কবে শুরু হলো আকাশছোঁয়া ভবন নির্মাণ

১৮৭০ সালে প্রথমবারের মতো সুউচ্চ ভবন নির্মিত হয় নিউ ইয়র্কে। সাত তলার ইকুইটেবল লাইফ অ্যাসিওরেন্স বিল্ডিংয়ে প্রথমবারের মতো দেওয়া হলো লিফটের সুবিধা। এরপরে আমেরিকাজুড়ে নির্মিত হয়েছে অসংখ্য আকাশছোঁয়া ভবন, এসেছে প্রযুক্তিতে পরিবর্তন। বহুতল ভবনের ইতিহাস নিয়ে লিখেছেন মুমিতুল মিম্মা 

প্রথম বহুতল ভবন

১৮৭০ সালে নি উইয়র্কের ম্যানহাটনে স্থাপন করা হয় বহুতল ভবন ইকুইটেবল লাইফ অ্যাসিওরেন্স বিল্ডিং। মাত্র সাত তলা উচ্চতা বিশিষ্ট ভবনের এই প্রকল্পের পেছনে ছিলেন ইকুইটেবল সভাপতি হেনরি বল্ডউইন হাইড। এর নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৮৬৮ সালে এবং শেষ হয় ১৮৭০ সালে। ঊনিশ শতকের যে সময়ে এই বিল্ডিং বানানো হয়েছিল সে সময়ে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন বিল্ডিংয়ের কথা ভাবাই যেত না। কিন্তু ইনসিওরেন্স কোম্পানি হওয়ার সুবাদে ব্যবসায়ী হেনরি বল্ডউইন হাইড টাকার কথা ভাবেননি। তার একমাত্র চিন্তা ছিল কোম্পানির সদর দপ্তর হবে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন। ইকুইটেবল ভবন বিশ্বের প্রথম অফিশিয়াল ভবন যেখানে যাত্রীরা লিফটের সাহায্যে ওঠানামা করতে পারতেন।

১৮৭০ সালে যখন নিউ ইয়র্কের ইকুইটেবল লাইফ বিল্ডিং উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়, তখন এই প্রকল্পের পেছনের ব্যবসায়ী হেনরি বল্ডউইন হাইডকে জাঁকজমকের পেছনে অতিরিক্ত খরচের জন্য বেশ সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল। তখনকার সময়ে এই বিল্ডিংয়ের পেছনে ব্যয় হয়েছিল চার মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। যার বর্তমান অর্থমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৮১ মিলিয়ন ডলার। ১৮৬৯ সালে তৈরি হওয়া একটি বীমা কোম্পানি এক বছরের মাথায় তাদের সদর দপ্তরের জন্য এই পরিমাণ অর্থব্যয়ের সাহস দেখাবে– এই খবর ছিল সে সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে অনেক বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। ভবনটির মূল ডিজাইন করেছিলেন আর্থার গিলম্যান এবং অ্যাডওয়ার্ড এইচ কেন্ডাল, পরামর্শক হিসেবে ছিলেন প্রকৌশলী জর্জ বি। ইকুইটেবল লাইফ বিল্ডিং তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছিল ইট, গ্রানাইট ও লোহা। সাত তলা ও দুটি বেসমেন্ট নিয়ে নির্মিত হয়েছিল মূল কাঠামো। এর উচ্চতা ছিল কমপক্ষে ১৩০ ফুট (৪০ মিটার)। ১৮৮৫ সালে বিল্ডিং সম্প্রসারণ করা হলে নয় তলা ভবনের মোট উচ্চতা দাঁড়ায় ১৫৫ ফুট (৪৭ মিটার)।

আমেরিকায় উঁচু দালানের বিকাশ

সুউচ্চ বিল্ডিং নির্মাণ আমেরিকায় শুরু হয়েছিল। যদিও ইকুইটেবল লাইফ বিল্ডিং বিশ্বের প্রথম আকাশচুম্বী ভবন ছিল কি না তা নিয়ে ইতিহাসবিদদের ভেতরে মতভেদ রয়েছে। কারণ  বর্তমানের সংজ্ঞানুসারে, সাধারণত ১৫০ মিটার বা ৪৯২ ফুটের বেশি লম্বা কাঠামোকে সুউচ্চ ভবন বোঝায়। ঊনবিংশ শতাব্দীতে সুউচ্চ দালানের কোনো আনুষ্ঠানিক সংজ্ঞা ছিল না। কিন্তু ইতিহাস বরাবরই নতুন সংজ্ঞা তৈরি করে। সুতরাং, ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে ইকুইটেবল লাইফ বিল্ডিংকে ঠিক দূরে ঠেলা যায় না।

নিউ ইয়র্কের স্কাইস্ক্র্যাপার মিউজিয়ামের পরিচালক ক্যারল উইলিস বলেন, ১৮০০-এর দশকের শেষের দিকে শিল্পায়নের ফলে শহুরে জনসংখ্যা বেড়ে গিয়েছিল। ফলে স্বাভাবিকভাবেই জমির দাম বেড়ে যায়। যার ফলে সুউচ্চ ভবন নির্মাণ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যয়সাপেক্ষ হয়ে ওঠে। তিনি জানান, ‘খুব প্রথম লম্বা ভবন হিসেবে নিউ ইয়র্ক ট্রিবিউন বা ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন বিল্ডিংয়ের মতো সংবাদপত্র ভবন ও অন্যান্য সদর দপ্তর ছিল। অফিসগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যেন দক্ষ জনশক্তিকে খুব সহজে ব্যবহার করা যায়, ব্যবসাকে খুব সহজ কার্যকর করে তোলা যায়।’  বিংশ শতাব্দীর পালা শেষ হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে সুউচ্চ বিল্ডিং তৈরির হার বেড়ে গেল। নিউ ইয়র্কে ১৯০৮ থেকে ১৯৩১ সালের মধ্যে বিশ্বের উচ্চতম ভবনের রেকর্ড ছয়বার ভাঙে। যেন এক নিউ ইয়র্কই তাদের রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড গড়বে। ৬১২ ফুট সিঙ্গার বিল্ডিং থেকে তৈরি হয় দ্বিগুণের বেশি উচ্চতাসম্পন্ন ১,২৫০ ফুট এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং। 

স্থাপত্যের উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে বিকশিত হয়েছিল প্রকৌশল। কংক্রিটের পিলারের পরিবর্তে এলো ইস্পাতের ফ্রেম। সহজে নির্মাণযোগ্য ও এটির সরল কাঠামো বিল্ডিংয়ের অনেক বেশি ভর নিতে সক্ষম। ওদিক দিয়ে চলাচলকে সুবিধা দিতে এলো লিফট। ফলে উঁচুতলায় বসবাস করা কোনো সমস্যাই হয়ে উঠল না।

ক্যারল উইলিস বলেন, ‘যতক্ষণ না এমন একটি মেশিন ছিল যা কাউকে একতলা থেকে ষষ্ঠ তলার ওপরে কোথাও নিয়ে যেতে পারত, ততক্ষণ পর্যন্ত মানুষ তাদের পায়ের ওপরে ভীষণভাবে নির্ভরশীল ছিল। ফলে মানুষের পেশিশক্তির ওপরে নির্ভর করে উচ্চতার সীমানা নির্ধারিত হতো। তিনি আরও বলেন, ‘লিফট যেন আকাশের দিকে দৌড়কে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে।’ বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে নির্মিত ভবনগুলো যেন এক একটি মাইলফলক। কারণ প্রযুক্তি তখনো উল্লেখযোগ্যভাবে বিকশিত হয়নি। স্থপতি ও প্রকৌশলীদের অনেক সীমাবদ্ধতার ভেতরে কাজ করতে হতো। তখনকার বেশিরভাগ স্থাপত্য তৎকালীন প্রযুক্তিকে পরিবর্তনের পথে হাঁটতে বাধ্য করেছে।

চীন

সিটিবিইউএইচ-এর তথ্য থেকে দেখা যায় যে, গত বছর ২০০ মিটার উঁচু মোট ভবনের অর্ধেকের বেশি নির্মাণ করেছে চীন। অপরদিকে অন্য যে কোনো শহরের চেয়ে বেশি নতুন আকাশচুম্বী ভবন নির্মাণ সম্পন্ন করেছে দুবাই।  এটি সম্ভব হয়েছে এশিয়ার দেশগুলোতে ভবন নির্মাণ ব্যয় কম থাকার কারণে। কারণ তাদের শ্রমিকদের বেশিরভাগই আসে এশিয়ার দেশগুলো থেকে। শ্রমিকদের প্রদেয় বেতন কমে গেলে মূল ভবন নির্মাণ অনেকাংশেই কমে আসে। একই সঙ্গে আকাশ ছোঁয়া ভবনে বিনিয়োগ করা হলে খুব দ্রুত লভ্যাংশের দেখা পাওয়া যায় বলে অনেকেই বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। সবমিলিয়ে ব্র্যান্ডিংও অনেক ক্ষেত্রে আকাশছোঁয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। হংকংয়ে জমির পরিমাণ কম থাকায় জমির দাম খুবই বেশি। হংকংয়ের স্থপতি সাইমন চ্যান ব্যাখ্যা করেন, ‘হংকংয়ে জমি খুব কম, তাই সেখানে উঁচুতে যাওয়াই প্রায় একমাত্র সমাধান।’

তবে বিশ্বজুড়ে চলা করোনা মহামারীর ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দার জন্য নতুন করে নির্মিত আকাশচুম্বী ভবনের সংখ্যা ২০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

দুবাই

দুবাইয়ে ৯০০-এর বেশি সুউচ্চ টাওয়ার রয়েছে। যেগুলোর ভেতরে বেশিরভাগই তৈরি হয়েছে গত চল্লিশ বছরে। দুবাইয়ের বুকে প্রথম সুউচ্চ দালান নির্মিত হয় ১৯৭৯ সালে। ৩৯ তলার সেই বিল্ডিংয়ের নাম দেওয়া হয় দুবাই ট্রেড সেন্টার। মরুভূমির ভেতরে এই সুউচ্চ ভবন কী করবে সেই প্রশ্নের জবাব খুঁজছিলেন সবাই। কিন্তু আয়োজকরা সেই প্রশ্নের জবাব দিতে যাননি। রানী এলিজাবেথের হাত দিয়ে রাজকীয় উদ্বোধন করা হয়েছিল দুবাই ট্রেড সেন্টারের।

বিল্ডিংয়ের মূল ডিজাইন তৈরি করেছিলেন স্থপতি জন হ্যারিস এবং মূল প্রকৌশলী ও পরামর্শক ছিলেন গরডেন হিল্ড। তৎকালীন শাসক শেখ রাশিদ তেলভিত্তিক অর্থনীতিকে জোরদার করার জন্য এই টাওয়ার বানিয়েছিলেন। শুরুতে ৩৩ তলা বানানো হলেও একসময় গুজব ওঠে সুউচ্চ এই দালান হেলে পড়ছে। সেই গুজবের জবাব দিতেই যেন দালানের উচ্চতা আরও বাড়ানোর পরামর্শ দেন শেখ রাশিদ। ফলে ৩৩ তলার দালান হয়ে দাঁড়াল ৩৯ তলা।

এর বহু বছর পরে, যখন ১৬৩ তলা বুর্জ খলিফা দুবাইয়ের আকাশ ছোঁয়ার বাসনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল তখন কেউ কেউ এটিকেও অত্যধিক ব্যয়বহুল বিনিয়োগ হিসেবে দেখেছিল। কিন্তু আকাশছোঁয়া ভবনের ইতিহাস কেবল অর্থনীতি বা প্রযুক্তির বিষয় নয়। এই আকাশচুম্বী ভবনগুলো এখন দেশে দেশে নতুন রেকর্ড গড়েছে। নতুন এক একটি ভবন তাদের জাতীয়তার অহংবোধের জানান দিচ্ছে।  দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা ২০১০ সালে উদ্বোধনের আগে বুর্জ দুবাই নামে পরিচিত ছিল। ১৬৩ তলা এই ভবনের মোট উচ্চতা ৮২৯.৮ মিটার (২৭২২ ফুট)। ২০০৯ সালের পর থেকে বুর্জ খলিফাই বিশ্বের সর্বোচ্চ ব্যবসায়িক ভবন।

বুর্জ খলিফা নির্মাণ শুরু হয় ২০০৪ সালে, পাঁচ বছর পরে ২০০৯ সালে শেষ হয়। শক্তিশালী কংক্রিট দিয়ে নির্মিত হয় এর প্রাথমিক কাঠামো। ভবনটি ২০১০ সালে ডাউনটাউন দুবাই নামে একটি নতুন উন্নয়নের অংশ হিসেবে খোলা হয়েছিল। ডিজাইন করার সময় মাথায় রাখা হয়েছিল যেন এই বিল্ডিংকে বহুমাত্রিক ব্যবসায়িক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যায়। বুর্জ খলিফা বানানোর আগ পর্যন্ত দুবাইয়ের অর্থনীতি ছিল তেল-নির্ভর। সেই একমুখী তেলভিত্তিক অর্থনীতি থেকে সরে আসার লক্ষ্যে সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে বুর্জ খলিফা বানানো হয়। সে সময় ভিন্নরকম আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভের আশায় এই ভবনটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দুবাই সরকার। শুরুতে ভবনটির নাম রাখা হয়েছিল বুর্জ দুবাই। কিন্তু পরে আবুধাবির শাসক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতি খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সম্মানে এর নাম পরিবর্তন করা হয়।

বুর্জ খলিফা ডিজাইন করেছেন বিশ্বের সেরা ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্ম স্কিডমোর ওয়িংস অ্যান্ড মেরিলের স্থপতি আদ্রিয়ান স্মিথ। প্রকল্পের স্থাপত্য তদারকির জন্য বেছে নেওয়া হয় হায়দার কনসাল্টিংকে। সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল এনওআরআর গ্রুপ কনসালট্যান্টস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডকে। প্রাচীন ইসলামি স্থাপত্যের ছাপ রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বিল্ডিং বানানোর ক্ষেত্রে। ইরাকের সামারার মসজিদের আদলে এই বিল্ডিংয়ের মূল নকশাটি নেওয়া হয়েছে। যদিও নকশার কিছু অংশ নেওয়া হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে অবস্থিত তৃতীয় প্যালেস টাওয়ার থেকে। দুবাইয়ের গ্রীষ্মের তীব্র গরম সহ্য করার জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে বিল্ডিংটি। এতে মোট ৫৭টি লিফট এবং ৮টি এসকেলেটর রয়েছে।

বিল্ডিংটি তৈরির সময় আর্থিক সংকট শুরু হয়। ডেভেলপার কোম্পানি এমার ডেভেলপার আর্থিক সমস্যার মুখোমুখি পড়লে তারা জানায় তাদের আরও তহবিলের দরকার। তখন সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাসক শেখ খলিফা আর্থিক সহায়তা ও অর্থায়ন মঞ্জুর করেন। যার ফলে নাম পরিবর্তন করে ‘বুর্জ খলিফা’ করা হয়। তাদের ধারণা ছিল বিল্ডিংটি বানানো হলে নির্দিষ্ট সময় পরে বিনিয়োগ করা অর্থ উঠে আসবে। পরে দেখা গেল আশপাশে বানানো মল, হোটেল ও কন্ডোমিয়াম থেকে বেশ ভালো অঙ্কের লাভ উঠে আসছে, যেখানে বুর্জ খলিফা লভ্যাংশ ওঠাতে পেরেছে সামান্যই।

ভবন নির্মাণের উপাদান ও প্রযুক্তি

সুউচ্চ ভবনের বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রকৌশলীদের নজর দিতে হয়েছে বিল্ডিংয়ের ভরের দিকে। ফলে তারা খুঁজতে শুরু করেছে অন্যান্য উপায়। যা বিল্ডিংয়ের ওজনকে হালকা করবে। উপায় হিসেবে ভবন নির্মাণে এলো কাচ। খুব দ্রুত উৎপাদন করা যায় বলে বিশাল বিশাল জানালা উঁচু ভবনে খুব দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠল। এছাড়াও কাচের ব্যবহারের ফলে প্রাকৃতিক আলো চলাচলের ফলে ভবনের ভেতরে কৃত্রিম আলোর ব্যবহার কমে এলো। কিন্তু অতিরিক্ত বায়ুর চাপ সহ্য করার জন্য খুঁজতে হয়েছে নতুন প্রযুক্তি। ভূমিকম্প এবং টাইফুনে সৃষ্ট ঝুঁকি হ্রাস করত পারে এমন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে উঠে আসে টিউনড ম্যাস ড্যাম্পার, হিউজ সুইঙ্গিং কাউন্টারওয়েট প্রযুক্তি।

কাউন্সিল অন টল বিল্ডিংস অ্যান্ড আরবান হ্যাবিট্যাট (সিটিবিইউএইচ) অনুসারে, পৃথিবী জুড়ে এখন ১৯১টি আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ‘সুপার টল’ আকাশচুম্বী ভবন রয়েছে – যে ভবনগুলো কমপক্ষে ৩০০ মিটার (৯৮৪ ফুট) লম্বা। কিন্তু তার অর্থ এই দাঁড়ায় না যে আমাদের শহরের লম্বা ভবনগুলো আরও লম্বা হতে থাকবে। কিছু ক্ষেত্রে বিষয়টি এরকম দাঁড়াবে সুউচ্চ ভবনে বিক্রয়যোগ্য অতিরিক্ত স্থান বের করতে গেলে নির্মাণ খরচ অনেক বেড়ে যাবে। বর্তমানে উঁচু দালান নির্মাণে আমেরিকার অর্থনৈতিক বাস্তবতা এখানে এসে দাঁড়িয়েছে। কারণ উঁচু দালানের শুরুর গল্প আমেরিকার হাত ধরেই হয়েছিল। ১৯৬০ থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। এখন সেখানে নতুন আধিপত্য বিস্তার করতে এসেছে মধ্যপ্রাচ্য ও চীন। 

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী নির্মাণে সবচেয়ে বেশি জ¦ালানি ব্যয় হয়। গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের প্রায় ৪০% অবদান রাখে ভবন নির্মাণ। কাচের আকাশচুম্বী ভবন সুউচ্চ ভবনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে। ফলে সাধারণ কাচ নয় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে এমন কাচ ব্যবহার করা হচ্ছে এখনকার ভবন নির্মাণে। ফলে একই বিল্ডিং নিজেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে, নিজের উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করেই তার কাজ চলছে। ফলে বিদ্যুৎশক্তির জন্য এটি কারও ওপরে নির্ভর করছে না। আলাদা করে বিদ্যুৎশক্তির জন্য নতুন কার্বন নির্গত হচ্ছে না।

ক্যারল উইলিস বলেন, ‘আকাশচুম্বী নকশা এবং প্রযুক্তিতে অনেক নতুন নতুন পরিবর্তন আসছে। আকাশচুম্বী ভবনগুলোকে শক্তি সাশ্রয়ী ও প্রকৃতিকে আলিঙ্গন করে এগিয়ে যাচ্ছে। শহরে মানুষের ঘনত্ব সত্ত্বেও এই জনশক্তিকে দক্ষ করার কাজ করে যাচ্ছে। আমরা যেভাবে ভবিষ্যতে বাঁচতে চাই এবং আমরা কীভাবে বাঁচতে পারি দুইয়ের সম্ভাবনার মধ্যে এই আলোচনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’