁড়ে ফেলার বিষয়ে ইউপি সদস্য সিকিমের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, অনেকে বলছেন আমটি আঠার সাহায্যে লাগানো হয়েছে। তারও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। গবেষণা সমাপ্ত না হওয়ার আগেই ফলটি ছিঁড়ে ফেলার কারণে কোনো কিছু বলা যাচ্ছে না। যেহেতু কৃত্রিমভাবে আমটি গাছের ডালে জোড়া লাগানোর কোনো প্রমাণ নেই, সেহেতু এখন পযর্ন্ত প্রাকৃতিক হিসেবে মানতে হচ্ছে। তবে পরীক্ষা চলমান রয়েছে। আসল রহস্য জানার জন্য। সেই সঙ্গে গাছের মালিককে আগামী বছর ফল আসা পর্যন্ত গাছটি সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু হোসেন বলেন, প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে একাধিকবার পর্যবেক্ষণ করেছি। প্রথমে দেখে মনে হচ্ছে সত্যি লিচু গাছে আম। কিন্তু আসল রহস্য আর জানা হলো না। কে বা কারা আমটি ছিঁড়ে ফেলেছে এমন সংবাদের পর আবারও প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে পর্যবেক্ষণ করেছি। ফলটি আকার আকৃতি দেখার জন্য সাত দিন অপেক্ষা পর্যবেক্ষণে রেখেছিলাম। কিন্তু তিন দিনেই রহস্যজনকভাবে ফলটি গাছ থেকে মাটিতে পড়ে গেল। ধারণা করা হচ্ছে কোনো কিছু দিয়ে লিচু গাছের ডালে লাগানো হয়েছিল। কিন্তু সঠিক কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় নাটকও বলতে পারছি না। এখন প্রকৃত রহস্য জানার জন্য অপেক্ষা আগামী বছর ফল আসা পর্যন্ত।

গাছের মালিক আব্দুর রহমান বলেন, আমি গরীর মানুষ আমার বাড়িতে এত বড় ঘটনা এলাকার কিছু মানুষ মেনে নিতে পারছিল না। তাই ফলটি ছিঁড়ে ফেলেছে। কে কী মনে করে করুক আমি বিশ্বাস করি আল্লাহ আমাকে দিয়েছিল আমি রক্ষা করতে পারিনি। যারা এমন কাণ্ড করেছেন আল্লাহ তাদের বিচার করবে।