শত বছর আগে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় অটোমান তুর্কিদের হাতে আর্মেনীয় জনগোষ্ঠীর নির্বিচারে প্রাণ হারানোর ঘটনাকে ‘গণহত্যার’ স্বীকৃতি দিতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এই পরিকল্পনার কথা তিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানকে জানিয়েছেন।
ব্লুমবার্গ এবং রয়টার্স নিউজ শুক্রবার আলাদা প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এরদোয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় বাইডেন প্রসঙ্গটি সামনে আনেন।
গত জানুয়ারিতে বাইডেন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করার পর এই প্রথম দুই নেতা কথা বললেন।
বাইডেন আজ-কালের ভেতর এ বিষয়ে একটা ঘোষণা দিতে পারেন বলে শুক্রবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র জেলিনা পোর্টার। তিনি বলেন, ‘আর্মেনিয়ান গণহত্যার বিষয়ে আগামী কাল ঘোষণা আসতে পারে।’
১৯১৫ থেকে ১৯১৭ সাল পর্যন্ত অটোমান সাম্রাজ্যে প্রায় ১৫ লাখ আর্মেনিয়ান প্রাণ হারান। বাইডেনই প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যিনি বিষয়টিকে ‘গণহত্যার’ স্বীকৃতি বিষয়ে কথা বললেন।
তুর্কিরা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ওই ঘটনার বিষয়ে দায় স্বীকার করলেও ‘গণহত্যা’ বলতে নারাজ।
১৯১৫ সালের ২৪ এপ্রিল অটোমান সরকারের শত্রু বলে সন্দেহে আর্মেনীয় সম্প্রদায়ের কয়েক শ নেতা ও বুদ্ধিজীবীকে কনস্টান্টিনোপলে (বর্তমান ইস্তাম্বুল) বন্দী করা হয়। পরবর্তী সময়ে তাদের বেশির ভাগকেই হত্যা ও নির্বাসিত করা হয়। আর্মেনীয়রা ২৪ এপ্রিল দিনটিকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।
আর্মেনীয়রা দীর্ঘদিন থেকে ওই হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যা বলে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের জন্য চাপ দিয়ে আসছে। আর্মেনিয়ার বৈদেশিক নীতির মূল লক্ষ্যই এটা। তবে কিছু বিশ্লেষকের মতে, এটি তুরস্কের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় এবং সম্ভাব্য ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারের অধিকার লাভের কৌশলের অংশ।