জামালপুরে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার নিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে গ্রাহকদের। লো ব্যাটারিসহ কোনো কারণ ছাড়াই মিটার লক হয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অনেক গ্রাহকের। এসব মিটারের লক ছাড়াতে গ্রাহকদের ধরনা দিতে হচ্ছে পিডিবি কার্যালয়ে। গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা।
২০১৭ সালের নভেম্বর থেকে জামালপুরে ডিজিটাল মিটার প্রতিস্থাপন শুরু করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। বর্তমানে জামালপুরের প্রায় ৪৩ হাজার গ্রাহক বিদ্যুতের ডিজিটাল মিটারের আওতায় রয়েছে। এজন্য একজন গ্রাহককে প্রতি মাসেই ৪০ টাকা করে মিটার ভাড়া গুনতে হয়। গত কয়েক মাসে অনেক গ্রাহকের মিটারেই ‘এ-ওয়ান’ কোড দেখিয়ে মিটার লক হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া মিটার রিচার্জের পরে কোনো কারণ ছাড়াই লক হয়ে গেছে অনেক মিটার। হঠাৎ করে মিটার লক হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে গ্রাহকদের।
জামালপুর শহরতলির রামনগর গ্রামের বিদ্যুৎ গ্রাহক মো. রতন। মিটারের ব্যাটারি লো হয়ে যাওয়ায় ‘এ-ওয়ান’ কোড দেখিয়ে তার মিটারটি লক হয়ে যায়। পরে বিদ্যুৎ কার্যালয়ে আসেন মিটারের লক ছাড়াতে। মো. রতন জানান, মিটার স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক হওয়ার পর দুদিন অন্ধকারে ছিলাম। এরপর বিদ্যুৎ অফিসে এসে ব্যাটারি পরিবর্তনের আবেদন নিয়ে নিচতলা থেকে তৃতীয় তলায় ওঠানামা করতে করতেই অবস্থা খারাপ। ব্যাটারি পরিবর্তনের অনুমোদনের পর ৪০০ টাকা দিয়ে পাওয়া যায় মিটার আনলকের টোকেন।
একই সমস্যা নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে আসেন হাটচন্দ্রা গ্রামের মো. ছোলাইমান। তিনি বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। সারাদিন ধইরা মিটারের ব্যাটারি বদলানের জন্য একবার এই স্যারের রুমে আরেকবার ওই স্যারের রুমে দৌড় পারতাছি। সারাডাদিন আর কোনো কাম করবার পাইলাম না।’
শহরের সরদারপাড়া এলাকার গ্রাহক কামরুল হাসান বলেন, ‘গত মাসে মিটার রিচার্জের পর হঠাৎ করেই সন্ধ্যার দিকে আমার মিটারটি লকড হয়ে যায়। পরবর্তী দুদিন শুক্র ও শনিবার হওয়ায় বিদ্যুৎ অফিস বন্ধ থাকায় অন্ধকারেই থাকতে হয়। পরে জরিমানা দিয়ে মিটার অনলকের টোকেন এনে মিটারের লক ছাড়ানো হয়।’
একসময় মিটারের ব্যাটারি ‘লো’ হয়ে গেলে ব্যাটারি পরিবর্তনের জন্য গ্রাহকদের কোনো ফি দিতে হতো না। কিন্তু বর্তমানে মিটার লক হলেই গ্রাহকে ৪০০ টাকা দিয়ে নিতে হচ্ছে মিটার আনলক কোডের টোকেন।
এ বিষয়ে জানতে জামালপুর পিডিবির নির্বাহী পরিচালক মো. শাহাদাত আলীর কক্ষে গেলে তিনি বলেন, ‘আপনাদের কে পাঠিয়েছে? মিটারের ব্যাটারি পরিবর্তনের জন্য আমরা কোনো টাকা নিচ্ছি না। আমরা ২০০ টাকা ডিসি (ডিসকানেক্ট) ও ২০০ টাকা আরসি (রিকানেক্ট) চার্জ নিচ্ছি। এ টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে সরকার পাচ্ছে।’ লো ব্যাটারির কারণে মিটার লক হয়ে যাওয়ার অভিযোগ এড়িয়ে তিনি বলেন, ‘অনেকেই মিটারের বেসপ্লেট, ব্যাটারি কভার খুলে ফেলছে, ফলে মিটার লক হয়ে যাচ্ছে। তা না হলে প্রতিদিন মিটারের ব্যাটারি পরিবর্তনের জন্য শত শত আবেদন আসার কথা নয়। এজন্য আমরা কোনো জরিমানা করছি না। শুধু ডিসি এবং আরসি চার্জ নিচ্ছি।’ তবে গত এক মাসে কতগুলো মিটার লক হয়েছে সে বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দিতে পারেননি।