করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে প্রণোদনা হিসেবে বায়িং হাউজের অগ্রিম আয়কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস বায়িং হাউজ অ্যাসোসিয়েশন।
মঙ্গলবার সংগঠনটির সভাপতি কাজী ইফতেখার হোসাইন স্বাক্ষরিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব বরাবর এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, এই মহামারিতে তাদের ব্যবসায়িক ক্ষতি হলেও কোনো প্রকার প্রণোদনা তারা পাননি।
চিঠিতে বলা হয়েছে, গার্মেন্টস মার্কেটিংয়ে নিয়োজিত বায়িং হাউজগুলো তৈরি পোশাক ব্যবসায় ৮-১০ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার বিপণন করে। এর সার্ভিস চার্জ থেকে ১০ শতাংশ অগ্রিম আয়কর দিয়ে থাকে। এই খাতে চার লক্ষাধিক শিক্ষিত কর্মী কাজ করছেন। এদিকে গার্মেন্টস ব্যবসার বৈশ্বিক মন্দার মধ্যেও দেশে সুতার দাম বেড়েই যাচ্ছে। উল্লেখিত প্রেক্ষাপটে মারামারিতে বিপর্যস্ত অর্থনীতিতে সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন ধরনের আর্থিক প্রণোদনা বিগত বছর থেকেই দিচ্ছেন। কিন্তু গার্মেন্টস বায়িং হাউজগুলো এ পর্যন্ত সরকারি প্রণোদনা পায়নি। বায়িং হাউজ কর্মীদের ধরে রেখে আগামী সামারের গার্মেন্টস ব্যবসাকে আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে বায়িং হাউজগুলোর সরকারের সহায়তা প্রয়োজন।
এ অবস্থায় বস্ত্র খাতের অন্যান্য সেক্টরের পাশাপাশি বায়িং হাউজগুলোকে মহামারির প্রণোদনা হিসেবে ১০ শতাংশ অগ্রিম আয়করের পরিবর্তে ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর আপত্কালীন সময়ের জন্য পরিশোধ করে গার্মেন্টস ব্যবসা অব্যাহত রেখে আগামী সামারের বৈশ্বিক বাজারে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ দানের জন্য বিনীত অনুরোধ জানানো হয় চিঠিতে।
এ বিষয়ে কাজী ইফতেখার হোসাইন সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, বায়িংহাউজগুলো মূলত পরিচালন ফি এর ওপর ভিত্তি করে চলে। করোনায় ক্রেতারা ক্রয়াদেশ স্থগিত বা বাতিল করেছে। আবার অনেক ক্রেতাদের ডিসকাউন্ট দিতে হয়েছে। এতে আমাদের অনেক ক্ষেত্রে কোনো কমিশনই পাইনি। অথচ সরকার যে ১ লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা দিয়েছে তা থেকে বায়িংহাউজগুলো এক টাকাও পায়নি। এখন যদি আমাদের আবার ১০ শতাংশ হারে অগ্রিম আয়কর দিতে হয় তা অনেক বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। তাই আমরা প্রণোদনার অংশ হিসেবে এই ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর হ্রাস চাচ্ছি। এতে সরকারকে আমাদের নগদ কিছু দিতে হচ্ছে না।