পাবনার ঐতিহ্যবাহী সেন্ট্রাল গার্লস হাইস্কুল ভবনের সিঁড়ি ভেঙে জায়গা বিক্রির অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আবু ইছাহাক শামীমের বিরুদ্ধে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয়রা জানান, পাবনার প্রায় শতবর্ষী সেন্ট্রাল গার্লস হাইস্কুল দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু পরিচালনা পরিষদের দায়িত্ব নেওয়ার পর আওয়ামী লীগ নেতা আবু ইছাহাক শামীম ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন।
সম্প্রতি বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সরকারি অর্থ কিংবা ভবন নির্মাণে বরাদ্দপ্রাপ্তির সুযোগ থাকলেও তিনি এটি নির্মাণের দায়িত্ব একটি বাণিজ্যিক কোম্পানিকে দিয়েছেন। নিচতলায় শ্রেণিকক্ষ না রেখে দোকান নির্মাণ করে তা বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে শামীমের বিরুদ্ধে।
বিদ্যালয়ের তৎকালীন শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, দোকানের পজিশনগুলো লাখ লাখ টাকায় বিক্রি করলেও শামীম বিদ্যালয় তহবিলে নামমাত্র মূল্য দেখিয়ে অর্থ জমা দিয়েছেন। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ঘনিষ্ঠজনদের কাছে নামমাত্র মূল্যে পুরনো ভবন বিক্রি করেছেন। ভেতরে ভেতরে সবাই ক্ষুব্ধ হলেও রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপটে কেউই শামীমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সাহস করেন না। প্রশাসন সব জেনেও কোনো ব্যবস্থা নেয় না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক বলেন, ‘আবু ইছাহাক শামীম বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের নিচতলায় দোকান বিক্রি করেও ক্ষান্ত হননি। সম্প্রতি তিনি বিদ্যালয়ের জরুরি বহির্গমন পথটি বিক্রি করে দোকান নির্মাণ করেছেন। এছাড়া করোনায় বিদ্যালয় বন্ধের সুযোগ নিয়ে মূল ফটকের পাশে প্রধান সিঁড়িসহ বিশাল জায়গা বিক্রি করতে ‘খাবার বাড়ি’ নামে একটি রেস্টুরেন্টের সঙ্গে চুক্তি করেছেন।’
গতকাল শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন শ্রমিক ও রাজমিস্ত্রি মূল ফটকের ডান পাশে নতুন সিঁড়ির নির্মাণকাজ করছেন। ডান পাশে একটি প্রশস্ত সিঁড়ি থাকা সত্ত্বেও কেন নতুন সিঁড়ি করা হচ্ছে, তা শ্রমিকরা জানেন না।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তালেবুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদ ভালো বলতে পারবে। আপনাদের উচিত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা।’
অভিযোগের বিষয়ে আবু ইছাহাক শামীম বলেন, ‘স্কুলের জায়গা নতুন করে বিক্রি করা হচ্ছে না। আধুনিকায়নে সবার সম্মতিতে ডেভেলপারকে দেওয়া হয়। আর বিদ্যালয়ের প্রয়োজনেই পুরনো সিঁড়ি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। এখানে আমার ব্যক্তিগত কিংবা বাণিজ্যিক কোনো স্বার্থ নেই। একটি মহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’