সেমিফাইনালের প্রথম লেগে পিএসজিকে তাদেরই মাঠে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবার চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের পথে অনেকদূর এগিয়ে গেছে ম্যানচেস্টার সিটি। সব প্রতিযোগিতা মিলে টানা ১৮ অ্যাওয়ে ম্যাচে জয় পেল পেপ গার্দিওলার দল। আগামী মঙ্গলবার নিজেদের মাঠে ফিরতে ম্যাচ জিতলে তো কথাই নেই, ড্র করলেও ফাইনাল নিশ্চিত হবে তাদের। অন্যদিকে দ্বিতীয় লেগে ইতিহাদে কঠিন পরীক্ষাই দিতে হবে নেইমার-এমবাপেদের। জিততে হবে অন্তত দুই গোলের ব্যবধানে। ২-১ গোলে জিতলে অতিরিক্ত সময়, না হয় টাইব্রেকারে নিষ্পত্তি হবে সেমিফাইনাল। এই কাজটা অবশ্য অতি সম্প্রতি করে দেখিয়েছে পিএসজি। গ্রুপ পর্বে ম্যানচেস্টারের আরেক দল ইউনাইটেডের কাছে নিজেদের মাঠে ১-২ গোলে হারলেও ফিরতে লেগে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৩-১-এ জিতেছিল তারা।
বুধবার পার্ক দ্য প্রিন্সেসে প্রথমার্ধে দারুণ খেলে পিএসজি। বল দখলে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও আক্রমণে এগিয়ে ছিল। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই বিপদে পড়তে পারত ম্যানসিটি। সতীর্থের বাড়ানো বল ধরে ছুটে ডি-বক্সে ঢুকলেও দুর্বল শট নেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড নেইমার। ম্যাচের ১৩ মিনিটে আরেক ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার ও অধিনায়ক মার্কিনহোস কর্নার থেকে হেডে গোল করলে এগিয়ে যায় পিএসজি। ৪২ মিনিটে ডি-বক্সে ফাঁকায় বল পেয়ে গোলকিপার বরাবর শট নেন সিটির ফিল ফোডেন। দ্বিতীয়ার্ধ ছিল সিটিময়। ম্যাচের ৬৪ মিনিটে সমতায় ফেরে তারা। জিনচেঙ্কোর পাস দেওয়ার মতো ফ্রি-কিকের বল ধরেন ডি ব্রুইনে। বল ধরে বাঁদিক থেকে দারুণ এক ক্রস বাড়ান। বল সবার ওপর দিয়ে গিয়ে এক ড্রপে জালে জড়ায়। বলে তেমন গতি ছিল না, কিন্তু বোকা বনে যান পিএসজির গোলকিপার কেইলর নাভাস। ৭১ মিনিটে দারুণ এক ফ্রি-কিক থেকে সিটির জয়সূচক গোলটি করেন রিয়াদ মাহরেজ। ফ্রি-কিকের সময় প্রাচীরে থাকা কিম্পেম্বে ও লিয়ান্দ্রো পারেদেসের মাঝ দিয়ে বল জালে জড়ায়।
৭৭ মিনিট ১০ জনের দলে পরিণত হয় পিএসজি। ইকাই গুনদোগানকে পেছন থেকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন ইদ্রিসা গেয়ি। একজন কম নিয়ে বাকি সময়ে তেমন কিছু করতে পারেনি পিএসজি। এদিন পুরো ম্যাচে কোনো শট নিতে পারেননি কিলিয়ান এমবাপে। চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে একাদশে থেকে এমবাপের শট নিতে না পারার ঘটনা এই প্রথম।
ম্যাচ শেষে গার্দিওলা বলেন, ‘আমরা ভালো খেলেছি। অন্য কোনোভাবে এর চেয়ে ভালো খেলা যেত না। দ্বিতীয় লেগে আমাদের আরও বেশি সতর্ক হতে হবে।’ প্রথমার্ধে সিটি ছিল একটু বেশি সতর্ক। এ বিষয়ে গার্দিওলা বলেন, ‘পিএসজি এমন একটা দল যারা যা খুশি তাই করতে পারে, কারণ তাদের দলে তেমন উঁচুমানের খেলোয়াড় আছে। তাই একটু বেশি সতর্ক হয়ে খেলা। প্রথম লেগেই (পরের ধাপে) কোয়ালিফাই করা যায় না, কিন্তু প্রথম লেগে পিছিয়ে যাওয়া যায়।’ পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচে ফেরা সম্পর্কে গার্দিওলা বলেন, ডর্টমুন্ডেও আমরা গোল হজম করে ম্যাচে ফিরে এসেছিলাম, আজও তাই হলো। এই ক্লাবটির প্রতিযোগিতার এ পর্যায়ে খেলার তেমন অভিজ্ঞতা নেই। তবে এটি আমাদের সহায়তা করবে এটি বিশ্বাস করতে যে, যেকোনো কিছু সম্ভব। দ্বিতীয়ার্ধে আমরা দুর্দান্ত খেলেছি।’
৭০ মিনিটে সিটি ফ্রি-কিক পাওয়ায় সবার নজর ছিল ডি ব্রুইনের দিকে। যে পজিশনে ছিল সাধারণত তিনিই নেন। কিন্তু ফ্রি-কিকটি নেন মাহরেজ এবং গোল করেন। এ প্রসঙ্গে অধিনায়ক ডি ব্রুইনে বলেন, ‘আমি তাকে (মাহরেজ) বলেছিলাম যদি তোমার নিজের ওপর বিশ্বাস থাকে (কিক) নাও। আমার দলের ওপর আত্মবিশ্বাস আছে। সে দ্বিতীয় গোলটি করেছে।’ তবে জিতলেও ডি ব্রুইনে জানিয়েছেন, দলের কাজ কেবল অর্ধেক শেষ হয়েছে।
এদিকে দলের দুই গোল হজমে মনোযোগের ঘাটতি দেখছেন পিএসজি কোচ মরিসিও পচেত্তিনো। বলেন, ‘প্রথমার্ধে আমরা তাদের চেয়ে ভালো ছিলাম। কিন্তু এরপর দুটো গোল হজম করলাম। সাধারণত আমরা যেটা করি না। আমরা প্রথমার্ধে বল পায়ে যে দাপট দেখিয়েছি, দ্বিতীয়ার্ধে তা করতে পারিনি।’ ফিরতি লেগে ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী পচেত্তিনো। ‘ফিরতি লেগে ঘুরে দাঁড়াতে আত্মবিশ্বাসী আমরা। অবশ্যই কঠিন হবে দ্বিতীয় লেগ। তবে ম্যানচেস্টারের কিছু একটা করার বিশ্বাস রাখতে হবে। তারা ভালো দল। কিন্তু আমাদের দলে প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে।’