ড্র টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম পয়েন্ট

পাল্লেকেলে টেস্টে ড্র তো অবধারিতই ছিল। শেষ দিনের চা বিরতির পর ঝুম বৃষ্টি নেমে তাতে নিশ্চয়তা দিয়ে গেছে। দ্বিতীয় ইনিংসে ২ উইকেট হারিয়ে ১০০ রানে চা বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। এরপর আর ব্যাটিংয়ে নামতে হয়নি তামিম-মুমিনুল জুটিকে। ম্যাচ নিয়ে আক্ষেপ নেই তেমন। উল্টো টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম পয়েন্ট (৩০ পয়েন্ট) পাওয়ার আনন্দ আছে। আক্ষেপ সব তামিম ইকবালের সেঞ্চুরি না হওয়ায়। এই টেস্টের দুই ইনিংসেই দুর্দান্ত খেলেও সেঞ্চুরি পেলেন না টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান স্কোরার। প্রথম ইনিংসে ৯০ রান করা ওপেনার এবার ৯৮ বলে ৭৪ রানে অপরাজিত থেকে যান। সঙ্গে মুমিনুল ২৩ রানে। তখনো শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংসের চেয়ে ৭ রানে পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ।

স্বাগতিকরা পঞ্চম দিনের লাঞ্চ পর্যন্ত গিয়ে তাদের ম্যারাথন প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে ৮ উইকেটে ৬৪৮ রান তুলে। ১০৭ রানে পিছিয়ে দ্বিতীয়বার খেলতে নেমে বাংলাদেশ মনে ভয় ধরিয়ে দেয় শুরুতে। মাত্র তিন ওভারের ব্যবধানে সাইফ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্ত ফিরে যান। ৪.১ ওভারে সাইফ সুরঙ্গ লাকমলের অফস্ট্যাম্পের বাইরের বলে পরাস্ত হন উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে। অভিষেকের পর থেকে নিজেকে মেলে ধরতে পারছেন না এই ওপেনার। প্রথম ইনিংসে প্রথম বলে আউট হওয়ার পর এবার করলেন মাত্র ১। এক ওভার পর প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান শান্তকেও বিনা রানে ফেরান লাকমল। এবার তার বলে ডিফেন্স করতে যাওয়া শান্তর ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে বল স্ট্যাম্পে। ২৭ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ হারের উড়ো শঙ্কা ঘিরে ধরে বাংলাদেশকে।

তবে অভিজ্ঞ তামিম উড়িয়ে দেন সব শঙ্কা। এতটা নির্ভার, স্বচ্ছন্দ ও আত্মবিশ্বাসী তামিমকে দেখা যেত ক্যারিয়ারের শুরুর সময়ে। এই টেস্টের ব্যাটিংয়ে অতীত ফেরালেন তামিম। ইনিংসের শুরু থেকেই লঙ্কান বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে খেলেন তিনি। লাকমলকে ৪, ধনঞ্জয়ার প্রথম ওভারেই ১০, বিশ্ব ফার্নান্দোর ওভারে ৩টি ৪, এরপর আবারও ধনঞ্জয়াকে পরপর দুই ওভারে ২টি ৪ ও একটি ছক্কা মারেন। প্রতিটি শটই ছিল মাঝ ব্যাট দিয়ে খেলা। এর মধ্যে ধনঞ্জয়ার ২৬তম ওভারে তার ছক্কাটি নিয়ে ধারাভাষ্যকাররা ক্রিকেট পাঠ দিতে শুরু করলেন। পপিং ক্রিজ থেকে তিন গজ সামনে এগিয়ে মারা ছক্কাটি ছিল অসাধারণ। আগামী প্রজন্মের জন্য রিপ্লে দেখিয়ে কীভাবে সামনে এগিয়ে শট নিতে হয় তা দেখানো হচ্ছিল। মাত্র ৫৪ বলে ক্যারিয়ারের ৩০তম হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। চা বিরতির সময় ১০ চার ও ৩ ছক্কায় ৯৮ বলে ৭৪ করে ছুটছিলেন দশম টেস্ট সেঞ্চুরির পথে। কিন্তু বৃষ্টি তা হতে দিল কই। পাল্লেকেলের এ মাঠেই ২৯ এপ্রিল থেকে দ্বিতীয় টেস্ট। সেঞ্চুরিটা না হয় তোলা থাকল ওই টেস্টের জন্য।

এর আগে শ্রীলঙ্কার বাঁধ ভাঙে চতুর্থ দিন সকালে এসে। জোড়া আঘাত করেন তাসকিন। ৩৪৫ রানের জুটি ভাঙে ১৬৬ রান করা ধনঞ্জয়া তাসকিনের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে বোল্ড হলে। ৪৩৭ বলে ২৪৪ রানের ইনিংস খেলা দিমুথ করুনারতেœকে নিজের পরের ওভারেই ফেরান বাংলাদেশ পেসার। পুল করতে গিয়ে মিডঅনে শান্তর হাতে ধরা পড়েন ম্যাচসেরা করুনারত্নে। ম্যাচে ১১২ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগার গড়েন তাসকিন। ১২ রান করা পাথুম নিশাঙ্কাকে থামান এবাদত হোসেন। ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হন নিরোশান ডিকভেলা (৩১)। মনে হচ্ছিল ৬০০ রানের নিচেই আটকানো যাবে লঙ্কানদের। কিন্তু হাসারাঙ্গা ও লাকমল ৬২ রানের জুটিতে দলীয় রান সাড়ে ৬০০ তে নিয়ে যান।

টেস্ট শেষে আবারও আলোচনায় এলো উইকেট। এমন নির্বিষ উইকেটে খেলা যে উপভোগ্য নয় তা পরিষ্কার করে দিলেন স্বাগতিক অধিনায়ক। দ্বিতীয় টেস্টের উইকেট যেন ৫০-৫০ হয়, বোলারদের জন্যও যেন কিছু থাকে। আর মুমিনুল দলীয় পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টির কথা জানালেন। মুমিনুলকে সন্তুষ্ট হতেই হবে। নেতৃত্বের চাপের মধ্যে থেকে দেশের বাইরে প্রথম ড্র পেলেন। নিজেও সেঞ্চুরি করেছেন। এবার দ্বিতীয় টেস্টে ভালো করার পালা।