আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ১০ মে’র মধ্যে বকেয়াসহ শ্রমিকের বেতন-বোনাস পরিশোধের আহ্বান জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান।
এ ছাড়া তিনি চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পুলিশের গুলিতে শ্রমিক নিহতের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন। শ্রমিক নেতারা বাঁশখালীতে নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপুরণ হিসেবে এক জীবনের উপার্জনকৃত অর্থ প্রদানের দাবি জানান।
বৃহস্পতিবার শ্রম ভবনে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ, ছুটি এবং শ্রম পরিস্থিতি বিষয়ে টিসিসির ৬৭তম সভা এবং আরএমজি টিসিসি কমিটির ৮ম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এসব বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এম আবদুস সালাম, অতিরিক্ত সচিব ড. রেজাউল হক, শিল্প পুলিশের ডিআইজি মাহবুবুর রহমান, বিজিএমইএ এর সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম মান্নান কচি, জাতীয় শ্রমিক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নুর কুতুব আলম মান্নান, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি কামরুল আহসান, শ্রমিক নেতা নাইমুল আহসান জুয়েল, শ্রম অধিদপ্তরের আঞ্চলিক অফিসের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
মুন্নুজান সুফিয়ান বলেন, এখনও অনেক গার্মেন্টস মালিকরা শ্রমিকদের মার্চ মাসের বেতন পরিশোধ করেনি। তাদের আহ্বান করব ১০ মে'র মধ্যে শ্রমিকদের বকেয়া বেতনসহ এপ্রিল মাসের বেতন ও ঈদের বোনাস যাতে পরিশোধ করে।
বাঁশখালীতে পুলিশের গুলিতে শ্রমিক নিহতের ঘটনায় তিনি বলেন, সেদিন পুলিশেরও কিছু করার ছিল না। শ্রমিকরা যখন পুলিশের গাড়িতে আগুন দিয়েছিল তখন পুলিশ নিজেদের রক্ষার্থে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শ্রমিকদের ওপর চড়াও হতে বাধ্য হয়।
সভায় শ্রমিক নেতাদের পক্ষ থেকে মে মাসের অন্তত ১০ দিনের বেতন অগ্রিম দেওয়ার জন্য দাবি জানানো হয়। জবাবে মন্ত্রী বলেন, ১০ দিনের এ অগ্রিম বেতনের বিষয়টি আপনারা (মালিকপক্ষ) ভেবে দেখবেন। এ ছাড়া একই সময়ে সব শ্রমিকদের ছুটি না দিয়ে ভাগ ভাগ করে ধারাবাহিকভাবে ছুটি দিলে রাস্তায় জ্যাম কিংবা শ্রমিকদের বাড়িতে পৌঁছাতে ভোগান্তি কম হবে। এমন বাইরোটেশনালি ছুটি দিলে শ্রমিকদের পক্ষ থেকেও আপত্তি থাকবে বলে আমার মনে হয় না।
এ ছাড়া শ্রমিকদের করোনার টিকা দেওয়ার বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানান।