২ হাজার হেক্টর জমিতে পড়ে আছে পাকা ধান

কিশোরগঞ্জের ভৈরবের আগানগর ইউনিয়নের লুন্দিয়া-খলাপাড়া গ্রামে ধান মাড়াই করাকে কেন্দ্র করে দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে দুজন নিহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার এড়াতে দুই গ্রামের পুরুষরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। ওই দুই গ্রামে বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুট করেছে প্রতিপক্ষ শেখবাড়ি ও তাদের সমর্থিত লোকজন।

এদিকে পরিবারের পুরুষ সদস্যরা গ্রেপ্তার আতঙ্কে পালিয়ে বেড়ানোর কারণে চলতি মৌসুমের প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমির পাকা বোরোধান মাঠে পড়ে থাকলেও কেটে ঘরে তোলা যাচ্ছে না।

গত ১৭ এপ্রিল লুন্দিয়া গ্রামের শেখবাড়ি ও শিকদার বাড়ির লোকজনের মধ্যে ধান মাড়াই নিয়ে সংঘর্ষে মকবুল শেখ ও পাভেল শেখ নামে দুজন নিহত হন। আহত হন দুপক্ষের অর্ধশত লোক। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে গ্রেপ্তার এড়াতে শিকদারবাড়ি ও পাগলাবাড়ির লোকজন পালিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নেয়। এ ফাঁকে শেখবাড়ির লোকজনসহ তাদের পাশের এলাকার আত্মীয়স্বজন শিকদারবাড়ি ও পাগলাবাড়িসহ তাদের স্বজনদের বাড়িঘরে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এতে করে কয়েকশ বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে জোড়া হত্যার ঘটনায় শিকদার ও পাগলাবাড়ির আড়াইশজনকে আসামি করে দুটি মামলা করে প্রতিপক্ষ শেখ বাড়ির লোকজন। ফলে গ্রেপ্তার এড়াতে গ্রাম দুটিতে বসবাস করা প্রতিপক্ষের পুরুষরা বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়।

এ অবস্থায় চলতি মৌসুমের পাকা বোরোধান ঘরে ওঠানো নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমির ধান পেকে আছে, কিন্তু জমির মালিকরা পলাতক থাকায় এ ধান কাটা যাচ্ছে না। ঝড়-বৃষ্টির দিন শুরু এবং উজান থেকে ঢল নামার আগে এ ধান ঘরে তুলতে না পারলে সারা বছরের খাদ্য সংকটে পড়বে পরিবারগুলো।

জানতে চাইলে ভৈরব থানার ওসি মো. শাহিন জানান, যাদের মামলার আসামি করা হয়েছে তারা বাদে অন্যরা ধান কাটতে এলে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তাছাড়া আসামিরা আদালত থেকে জামিন নিয়েও বাড়িতে ফিরে ধান কাটতে পারবে।

ভৈরব উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা লুবনা ফারজানা বলেন, আমি এলাকা পরিদর্শন করেছি। সবার সঙ্গে কথা হয়েছে। ধান কাটা নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। প্রয়োজনে স্থানীয়

কৃষি অফিসের মাধমে কম্বাইন্ড হারবেস্ট মেশিনের সাহায্যে ধান কেটে কৃষকদের ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে।