ঝালকাঠির নলছিটিতে দশম শ্রেণি পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার সরমহল এলাকার এ ঘটনায় গত শুক্রবার ওই কিশোরীর নামে জমি লিখে দেওয়ার ‘চুক্তিতে’ বিষয়টি শেষমেশ দফারফা হয় বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘটনার পরপরই বিষয়টি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের শরণাপন্ন হয় অভিযুক্ত আল আমিন। পরে তাদের সিদ্ধান্তে ওই মেয়েটিকে বিয়ে করতে সম্মত হয় সে। একইসঙ্গে ওই কিশোরীর নামে পাঁচ শতাংশ জমি লিখে দেবে বলেও লিখিত চুক্তি করে আল আমিনের পরিবার। এর আগে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মেয়েটিকে তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে আল আমিন।
স্থানীয়রা জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই মেয়েটিকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল আল আমিন। কিন্তু এতে রাজি ছিল না সে। এর জেরে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে ঘর থেকে বের হলে দুই মামাতো ভাইয়ের সহযোগিতায় মেয়েটিকে তুলে নিয়ে যায় আল আমিন। পরে স্থানীয় জোড়া ব্রিজ এলাকায় নিয়ে মেয়েটিকে ধর্ষণের পর পালিয়ে যায় সে। পরদিন শুক্রবার সকালে মেয়েটিকে উদ্ধার করে তার বাড়িতে পৌঁছে দেয় এলাকাবাসী। ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের শরণাপন্ন হয় আল আমিনের পরিবার। তবে নানা ধরনের চাপের মুখে পুলিশকে জানাতে পারেনি ভুক্তভোগীরা। এরপর ওইদিন রাতেই আল আমিনের বাড়িতে মেয়ে পক্ষের লোকজন নিয়ে বৈঠক করেন স্থানীয় নারী ইউপি সদস্যের স্বামী টিপু হাওলাদারসহ কয়েকজন। একপর্যায়ে ঘটনার জন্য উপস্থিত সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে মেয়েটিকে বিয়ে করতে রাজি হয় আল আমিন। পরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে স্থানীয় একজন কাজী ডেকে রেজিস্ট্রিবিহীন বিয়ে পড়ানো হয়। একইসঙ্গে মেয়েটির নামে পাঁচ শতাংশ জমি লিখে দেবেন বলেও লিখিত চুক্তি করেন আল আমিনের বাবা আ. রশিদ।
নলছিটি থানার ওসি মো. আলী আহম্মেদ জানান, এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা সিকদার বলেন, ‘এমন ঘটনা গ্রাম্য সালিশে মীমাংসা করার কোনো সুযোগ নেই। এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতাম।’
এদিকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে এক কিশোরীকে অপহরণের পর দু’দিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গত শুক্রবার তিনজনের নামোল্লেখ ও অজ্ঞাত পরিচয় আরও দু’তিনজনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত মঙ্গলবার সকালে প্রাইভেট পড়তে বের হলে ওই কিশোরীকে মোটরসাইকেলে তুলে নেয় স্থানীয় জাহাঙ্গীর ম-ল (৪২), ইসহাক প্রামাণিক (৪৫) ও রেদোয়ান প্রামাণিক (২০)। এরপর থেকেই নিখোঁজ ছিল সে। গত বৃহস্পতিবার রাতে এক আত্মীয়ের বাড়ির পাশে কিশোরীকে ফেলে যায় অপহরণকারীরা। পরে বাড়ি ফিরে মেয়েটি তার স্বজনদের জানায়, রাজবাড়ী ও ঢাকায় নিয়ে তাকে আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করে জাহাঙ্গীর। গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল তায়াবীর জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।