ভারতে করোনা মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউ বিধ্বংসী রূপ নিয়েছে। দেশটিতে দৈনিক করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুতে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে গেছে। করোনাভাইরাস মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকে প্রথমবারের মতো একদিনে ৩ লাখেরও বেশি রোগী শনাক্তের বিশ্বরেকর্ড হয়েছে দেশটিতে। ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ২ হাজার ১০৪ জন মারা গেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকালের আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে ৩ লাখ ১৪ হাজার ৮৩৫ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, এর আগে একদিনে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্তের বিশ্বরেকর্ড হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে। জানুয়ারিতে দেশটি একদিনে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৯৭ হাজার ৪৩০ জন রোগী শনাক্তের কথা জানিয়েছিল। এবার তা ছাড়িয়ে গেল ভারত।
ভারত সরকারের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৫৯ লাখ ৩০ হাজার ৯৬৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত ভারতে করোনায় মারা গেছেন ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৫৭ জন।
বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পরেই রয়েছে ভারত। ভারতের পর রয়েছে ব্রাজিল। সংক্রমণের দিক দিয়ে সম্প্রতি ব্রাজিলকে টপকে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসে ভারত।
১৫ এপ্রিল থেকে ভারতে প্রতিদিন ২ লাখের বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়ে আসছিল। কিন্তু গত ২৪ ঘণ্টায় প্রথমবারের মতো একদিনে নতুন করোনা রোগী শনাক্তের ক্ষেত্রে ৩ লাখের ‘মাইলফলক’ অতিক্রম করল ভারত।
গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে সবচেয়ে বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি, কর্ণাটক ও কেরালায়। মহারাষ্ট্রে শনাক্ত হয়েছে ৬৭ হাজার ৪৬৮ জন। উত্তরপ্রদেশে শনাক্ত হয়েছে ৩৩ হাজার ১০৬ জন। দিল্লিতে ২৪ হাজার ৬৩৮ জন। কর্ণাটকে ২৩ হাজার ৫৫৮ জন। আর কেরালায় ২২ হাজার ৪১৪ জন।
করোনা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতির মুখে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে রাত্রিকালীন কারফিউসহ বিভিন্ন কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। পাশাপাশি টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
ভারতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ গত ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুর দিকে আরম্ভ হয় বলে জানায় বিবিসি। ভারতের বর্তমান গুরুতর করোনা পরিস্থিতির জন্য বড় ধরনের ধর্মীয় জমায়েত, কড়াকড়ি শিথিল, অধিকাংশ জনসমাগমস্থল চালু, নির্বাচনী সভা-সমাবেশ প্রভৃতির মতো বিষয়গুলোকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।
দেশটির বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এখন পিক বা চূড়ায় উপনীত হয়নি। ফলে দেশটিতে করোনার সংক্রমণ আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। করোনার এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা কবে নাগাদ নিম্নমুখী হতে পারে, সে সম্পর্কে দেশটির বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না।
করোনার সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করা ভারত তার সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। অক্সিজেন, ওষুধ, হাসপাতালে শয্যার সংকটসহ নানা সমস্যায় দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।