আনারসের আগাম ফলনে দাম বেশি পেয়ে খুশি চাষিরা

মৌলভীবাজার শ্রীমঙ্গলের চায়ের পাশাপাশি আনারসের খ্যাতি রয়েছে সারা দেশে। করোনা মহামারী ও রমজান মাসের কারণে চাহিদা বেশি থাকায় গত বছরের তুলনায় এবার শ্রীমঙ্গলে আনারসের দাম কিছুটা বেশি। আনারসের আগাম ফলনে ভালো দাম পেয়ে এখানকার চাষিরা খুশি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন টিলায় ষাটের দশক থেকে আনারস চাষ শুরু হয়। এখানকার আবহাওয়া আনারস চাষের জন্য বেশ উপযোগী। উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে এখানকার আনারস দেশের বিভিন্ন জায়গায় সারা বছরই কমবেশি পৌঁছে যায়। এবার উপজেলার বিভিন্ন বাগানে আনারসের আগাম ফলন ভালো হয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাগান থেকে আনারস প্রতিদিন শ্রীমঙ্গলের পাইকারি বাজার পুরান বাজার, নতুন বাজার এলাকার আড়তে নিয়ে আসা হয়। এখানে পাইকারির পাশাপাশি খুচরা বাজারে বিপুল আনারস কেনাবেচা হয়। শ্রীমঙ্গলে উৎপাদিত আনারস প্রতিদিনই ট্রাক, পিকআপ ও ভ্যানবোঝাই করে বিভিন্ন জেলায় ক্রেতারা নিয়ে যাচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মোহাজেরাবাদ, বিষামণি, হোসেনাবাদ, বালিশিরা, ডলুছড়া, সাতগাঁও, নন্দরানী, মাইজদীসহ উপজেলার পাহাড়ি এলাকার প্রায় ৪১২ হেক্টর জমিতে আনারসের চাষ হয়েছে। উৎপাদন ভালো হওয়ায় সেখানে লাভের মুখ দেখছেন চাষিরা।

উপজেলার কালাপুর মাইজদী এলাকার আনারসবাগানের মালিক রশিদ মিয়া বলেন, ‘এবার আগাম ফলন ভালো হয়েছে। ইতিমধ্যে আনারস বিক্রি করেছি। সার ও চারার দাম বৃদ্ধি, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি সব মিলিয়ে আনারসের উৎপাদন ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। এরপরও যা দাম পাচ্ছি তাতে লাভই হয়েছে।’

শ্রীমঙ্গলের উমর আলী কাঁচামালের পাইকারি আড়তের স্বত্বাধিকারী বিল্লাল মিয়া জানান, এ বছর উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে বাজারে আগাম আনারস আসছে। চাষিদের কাছ থেকে কিনে তা তিনি বড় বড় পাইকারের কাছে বিক্রি করছেন। গতবারের চেয়ে এবার রমজানের কারণে দাম কিছুটা বেশি। প্রতিটি আনারস সর্বনিম্ন ১৪ থেকে সর্বোচ্চ ৫০-৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। গত বছর আনারসের দাম ছিল আকারভেদে ৭ থেকে ৪৫ টাকা পর্যন্ত।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন মোনালিসা বলেন, ‘শ্রীমঙ্গলে এবার প্রায় ৪১২ হেক্টর জমিতে আনারসের চাষ হয়েছে। ফলনও ভালো হয়েছে।’ তিনি জানান, আনারসের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কৃষি কার্যালয় থেকে চাষিদের বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।