চট্টগ্রামের পটিয়ায় শখের বসে স্হানীয় সাংবাদিক আবেদ আমিরী হাইব্রিড জাতের নতুন প্রজাতির তেজগোল্ড ধান চাষ করে বাম্পার ফলন হয়েছে। সাংবাদিক আবেদ আমিরীর আধুনিক প্রযুক্তিতে এ চাষাবাদ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন। নতুন জাতের ধান চাষে ব্যাপক সফলতা ও বাম্পার ফলন হওয়ায় বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা উক্ত ধানগুলো দেখতে ভিড় জমান।
পটিয়া কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, পটিয়ায় এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে বোরো চাষাবাদ ও ফলন হয়েছে। কৃষি অফিসের লক্ষমাত্রা ছিলো চার হাজার ৬ হেক্টর জমি। কিন্তু চাষাবাদ হয়েছে পাঁচ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদ। সাংসদ সামশুল হক চৌধুরী প্রদত্ত কম্বাইন্ড হার্ভেস্টর দিয়ে গতকাল রবিবার দুপুরে পটিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্পনা রহমান ও পটিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন পাকা ধান কর্তন, মাড়াই ও বস্তাবরণ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন।
কৃষি অফিস সূত্রে আরও জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কৃষক যাতে স্বল্প খরচে ধান কেটে ঘরে তুলতে পারে সে জন্য কম্বাইন হার্ভেস্টার মেশিনেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই মেশিনের মাধ্যমে ধান কাটা, মাড়াই ও বস্তাবন্দি করা হয়। পটিয়া পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের গৌবিন্দারখীল এলাকায় সাংবাদিক আবেদ আমিরী নতুন জাতের এই ধান চাষ করে এলাকার কৃষকের মাঝে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। কম্বাইন হার্ভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটার সময় কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা উত্তম মজুমদার, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা খায়ের আহমদ, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা টিটন কুমার দে, পটিয়া পৌরসভার কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দীন আজাদ।
জানা গেছে, চলতি মৌসুমে পটিয়া ও পার্শ্ববর্তী কর্ণফুলী উপজেলায় নতুন জাতের তেজগোল্ড ধান চাষ হয়েছে মোট ২৭৫ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে পটিয়া পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডে আবেদ আমিরী ৬০ শতক জমিতে চাষ করেন। প্রথমবারের মত চাষ করা তেজগোল্ড ধান চাষে ব্যাপক সফলতা এসেছে। এই ধানটি পটিয়া উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী কর্ণফুলী উপজেলার ২২ ইউনিয়নের অন্তত ২ হাজার ৫শ কৃষক এবার চাষাবাদ করেছে।
পটিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্পনা রহমান জানান, তেজগোল্ড ধান চাষ করে এবার ব্যাপক সফলতা এসেছে। স্বল্প খরচে ধান কাটার জন্য কৃষকের জন্য জাতীয় সংসদের হুইপ ও পটিয়ার সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী একটি মিনি কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার প্রদান করেছেন।
এই হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটা, মাড়াই ও বস্তাবন্দি করা যায়। চলতি মৌসুমে বোরো চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। প্রাকৃতিক দুযোর্গ না হওয়ার কারণে ধানের অবস্থা এখনো ভালো রয়েছে। প্রায় ৯০ ভাগ সোনালী রং এসেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে সব কৃষকরা কোন ক্ষতি ছাড়াই ধান ঘরে তুলতে পারবেন।