করোনা আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সিসিইউতে (করোনারি কেয়ার ইউনিট) নেওয়া হয়েছে। শ্বাসকষ্টের কারণে গতকাল সোমবার বিকেল ৪টার দিকে তাকে হাসপাতালটির সিসিইউতে নেওয়া হয় বলে দেশ রূপান্তরকে জানান খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। এদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নিতে দলের পক্ষ থেকে সহায়তা চেয়ে গতকাল রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে ফোন করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
গতকাল রাত পৌনে ৮টার দিকে ডা. জাহিদ বলেন, ‘ম্যাডাম কিছুটা শ্বাসকষ্ট অনুভব করছিলেন সকালের দিকে। পরে চিকিৎসকরা বিকেলে তাকে সিসিইউতে স্থানান্তর করেছেন। তার অবস্থা এই মুহূর্তে স্থিতিশীল।’
জাহিদ হোসেন জানান, খালেদা জিয়াকে যেদিন হাসপাতালে ভর্তি করা হয় সেদিনও তার শ্বাসকষ্ট ছিল। তবে পরে তা কমে যায়। এরপর রবিবারও তার শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। তবে গতকাল তা অনেকটাই বেড়ে যাওয়ায় সিসিইউতে নেওয়া হয়।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার পর গত ১১ এপ্রিল থেকে গুলশানের ভাড়া বাসা ফিরোজায় থেকে ব্যক্তিগত চিকিৎসকের অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন। এর মাঝে ১৫ এপ্রিল সিটি স্ক্যানসহ কয়েকটি পরীক্ষা করাতে তাকে ওই হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে সেদিন রাতেই বাসায় ফিরে যান তিনি। ২৫ এপ্রিল দ্বিতীয় পরীক্ষায়ও তার করোনাভাইরাস ‘পজিটিভ’ আসে। এরপর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ২৭ এপ্রিল রাতে তাকে এভারকেয়ারে নেওয়া হয়। চেস্টের সিটি স্ক্যান ও কয়েকটি পরীক্ষা করার পর সেই রাতেই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে নেওয়া হয়। তবে করোনার কোনো উপসর্গ না থাকায় নন-কভিড ইউনিটের একটি কেবিনে রাখা হয় তাকে।
সিঙ্গাপুর নিতে সরকারের সহযোগিতা চায় বিএনপি : খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নিতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে বিএনপি। বিএনপির পক্ষে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে ফোন করেন। মির্জা ফখরুলের ফোন করার বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই সাংবাদিকদের জানান।
তবে খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিতে পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে নতুন করে কোনো আবেদন করা হয়নি বলে জানিয়েছেন তার বোন সেলিমা ইসলাম। গতকাল রাতে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পরিবারের পক্ষ থেকে আগেই আবেদন করা হয়েছে। নতুন করে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।’
করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর বুকের সিটি স্ক্যান করাতে খালেদা জিয়া প্রথম এভারকেয়ার হাসপাতালে যাওয়ার পরদিনই তার পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন করা হয়। সেই আবেদনটি করেন সেলিমা ইসলাম।
দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ড নিয়ে তিন বছর আগে কারাগারে যেতে হয়েছিল ৭৬ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে। দেশে মহামারী শুরুর পর পরিবারের আবেদনে সরকার গত বছর ২৫ মার্চ ‘মানবিক বিবেচনায়’ শর্তসাপেক্ষে তাকে সাময়িক মুক্তি দেয়। পরে দুই দফা তার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়। তখন থেকে গুলশানের বাসাতেই থাকছেন খালেদা জিয়া। তার সঙ্গে বাইরের লোকজনের যোগাযোগ সীমিত।