কৃষিঋণ বিতরণ বেড়েছে ৯.৪০ শতাংশ

চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) কৃষিখাতে ৯ দশমিক ৪০ শতাংশ বা ১ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা বেশি ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে ১৮ হাজার ৫১৩ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লীঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো, যা এ খাতের ঋণ বিতরণের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার ৭০ দশমিক ৪১ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে ব্যাংকগুলোর ২৬ হাজার ২৯২ কোটি টাকার কৃষি ও পল্লীঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে কৃষি ও পল্লীঋণ বিতরণ হয়েছিল ১৬ হাজার ৯২১ কোটি টাকা, যা ছিল ওই অর্থবছরের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার ৭০ দশমিক ১৫ শতাংশ।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, বিতরণ করা কৃষিঋণের একটি বড় অংশ দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো। আলোচিত সময়ে কৃষিখাতে ৮ হাজার ৩৭৭ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ৮ ব্যাংক। এর মধ্যে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক।

এ বিষয়ে কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলী হোসেন প্রধানীয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনার এই সময়ে কৃষিখাতের উৎপাদনশীলতা ধরে রাখা খুবই দরকার। আমরা চেষ্টা করছি এ খাতে সাধ্যমতো ঋণ বিতরণ করতে।’

এ ছাড়া রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকও (রাকাব) তাদের লক্ষ্যমাত্রার ৮০ শতাংশ ঋণ এই সময়ের মধ্যে বিতরণ করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানান ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইসমাইল।

সম্প্রতি কৃষিঋণের সুদের হার ৯ শতাংশ থেকে ৮ শতাংশে নামিয়ে আনে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে এখন আরও কম সুদে কৃষিঋণ পাওয়া যাচ্ছে। করোনা মহামারীর প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে কৃষি ও পল্লীঋণের সুদহারের ঊর্ধ্বসীমা কমিয়ে আনে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে কৃষিঋণ আদায় হয়েছে ১৯ হাজার ৭৭৪ কোটি টাকা। ওই সময় পর্যন্ত বিতরণ করা কৃষিঋণের স্থিতি ছিল ৪৫ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা।

এ ছাড়া করোনা মহামারীর প্রভাব কাটিয়ে উঠতে কৃষিখাতে ৫ হাজার কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে কৃষকদের ৪ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়া হচ্ছে।

গত মার্চ পর্যন্ত এই তহবিল থেকে ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে ব্যাংকগুলো। ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫৫৯ জন গ্রাহকের অনুকূলে এই ঋণ ছাড় করা হয়েছে।

তবে গত মার্চের মধ্যেই এই তহবিলের পুরো অর্থ বিতরণের লক্ষ্য ছিল। এই লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় আগামী জুন পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে ব্যাংকগুলোকে। এ ছাড়া একক খাতে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ ঋণ বিতরণেরও অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।