ডিএনসিসির হাসপাতালে এখনো জনবল সংকট

রাজধানীর মহাখালীতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) কভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে ৭ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসিরউদ্দিন এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। তিনি আরও বলেন, জনবল সংকট থাকায় আরও রোগী আসতে শুরু করলে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হবে।

দেশের সর্ববৃহৎ এই করোনা হাসপাতালটি চালুর পর থেকে গত চার দিনে চিকিৎসাধীন ২০ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রসহ (আইসিইউ) ২১২টি শয্যা আছে। এর মধ্যে ১১২টি আইসিইউ এবং ১০০টি এইচডিইউ (হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিট)। বিশেষ সুবিধাসহ ২৫০টি শয্যা আছে। এ শয্যাগুলোয় কেন্দ্রীয়ভাবে অক্সিজেন দেওয়ার এবং হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলার সুবিধা আছে। এ ছাড়া ডেডিকেটেড ৪৮৮টি শয্যা আছে। এ শয্যাগুলোয় সিলিন্ডার ও অক্সিজেনের ব্যবস্থা আছে। আর ডায়ালাইসিস সুবিধাসহ চারটি শয্যা আছে। হাসপাতাল পরিচালনার জন্য ৫০০ চিকিৎসক, ৭০০ নার্স ও ৭০০ স্টাফ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে চাওয়া হয়েছে।

হাসপাতালটির পরিচালক নাসিরউদ্দিন বলেন, চতুর্থ দিন পর্যন্ত আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ৯০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালটিতে সাত রোগীর মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়াদের মধ্যে তিনজন ঢাকার এবং চারজন ঢাকার বাইরে থেকে আসা রোগী। যারা এই হাসপাতালে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন, তাদের অধিকাংশের বয়স ৬৫ থেকে ৭৫ বছরের মধ্যে। রোগীর চাপ অনেক বেশি আছে। রাজধানীসহ সারা দেশের করোনা রোগীরা এই হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসছেন। সব রোগী এখানে আসতে শুরু করলে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘এক হাজার শয্যার হাসপাতালে ২৫০টি শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছি। এ মাসের মধ্যেই এক হাজার শয্যা চালু করতে চাই। কিন্তু জনবল না পেলে সেটা সম্ভব হবে না। হাসপাতাল চালু হওয়ার পর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালসহ ঢাকার বাইরে থেকে অনেক রোগী আসছেন। তবে আমরা বাইরের জেলাগুলো থেকে আসা রোগীদেরই অগ্রাধিকার দিচ্ছি। আর যারা ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি, ট্রান্সফার হয়ে এই হাসপাতালে আসছেন, তাদের নিরুৎসাহিত করছি।’