রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে পারাপারের জন্য প্রতিনিয়ত মানুষের ভিড় বাড়ছে। একদিকে ঢাকামুখী মানুষ নদী পার হতে দৌলতদিয়া ঘাটে ভিড় করছেন, অন্যদিকে রাজধানী থেকে ছেড়ে আসা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলগামী মানুষ নদী পাড়ি দিয়ে এসে ঘাটে ভিড় করছেন।
এই ভিড় বৃহস্পতিবার হলে বেড়ে যায়। তবে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বাড়তি ভাড়ার কারণে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন এসব সাধারণ মানুষ।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দেখা যায়, ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ঘাট দিয়ে ছোট ফেরিগুলোতে ব্যক্তিগত গাড়ির সঙ্গে সাধারণ যাত্রীরা আসা-যাওয়া করছেন।
যাত্রীদের বেশিভাগই স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েই ঘাট পার হচ্ছেন। তাদের মধ্যে নেই কোনো সচেতনতা।
৫ নম্বর ঘাটে নদী পাড়ি দিয়ে আসা ছোট ফেরি হাসনাহেনার যাত্রী সুমন শেখ ফরিদপুর সদররের বাড়ি যাচ্ছিলেন।
তিনি বলেন, গাজীপুরে কাঁচামালের ব্যবসা করি, ভোরে ট্রাকে করে সাভার আসি, পরে ওইখান থেকে সকালে ভেঙে ভেঙে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ায় আসি। নদী পাড়ি দিয়ে এখন পড়েছি বিপাকে।
অন্য কোনো যান না থাকায় মাহিন্দ্র করে অন্যান্য যাত্রীদের সঙ্গে ১৫০ টাকা ভাড়া দিয়ে রওনা করতে হচ্ছে।
সদরে পৌঁছাতে ১ ঘণ্টার মতো লাগবে। কিছু করার নাই, যেতে হবেই। অথচ স্বাভাবিক সময় সদরে থেকে দৌলতদিয়া ঘাটে আসতে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা খরচ হতো।
একইভাবে ঝিনাইদহ থেকে সাভারে যাচ্ছিলেন ফয়সাল আহমেদ ও তার ছোট ভাই। দুজনই সাভারে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন।
লকডাউনের কারণে বাড়িতে এলেও লকডাউন অনেকটা শিথিল হওয়ায় কর্তৃপক্ষ অফিসে যেতে বলেছে। বাধ্য হয়ে মোটরসাইকেলে করে ৮০০ টাকায় রিজার্ভ করে দৌলতদিয়ায় এসে পৌঁছেছেন।
এখন নদী পাড়ি দিয়ে কীভাবে যাবেন, সেই চিন্তা করছেন। সম্ভব হলে পাটুরিয়া থেকে মোটরসাইকেল বা ব্যক্তিগত গাড়ি রিজার্ভ করে যাবেন। তা না পেলে বাধ্য হয়ে বিকল্প যানবাহনে পৌঁছাতে হবে।
তারা বলেন, চাকরি তো আগে রক্ষা করতে হবে। করোনা আমাদের বিপদের পর বিপদে ফেলে দিয়েছে। একদিকে রোজগারের পথ অনেকটা বন্ধের উপক্রম, অন্যদিকে ব্যয় বেড়েছে কয়েক গুণ।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) ফিরোজ শেখ দেশ রূপান্তরকে বলেন, লকডাউন কিছুটা শিথিল হবার কারণে যাত্রী পারাপার বেড়ে গেছে। বিশেষ করে প্রতিদিন সকালের দিকে ফেরিতে ব্যক্তিগত গাড়ির সঙ্গে যাত্রীর চাপ থাকছে। ঢাকামুখী মানুষের চাপ থাকছে বেশি। বিপরীত দিকে ঢাকা ছেড়ে আসা মানুষের ভিড়ও কম নয়। আর বৃহস্পতিবার হলে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলগামী মানুষ চাপ বেড়ে যায় দ্বিগুণ।