চলতি সপ্তাহে জার্মানির রাজনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেলের উত্তরসূরি নির্বাচনে প্রধান দুই দল তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। আগামী সেপ্টেম্বরে এ নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনীতি থেকে বিদায় নেবেন মের্কেল।
বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, মের্কেলের ১৬ বছরের শাসনামলে জার্মানি ইউরোপের সবচেয়ে বড় এবং বিশ্বের তৃতীয় বৃহৎ অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়। রাজনীতিতে ফিরে আসে স্থিতিশীলতা। তবে তার অবর্তমানে জার্মানি এক অনিশ্চিত যুগে প্রবেশ করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইতিমধ্যে জার্মানির রাজনীতিতে তার আলামত দেখা দিয়েছে। চ্যান্সেলর পদে প্রার্থিতা নিয়ে রক্ষণশীলদের সিডিইউ-সিএসইউ জোটে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। জোটের শরিক বেভেরিয়া সিস্টার পার্টির (সিএসইউ) নেতা মার্কোস সোয়েডার হঠাৎ করে নিজেকে চ্যান্সেলর পদে জোটের প্রার্থী ঘোষণা করেন। এরপর জোটের টানাপড়েন প্রকট হয়, যা স্বয়ং মের্কেলের হস্তক্ষেপেও সুরাহা হয়নি। যদিও শেষ পর্যন্ত সিডিইউর প্রধান আরমিন ল্যাশেটই পদটিতে জোটের প্রার্থী হিসেবে লড়ার মনোনয়ন পেয়েছেন।
এদিকে ল্যাশেটের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এবার জার্মানির গ্রিন পার্টি থেকে লড়বেন অ্যানেলা বায়েরবকস। মনোনয়ন নিশ্চিতের পর অ্যানেলা বলেন, ‘আমাদের দলের নতুন অধ্যায় শুরু হলো। দেশের জন্যই আমাকে বিজয়ী হতে হবে।’ তিনি ক্ষমতাসীন জোটের চলমান সংকট, করোনা ও জলবায়ু ইস্যু কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চান।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মের্কেলের নেতৃত্ব সিডিইউ-সিএসইউ দীর্ঘ ১৬ বছর জার্মানির ক্ষমতায় রয়েছে। এ সময়ে মের্র্কেল তার ক্যারিশমেটিক নেতৃত্বর মাধ্যমে জোট ও দেশের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে সমর্থ হয়েছেন। যদিও করোনা মহামারী তাকে শেষ সময়ে এসে মাথা নিচু করতে বাধ্য করছে। কারণ দেশটিতে বর্তমানে করোনার তৃতীয় ঢেউ চলছে এবং ইতিমধ্যে ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে।
মের্কেলের উত্তরসূরি হিসেবে ল্যাশেটই চ্যান্সেলর পদে সাধারণ পছন্দ মনে করা হলেও জার্মানির করোনা মহামারী ব্যবস্থাপনা নিয়ে সিডিইউর ব্যর্থতা সোয়েডারকে জনপ্রিয় করে তোলে। এআরডির সাম্প্রতিক জরিপেও বলা হয়, জার্মানির ৪৪ শতাংশ মানুষ জোট থেকে চ্যান্সেলর পদে সোয়েডারকে সমর্থন করছেন। বিপরীতে মাত্র ১৫ শতাংশ মানুষের সমর্থন রয়েছে ল্যাশেটের পক্ষে।
এদিকে মঙ্গলবার এক সর্বশেষ জরিপে অ্যানেলার গ্রিন পার্টি ২৮ পয়েন্ট পেয়েছে। এর ফলে তিনি রক্ষণশীলদের জোট থেকে ৭ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে গেলেন। আঞ্চলিক পর্যায়ে ১৬ আসনের অর্ধেকে এখনো গ্রিন পার্টি বিজয়ী রয়েছে। তরুণ ভোটাররা চাইছেন ইউরোপের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি গ্রিন পার্টির হাতেই রাখতে। কিন্তু বাস্তবে মের্কেলের গড়া টেকসই অর্থনীতির ধারা নতুন নেতৃত্ব ধরে রাখতে পারবেন কি না তা নিয়ে খোদ দেশটির অর্থনীতিবিদদের মধ্যেই সংশয় রয়েছে।